Centre for Governance Studies, Dhaka

CGS in the media

বাণিজ্যিক সুযোগ ব্যবহারে রাজনৈতিক ঐকমত্য দরকার

Press clipping reproduced from the original publication, as archived on the CGS website.

ভূরাজনৈতিক অবস্থানের সুফল কাজে লাগিয়ে যে উন্নয়নের সম্ভাবনা বাংলাদেশের জন্য অপেক্ষা করছে, তা কাজে লাগাতে হলে সবার আগে দেশের স্বার্থে রাজনৈতিক ঐকমত্য গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বিশ্লেষকরা। একই সঙ্গে তাঁরা বলেছেন, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীন ও দক্ষিণ এশিয়ার বড় দেশ ভারতের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে সরকারকে। ভারসাম্যহীন সম্পর্ক বাংলাদেশকে চিরদিনের জন্য ক্ষতির মুখে ফেলবে বলে আশঙ্কা তাঁদের।

গতকাল শনিবার রাজধানীর ইস্কাটনে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে ‘আঞ্চলিক বাণিজ্য ও সংযোগে বাংলাদেশ : একটি রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক সমীক্ষা’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা আরো বলেন, দ্বিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষর, অভ্যন্তরীণ শিল্পের সুরক্ষা নীতি গ্রহণ, আন্তর্জাতিক চুক্তিতে দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া, অবকাঠামোর উন্নয়ন ও পারস্পারিক স্বার্থে দরকষাকষির দক্ষতা বাড়াতে হবে।

সেমিনারে প্রধান অতিথি বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, পৃথিবীতে বাংলাদেশই একমাত্র দেশ যেখানে রাষ্ট্রীয় স্বার্থে কোনো রাজনৈতিক ঐকমত্য নেই। বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল, তারা ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলেছিল। আবার তারা যখন বিরোধী দলে গেছে, তখন ভারত বিরোধিতা করছে। এটা হওয়ার কথা নয়। কারণ, সম্পর্ক হবে দুটি দেশের সরকারের সঙ্গে সরকারের, দলের সঙ্গে দলের নয়।

বাণিজ্যমন্ত্রী আরো বলেন, একটি বিশেষ দলের সঙ্গে আরেকটি বিশেষ দলের ভালো সম্পর্ক থাকতে পারে। কিন্তু যার যার দেশের স্বার্থ মাথায় রেখে রাষ্ট্রের সঙ্গে রাষ্ট্রের সম্পর্ক হওয়া উচিত।

বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ভারসাম্যের কথা উঠলেই ভারতের প্রসঙ্গ উঠে আসে। কিন্তু চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি আরো বেশি হলেও তা সামনে আনা হয় না। যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্য যে বাংলাদেশের অনুকূলে রয়েছে, সে কথাও কখনো বলা হয় না। ভারত বাংলাদেশকে অস্ত্র ও অ্যালকোহল বাদে সব পণ্যেই শুল্কমুক্ত সুবিধা দিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা সে দেশে পণ্য রপ্তানিতে আগ্রহী নয়। তারা যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ বা কানাডাতে রপ্তানি করতে আগ্রহী। তা ছাড়া আমাদের রপ্তানি পণ্যের সংখ্যাও কম ও বৈচিত্র্যহীন।

ভারত ও চীনের সঙ্গে বিপুল বাণিজ্য ঘাটতির জন্য ব্যবসায়ীরা দায়ী উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা কেন ওই দুটি দেশ থেকে এত বেশি পণ্য আমদানি করে তা তারাই ভালো জানে। আমরা জানি, ভারত ও পাকিস্তানের দ্বন্দ্বের কারণে সার্ক কার্যকর হয়নি। সার্ক কার্যকর হলে সাফটাও (দক্ষিণ এশীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি) কার্যকর হতো। তখন বাণিজ্যিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা পেত। ’

সেমিনারে বিশেষ অতিথি ও সাবেক মন্ত্রী চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ বলেন, রাষ্ট্রীয় স্বার্থে সবাইকে ঐকমত্যে পৌঁছাতে হবে। তবেই কেবল বাংলাদেশ তার ভূরাজনৈতিক অবস্থানের সুফল ঘরে তুলতে পারবে। তা না হলে ভারসাম্যহীন সম্পর্ক দেশকে চিরদিনের মতো ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী আ স ম আবদুর রব বলেন, ‘ভূরাজনৈতিক সুবিধা কাজে লাগাতে হলে বাংলাদেশের একটি গভীর সমুদ্রবন্দর দরকার। সরকার এদিকে নিশ্চয়ই নজর দেবে। এর সঙ্গে দরকার রাজনৈতিক ঐকমত্য। রাজনৈতিক ঐকমত্য থাকলে অন্য রাষ্ট্রের সঙ্গে সরকারের দরকষাকষি করার শক্তি বাড়ে। রাজনৈতিক ঐকমত্য ছাড়া অন্য রাষ্ট্রের কাছ থেকে কোনো সুবিধাই আমরা পাব না। ’

সাবেক সচিব ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ইনাম আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘আমরা কতটা পারি, কানেক্টিভিটি নিয়ে ভাবার সময় সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। ট্রান্সশিপমেন্ট বা ট্রানজিট নিয়েও ভাবতে হবে, স্বচ্ছ ধারণা থাকতে হবে। ভারতের বাজারে আমাদের পণ্যের প্রচারের ব্যবস্থা করতে হবে। এ জন্য আমাদের কী কী দরকার, সে বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা থাকতে হবে। ’

অর্থনীতির বিশ্লেষক মামুন রশীদ বলেন, ‘বৈশ্বিক ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নতির জন্য অবশ্যই কানেক্টিভিটি দরকার। কিন্তু তা হতে হবে আমাদের স্বার্থে। তবে এ জন্য কোনো উদ্যোগ অতীতেও দেখিনি, এখনো দেখছি না। তবে এটা সত্য, চীন ও ভারতের একই পাল্লার চাপ এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ভালোভাবেই সামলাচ্ছে। কিন্তু এই সামলানোর ক্ষমতাটাও বিবেচনা করতে হবে। তা না হলে দাগ (ক্র্যাচ) পড়ে বাংলাদেশের বৈশ্বিক সম্পর্ক ও বাণিজ্যের সম্ভাবনা ভারসাম্যহীন হয়ে পড়বে। ’

ফিন্যানশিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, কানেক্টিভিটি একটি রাজনৈতিক মনোভাবের বিষয়। তবে এটি সহজ করার মধ্য দিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ সহজতর করতে হবে।

সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের (সিজিএস) প্রেসিডেন্ট ড. এম আতাউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিআইআইএসএস চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সী ফয়েজ আহমেদ, রাষ্ট্রদূত আশফাকুর রহমান, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ঢাকা চেম্বারের সাবেক প্রেসিডেন্ট আসিফ ইব্রাহীম প্রমুখ বক্তব্য দেন।

News Courtesy: http://www.kalerkantho.com/print-edition/news/2017/08/20/533839