Centre for Governance Studies, Dhaka

CGS in the media

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাকস্বাধীনতা রোধ করছে

Press clipping reproduced from the original publication, as archived on the CGS website.

বাংলাদেশের সংবিধান নাগরিকদের বাকস্বাধীনতা, চিন্তার স্বাধীনতা এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা দিলেও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নাগরিকদের সেই স্বাধীনতা রোধ করছে। এই আইনের অপপ্রয়োগ সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে রাজনীতিবিদদের ভোগান্তিতে ফেলছে। গতকাল সোমবার সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্ট্যাডিজ আয়োজিত ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮ : রাজনীতিবিদদের চোখে’ শীর্ষক ওয়েবিনারে অংশ নিয়ে আলোচকরা এ মত দেন।

ওয়েবিনারে অংশ নিয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, অতীতের ব্রিটিশ আইন, পাকিস্তানের ও বাংলাদেশের আইন মিলে জগাখিচুড়ি হয়ে গেছে। পুরনো আইনগুলো বাতিল বা সংস্কার করতে হবে। তবে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন বলেন, সন্ত্রাসের হাত থেকে জাতিকে রক্ষা করার জন্যই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন। দেশে চিন্তার স্বাধীনতা, বিবেকের স্বাধীনতা ও বাকস্বাধীনতা রয়েছে বলে এই ধরনের আলোচনার আয়োজন করা হচ্ছে।

এই আইন পুরোটাই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত- এমন মন্তব্য করে বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহীম বীরপ্রতীক বলেন, বাকস্বাধীনতা কতটুকু রাষ্ট্রীয় স্বার্থে, কতটুকু রাজনৈতিক এবং কতটুকু ব্যক্তি স্বার্থে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়- সেটাই বিবেচ্য। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন এই ভারসাম্য রক্ষা করে না।

বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক সংসদ সদস্য আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন

বানানোই হয়েছে মানুষকে ভয় দেখানোর জন্য। এই আইন করা হয়েছে সরকারকে ক্ষমতায় রাখার জন্য।

এই আইন আমাদের গণতন্ত্রকে উল্টোদিকে নিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, এই আইন সাংবাদিক, ছাত্র, আমাদের রাজনীতিবিরোধীদের দমনের জন্য করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সরকারের অগণতান্ত্রিকভাবে নেওয়া গদি রক্ষার আইন। যে দেশে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কথা বলা যায় না, সেটা ফ্যাসিবাদের লক্ষণ।

অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ও সিজিএসের নির্বাহী পরিচালক জিল্লুর রহমান বলেন, ভয়ের পরিবেশ তৈরির দায় রাজনৈতিক দলগুলোকেই নিতে হবে। এ জন্য ক্ষমতাসীনদের দায়টা সব সময় বেশি। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী করতে হবে।

সিজিএস সভাপতি মঞ্জুর আহমেদ চৌধুরী বলেন, ডিজিটাল সিকিউরিটির জন্য আইন দরকার আছে। কিন্তু তার জন্য নতুন আইন করতে হবে।

News Courtesy:

https://www.dainikamadershomoy.com/post/364030