বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, ‘বৈদেশিক বাণিজ্য বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থারও উন্নয়ন ঘটানোর কোনো বিকল্প নেই। বাংলাদেশ এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ, ভুটান, ইন্ডিয়া নেপাল (বিবিআইএন) এবং বাংলাদেশ, চীন, ইন্ডিয়া, মিয়ানমার (বিসিআইএম) কানেকটিভিটি বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে।’
বাণিজ্যমন্ত্রী গতকাল ঢাকায় সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ইন রিজিওনাল ট্রেড অ্যান্ড কানেকটিভিটি : এ পলিটিকো-ইকোনমিক অ্যাসেসমেন্ট’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেয়ার সময়ে এ কথা বলেন। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের (সিজিএস) প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ড. এম আতাউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অর্থনীতিবিদ এম শহিদুল ইসলাম। সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাবেক মন্ত্রী চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ। আরো বক্তব্য রাখেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ-রব) প্রেসিডেন্ট আ স ম আব্দুর রব, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক প্রেসিডেন্ট মীর নাসির হোসেন, সাবেক এনবিআর চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ আব্দুল মজিদ, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক প্রেসিডেন্ট আসিফ ইব্রাহীম, অ্যাম্বাসেডর আশফাকুর রহমান, বিআইআইএসএসের প্রেসিডেন্ট অ্যাম্বাসেডর মুন্সী ফয়েজ আহমেদ।
সেমিনারে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ববাণিজ্যে সক্ষমতা অর্জনের জন্য কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আমরা দেশী শিল্পের সুরক্ষা দিয়ে আমদানি ও রফতানির নীতি গ্রহণ করেছি। বর্তমানে ২০২১ সালের মধ্যে ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রফতানির লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ডব্লিউটিওর দেয়া বাণিজ্য সুবিধা নেয়ার জন্য পেপার লেস বাণিজ্যে সক্ষমতা অর্জনের প্রস্তুতি চলছে। শ্রীলংকার সঙ্গেও ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট (এফটিএ) সই করা হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, ডব্লিউটিওর সিদ্ধান্ত মোতাবেক ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইইউ), অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, চীন ও ভারতসহ বিভিন্ন উন্নত দেশের দেয়া বাণিজ্য সুবিধা কাজে লাগিয়ে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্য। বৈদেশিক বাণিজ্যের ভলিউম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দরের পাশাপাশি পানগাঁও ও পায়রা সমুদ্র বন্দর চালু করেছে বাংলাদেশ। রাস্তাঘাটও সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। বৈদেশিক বাণিজ্য বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থারও উন্নয়ন ঘটানোর কোনো বিকল্প নেই। বাংলাদেশ এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ, ভুটান, ইন্ডিয়া, নেপাল (বিবিআইএন) এবং বাংলাদেশ, চীন, ইন্ডিয়া, মিয়ানমার (বিসিআইএম) কানেকটিভিটি বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘মোট বিশ্ববাণিজ্যের মাত্র শতকরা ৫ ভাগেরও কম বাণিজ্য হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ায়। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত ও চীনের বাণিজ্যঘাটতি রয়েছে। আমাদের প্রয়োজনেই মেশিনারিজ ও পণ্যের কাঁচামাল সেখান থেকে বেশি করে আমদানি করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, চিলি, জাপান, ইইউসহ উন্নত বিশ্বের অনেক দেশেই বাংলাদেশের পণ্য রফতানি বেড়েছে। যেসব দেশে বাংলাদেশের রফতানি বেশি, সেগুলোও উল্লেখ করা উচিত। সার্ভিস সেক্টর বাদ দিয়েই গত বছর প্রায় ৩৪ দশমিক ৬৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য রফতানি করেছে বাংলাদেশ। এ বছর রফতানির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। সার্ভিস সেক্টরসহ মোট রফতানি ধরা হয়েছে ৪১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ অন্য দেশকে কোনো ধরনের বাণিজ্য সুবিধা দিচ্ছে না। দেশের শিল্প সুরক্ষা দিয়ে বাণিজ্যের নীতির ফলে বাংলাদেশ এরই মধ্যে সিমেন্ট, রড, পেপার, টিনসহ অনেক পণ্যের ক্ষেত্রেই স্বনির্ভরতা অর্জন করেছে। কাঁচাপাট রফতানির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। ভারত বাংলাদেশের পাটজাত পণ্যের ওপর কাউন্টার ভেলিং ডিউটি আরোপ করেছে, কিন্তু কাঁচাপাট আমদানির ওপর কোনো ডিউটি আরোপ করেনি। বাংলাদেশ সবসময় নিজেদের শিল্পের সুরক্ষা দিচ্ছে। ২৯ আগস্ট থাইল্যান্ডের ব্যাংককে একটি বাণিজ্য সহজীকরণ চুক্তিতেও সই করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
News Courtesy: http://bonikbarta.net/