Centre for Governance Studies, Dhaka

CGS in the media

ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করেছে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন

Press clipping reproduced from the original publication, as archived on the CGS website.

‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন দেশে একটি ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করেছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আইনটি বিরোধী মতামতকে দমন করতে সরকার ব্যবহার করছে। এ আইনের অপপ্রয়োগে রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিকরা পর্যন্ত অস্বস্তির মধ্যে রয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নাগরিকরা মত প্রকাশে ভয় পাচ্ছেন। বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করে নাগরিকদের স্বস্তি দিতে এবং গণতন্ত্রের ধারাকে সমুন্নত রাখতে অবিলম্বে এ আইন বাতিল করা জরুরি।’ সোমবার সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮ : রাজনীতিবিদদের চোখে’ শীর্ষক ওয়েবিনারে বক্তারা এমন অভিমত প্রকাশ করেন।

সিজিএসের চেয়ারম্যান ড. মনজুর আহমেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও নির্বাহী পরিচালক জিল্লুর রহমানের সঞ্চালনায় ওয়েবিনারে অংশ নেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কাজী ফিরোজ রশীদ, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ ও গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি প্রমুখ।

একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরে জিল্লুর রহমান বলেন, সিজিএস ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২২ সালের ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের আওতায় ৮৩৫টি মামলার তথ্য পেয়েছে। তিনি বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন দেশে একটি ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নাগরিকরা মত প্রকাশে ভয় পাচ্ছে।

আহমদ হোসেন বলেন, দেশে গণতন্ত্র আছে। চিন্তার স্বাধীনতা ও বাকস্বাধীনতা আছে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আছে। বিশ্বের সব দেশই নিরাপত্তার ওপর জোর দিয়ে থাকে। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। জনগণের নিরাপত্তা অর্জনের জন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রয়োজন। তবে এ আইনে কোনো অসামঞ্জস্য থাকলে তা খতিয়ে দেখা হবে। লেখক মুশতাক আহমদের মৃত্যু সম্পর্কে তিনি বলেন, কারও মৃত্যুই কাম্য নয়। মুশতাককে হত্যা করা হয়নি। কারাগারে অসুস্থ হয়ে তিনি মারা গেছেন।

কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বেশিরভাগ ধারাই জামিন অযোগ্য। সরকারের অন্যায়-অনিয়ম যাতে জনগণের সামনে না আসে সেজন্য এ আইন করা হয়েছে। বিরোধী মতামতকে দমন করার জন্যই এ আইন। তিনি বলেন, যে আইন মানুষের কল্যাণে কাজ করে না সে আইন রাখার দরকার নেই। এ আইন করায় মানুষ গণমাধ্যমে মন খুলে কথা বলতে পারছে না, লিখতে পারছে না। এ আইনকে অতি দ্রুত সংশোধন করতে হবে। দেশে প্রচলিত আইন সংশোধন করেও মানহানি বা গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অপরাধের বিচার হতে পারে।

আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেন, সব মানুষের অধিকার রক্ষা করার দায়িত্ব সরকারের। কিন্তু সরকার একটা গ্রুপকে বঞ্চিত করছে। তথ্যপ্রযুক্তি প্রতি বছর হালনাগাদ হচ্ছে, ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ছে। এজন্য নতুন আইন করার দরকার আছে। কিন্তু আইনের বিধি-বিধান কী উদ্দেশ্যে করা-সেটাই দেখার বিষয়। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপপ্রয়োগ করছে সরকার।

সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মাধ্যমে সরকার কেবল একজনের ওপর অত্যাচার করছে না। বরং পুরো সমাজ ও রাষ্ট্রের ওপর অত্যাচার করছে। এর পুরোটাই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি আরও বলেন, সংবিধানের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ আইনসমূহ পর্যালোচনা করার জন্য সংসদ সদস্যদের আলাদা উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, শুধু ভয়ভীতি দেখানোর জন্য এ আইন করা হয়েছে। সাংবাদিক এবং বিরোধী দলকে ঠেকানোর জন্য আইনটি করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, জনগণকে রক্ষার জন্যই নতুন আইন করার কথা। অথচ, সরকারকে রক্ষা করার জন্য আইন করা হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার প্রতিটি ক্ষেত্রে এতটাই ব্যর্থ হয়েছে যে- তাদের জনপ্রিয়তা এখন শূন্যের কোঠায় এসে দাঁড়িয়েছে।

জোনায়েদ সাকি বলেন, বর্তমান সরকার একটি কর্তৃত্ববাদী সরকার। এ সরকার ফ্যাসিবাদী চরিত্রের এক চূড়ান্ত রূপায়ণ ঘটিয়েছে। ফ্যাসিবাদের মূল বক্তব্যই হলো-ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখা। এ দেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সরকারের গদি রক্ষার আইন হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, যে দেশে আইন করে দেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা রহিত করা হয়-সে দেশের মানুষের বাকস্বাধীনতার আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ফলে মানুষ ন্যায়বিচার পাচ্ছে না। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে সমুন্নত করার জন্য এ আইন বাতিল করা আবশ্যক।

ড. মনজুর আহমেদ চৌধুরী বলেন, ভয় সংক্রামক, সাহস সংক্রামক নয়। কিশোর ও মুশতাকের ঘটনা আমাদের মধ্যে ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করেছে। তিনি বলেন, সংবিধানের ৩৯তম ধারায় চিন্তার স্বাধীনতা, বাকস্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে। এ ধারাকে নস্যাৎ করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করা হয়েছে। বাংলাদেশের মতো আধুনিক রাষ্ট্রে এ আইন থাকতে পারে না।

News Courtesy:

https://www.jugantor.com/todays-paper/last-page/525463/%E0%A6%AD%E0%A7%9F%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A7%83%E0%A6%A4%E0%A6%BF-%E0%A6%A4%E0%A7%88%E0%A6%B0%E0%A6%BF-%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%9B%E0%A7%87-%E0%A6%A1%E0%A6%BF%E0%A6%9C%E0%A6%BF%E0%A6%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B2-%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%AA%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE-%E0%A6%86%E0%A6%87%E0%A6%A8?fbclid=IwAR1dxbiWS7xS87E061T9QvXJWyWcQhEzg_FfuAj-7SAlYNmzJ7q9XUsGgmU