ভারত থেকে গরু আসা বন্ধ হলে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যাও বন্ধ হবে। কারণ, ভারত থেকে গরু আনতে গিয়েই সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি হত্যার শিকার হন। তাই ভারত থেকে গরু আনা পুরোপুরি বন্ধে পরামর্শ দিয়েছেন বিশিষ্টজনেরা। গতকাল রোববার নিউ ইস্কাটন রোডের বিআইআইএসএস মিলনায়তনে আয়োজিত ‘আন্তঃসীমান্ত নিরাপত্তা, সমস্যা, সহযোগিতা ও বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ পরামর্শ দেন তারা।
আলোচনা সভায় সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রি. জে. (অব) মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বাংলাদেশে গরুর সরবরাহ বন্ধ করে ভারত সরকার ভালো কাজ করেছে। আমরা চাই, ভারত থেকে গরু আসা শতভাগ বন্ধ হোক। তিনি বলেন, এক সময় বাংলাদেশে বেশি মুরগি ছিল না। এখন প্রচুর মুরগির খামার গড়ে উঠেছে। মাত্র ৬ মাস অপেক্ষা করুন গরু রপ্তানি বন্ধের কারণে ভারতে আন্দোলন শুরু হবে। ভারতে গরুর কারণে তাদের চামড়া শিল্পে ধস নামবে। খামাখা গরু আনতে গিয়ে আপনারা কেন জীবন দেবেন। ভারতের সঙ্গে আমাদের সীমান্ত সমস্যা অত্যন্ত জটিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, মিয়ানমারের সঙ্গে আমাদের কোনো সীমান্ত সমস্যা নেই। আছে রোহিঙ্গা সমস্যা। রোহিঙ্গা সমস্যা না থাকলে মিয়ানমারের সঙ্গে আমাদের আর কোনো সমস্যা নেই।
সাখাওয়াত আরো বলেন, অনেকেই মনে করেন ভারত ভাগ হয়েছে। আসলে ভারত নয়, ভাগ হয়েছে পাঞ্জাব ও বেঙ্গল। বেঙ্গল ভাগ হওয়ায় মানবিক বিপর্যয় হয়েছে। কারণ, অনেক গ্রাম ও বাড়ির মাঝখান দিয়ে সীমান্ত রয়েছে। তাই যতই চেষ্টা করা হোক এ ধরনের সমস্যার সমাধান এত সহজ নয়।
অনুষ্ঠানে বিজিবি মহাপরিচালক লে. জে. মঈনুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী না হওয়ায় তারা সীমান্ত চোরাচালানের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। আর বাংলাদেশের এসব মানুষকে ব্যবহার করছে ভারতের মানুষ। তিনি বলেন, গরু চোরাচালানসহ সব ধরনের সীমান্ত চোরাচালান বন্ধে প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা। অনেক সময় রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় সীমান্তে চোরাচালান হয়। এ জন্য বিজিবিকে সীমান্তের সব পিলারে যেতে হয়।
সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী দিলীপ বড়–য়া বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক কেমন হবে, সেটা রাজনৈতিক ব্যাপার। এ ক্ষেত্রে প্রতিবেশী দেশ কেমন সম্পর্ক চায় সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
News Courtesy: https://www.manobkantha.com/