সার্কভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য বৈষম্য হ্রাসে আঞ্চলিক যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর তাগিদ দিয়েছেন বিশিষ্টজনরা। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ, ভারত, চীন ও মিয়ানমারের মধ্যকার প্রস্তাবিত বিসিআইএম ইকোনমিক করিডোর বাস্তবে রূপ দিতে বাংলাদেশ সরকারকে কার্যকর ভূমিকা রাখার পরামর্শ দেন তারা। তারা আরও বলেন, যোগাযোগ বাড়াতে হলে নিজেদের সক্ষমতাও বাড়াতে হবে। এ জন্য গভীর সমুদ্রবন্দর স্থাপনের মতো বড় প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা জরুরি। তারা বলেন, যে দেশে একটি আন্তর্জাতিক মানের গভীর সমুদ্রবন্দর থাকে সে দেশেরই অনুকূলে থাকে বাণিজ্য। দেশের অর্থনীতি ও আঞ্চলিক যোগাযোগ উন্নয়নে প্রয়োজনে একাধিক সমুদ্রবন্দর নির্মাণের মতো প্রকল্প হাতে নেয়ারও পরামর্শ দেন তারা। শনিবার সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ইন রিজিওনাল ট্রেড অ্যান্ড কানেকটিভিটি : এ পলিটিকো-ইকোনমিক অ্যাসেসমেন্ট’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। সেমিনারে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ববাণিজ্যে সক্ষমতা অর্জনের জন্য বাংলাদেশ কাজ করে যাচ্ছে। ডব্লিউটিওর দেয়া বাণিজ্য সুবিধা গ্রহণের জন্য পেপার লেস বাণিজ্যে সক্ষমতা অর্জনের প্রস্তুতি চলছে। রাজধানীর ইস্কাটনে বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্রাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। সিজিএসের প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ড. এম আতাউর রহমানের সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অর্থনীতিবিদ এম শহিদুল ইসলাম। বক্তব্য দেন সাবেক মন্ত্রী চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের প্রেসিডেন্ট আ স ম আবদুর রব, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক প্রেসিডেন্ট মীর নাসির হোসেন, এনবিআরএনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ আবদুল মজিদ, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক প্রেসিডেন্ট আসিফ ইব্রাহীম, অ্যাম্বাসেডর আশফাকুর রহমান, বিআইআইএসএসের প্রেসিডেন্ট অ্যাম্বাসেডর মুন্সী ফয়েজ আহমেদ প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, দেশে বর্তমানে চট্টগ্রাম ও মংলা দু’টি সমুদ্রবন্দর আছে। কিন্তু এ দুটির সক্ষমতা কারও অজানা নয়। এ পরিস্থিতিতে বিদ্যমান বন্দরব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হবে। পাশাপাশি একাধিক জায়গায় গভীর সমুদ্রবন্দর স্থাপনের মতো দূরদর্শী পদক্ষেপও নিতে হবে। পণ্য রফতানির মতো বিশ্বের বিভিন্ন মালবাহী জাহাজের ল্যান্ডিং চার্জ থেকেও অনুরূপ আয় আসতে পারে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে বাণিজ্য বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই বলে তারা মন্তব্য করেন। এতে খরচ কম ও আয় বেশি। এ বিষয়ে সরকার ও উদ্যোক্তাদের নজর দেয়া উচিত। পাশাপাশি দেশগুলোর সঙ্গে সড়ক, নৌ ও রেল এবং আকাশ সব পথেই যোগাযোগব্যবস্থা আরও সুদৃঢ় করা উচিত। তোফায়েল আহমেদ আরও বলেন, শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ফ্রি ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট (এফটিএ) সই হচ্ছে। আগামী ২৯ আগস্ট ব্যাংককে বাণিজ্য সহজীকরণ চুক্তিতে সই করবে বাংলাদেশ। ডব্লিউটিওর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, চীন, ভারতসহ বিভিন্ন উন্নত দেশের দেয়া বাণিজ্য সুবিধা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে এগিয়ে যাচ্ছে। এতে বৈদেশিক বাণিজ্যের পরিমাণও বাড়ছে। তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দরের পাশাপাশি পানগাঁও এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর চালু রয়েছে। রাস্তাঘাট সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। অভ্যন্তরীণ যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি বৈদেশিক বাণিজ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থারও উন্নয়নের সব ধরনের চেষ্টা চলছে। ইতিমধ্যে সড়কপথে বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, নেপাল (বিবিআইএন) কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ, চীন, ভারত ও মিয়ানমার (বিসিআইএম) কানেকটিভিটি বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
News Courtesy: http://www.jugantor.com/