বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দুর্নীতির কাঠামো ভেঙে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।
বৃহস্পতিবার ঢাকার সিরডাপে ‘সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ’ আয়োজিত ‘গণতান্ত্রিক পুনর্গঠন’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এ মন্তব্য করেন তিনি।
উপদেষ্টা বলেন, ‘২০১০ সালের বিশেষ দ্রুত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি আইনকে কেন্দ্র করে দেশে প্রতিযোগিতা বন্ধ করে দুর্নীতি বৈধ করা হয়েছিল। আমরা প্রথম সিদ্ধান্ত নিয়েছি-এই আইন আর ব্যবহার করা হবে না।’
‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানি কোম্পানিগুলোয় সচিবদের চেয়ারম্যান করা ছিল দুর্নীতির কাঠামোর অংশ। আমরা এই ব্যবস্থা ভেঙে দিয়েছি। প্রতিযোগিতা চালু করায় এখন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ক্রয়ে উল্লেখযোগ্য সাশ্রয় হচ্ছে’ বলেও জানান তিনি।
জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা ফিরেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতে ৩ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের বকেয়া ছিল। এর মধ্যে প্রথম ধাপে ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করা হয়েছে।’
উপদেষ্টা জানান, শুধু তেল আমদানিতে প্রতিযোগিতা চালু করেই সরকার ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা সাশ্রয় করেছে। এলএনজি কেনায় নতুন কোম্পানিকে সুযোগ দেওয়ায় দাম ১৬-১৭ ডলার থেকে নেমে ১১-১২ ডলারে এসেছে।
রেলওয়ে মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে তিনি জানান, ‘রেস্ট হাউস, কনফারেন্স সেন্টার ও হেলিপ্যাড নির্মাণের নামে হাজার কোটি টাকা অপচয় করা হয়। মাত্র তিন সপ্তাহে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার অপচয় রোধ করা সম্ভব হয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ে এখন পর্যন্ত ৪৫ হাজার কোটি টাকার সাশ্রয় হয়েছে এবং এই অর্থ দিয়েই সরকার বকেয়া পরিশোধ করছে।’
তবে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার স্বল্প সময়ের জন্য এসেছে। তাই বড় উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া সম্ভব নয়। আগামী সরকার একটি স্থিতিশীল ভিত্তি পেয়ে কাজ শুরু করতে পারে বলেও জানান তিনি।
News Courteys:
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা হয়েছে: উপদেষ্টা ফাওজুল – The Daily Times Of Bangladesh