স্বাধীনতার ৫০ বছরে বাংলাদেশ অনেক ক্ষেত্রেই বিস্ময়কর উন্নতি করেছে। তবে সুশাসন, ন্যায়বিচারের মতো বেশ কিছু বিষয়ে আমরা এখনো অনেক পিছিয়ে রয়েছি। ৫০ বছরেও এসব ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত হয়নি। গতকাল শনিবার এক সেমিনারে এমন অভিমত জানান দেশের কয়েকজন বিশিষ্ট নাগরিক। রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) ‘স্বাধীনতার ৫০ বছর : পাথওয়ে অ্যান্ড ট্রাজেকটরিজ’ শীর্ষক সেমিনারটির আয়োজন করে।
সেমিনারে উপস্থিত থেকে এবং ভার্চুয়ালি বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট নাগরিক বক্তব্য দেন। বিশিষ্ট আইনজীবী আমীর-উল ইসলাম, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক, সাবেক মন্ত্রী মেজর হাফিজ উদ্দিন আহম্মদ (অব.), বাপেক্সের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মনজুর আহমেদ চৌধুরী, সাবেক আর্মি চিফ অব স্টাফ লে. জেনারেল এম হারুন অর রশিদ (অব.), সাবেক নির্বাচন কমিশনার ড. এম সাখাওয়াত হোসেন, সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার, আমেরিকার ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ, জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি, তুরস্কের রাষ্ট্রদূত মুস্তফা উসমান তুরান, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন, ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি সুদীপ্ত মুখার্জী, আয়োজক সংস্থার নির্বাহী পরিচালক জিল্লুর রহমান, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতির (বেলা) নির্বাহী পরিচালক সৈয়েদা রেজওয়ানা হাসান প্রমুখ বক্তব্য দেন।
বাংলাদেশের সংবিধান রচয়িতা কমিটির অন্যতম সদস্য ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে পরাধীনতা থেকে মুক্তির জন্য, পাকিস্তানি জান্তার হাত থেকে দেশকে স্বাধীন করার লক্ষ্যে যুদ্ধ করি এবং পাকিস্তানি বাহিনীকে পরাজিত করে বিজয়ী হই। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক, স্বাধীনতার ৫০ বছরেও সবাই সামাজিক ন্যায়বিচার, মানবাধিকারসহ বেশ কিছু সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছে। স্বাধীনতার সুফল সবার দ্বারে পৌঁছেনি।’ তিনি দেশের নতুন প্রজন্মকে স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সংবিধান প্রদত্ত সম-অধিকার, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার রক্ষায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশের অভূতপূর্ব উন্নয়ন ঘটেছে। আমরা চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি পেয়েছি। আগামী ২০৪১ সালে দেশ উন্নত দেশে রূপান্তরিত হবে। তবে দেশে এখনো পি কে হালদারের মতো দুর্নীতিবাজরা রয়েছে, তারা লুটপাট করছে। বর্তমান সরকার তাদের বিরুদ্ধে জোরালো ব্যবস্থা নিচ্ছে।’
সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রহুল হক বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে স্বাস্থ্যব্যবস্থার প্রভূত উন্নয়ন ঘটিয়েছে। দেশে মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল কলেজ বাড়ানোসহ গ্রামে কয়েক হাজার স্বাস্থ্যকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
মেজর হাফিজ উদ্দিন আহম্মদ (অব.) বলেন, দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো অকার্যকর করে রাখা হয়েছে। বিশেষ করে নির্বাচনব্যবস্থা একেবারে ভেঙে পড়েছে। তিনি বলেন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে হবে।
বদিউল আলম মজুমদার বলেন, বিচার বিভাগ, মানবাধিকার এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরো কার্যকর করতে হবে। নির্বাচনব্যবস্থা এভাবে চললে ভোটাররা এদের লাল কার্ড দেখাবে।
ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, স্বাধীনতার পরে দেশের নিরাপত্তা বেশ ভঙ্গুর ছিল। বঙ্গবন্ধুকে বহু অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা অব্যবস্থার মোকাবেলা করতে হয়। এর মধ্যে পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক পার্টি, সিরাজ সিকদার বাহিনীসহ আরো অনেক গ্রুপের হাতে অস্ত্র চলে যায়। বেশ কিছু নতুন সেনা সদস্য এ সময় সেনাবাহিনীর প্রটোকল ভেঙে আলাদা মতাদর্শ ধারণ করেন এবং তাঁরাই বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করেন।
ড. আলী রীয়াজ বলেন, এত বছর পরও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো নিজের মতো কাজ করছে না। দেশে আর্থিক লুটপাট-দুর্নীতি বেড়ে গেছে। দুদকের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে হবে।
লে. জেনারেল এম হারুন অর রশিদ (অব.) বলেন, ‘আমাদের স্বাস্থ্য খাতের অবস্থা এখনো যথেষ্ট খারাপ। দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ২০-২৫ শতাংশ মানুষ অপুষ্টিতে ভুগছে।’
News Courtesy: