Centre for Governance Studies, Dhaka

CGS in the media

আগামী নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ

Press clipping reproduced from the original publication, as archived on the CGS website.

বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে আগামী নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাই কমিশনার রবার্ট চ্যাটার্টন ডিকসন। একই সঙ্গে নির্বাচন নিয়ে সরকারী দল আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মধ্যে সংলাপ জরুরী বলেও তিনি মনে করছেন। সেন্টার ফর গবর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) এবং ফ্রেডরিক-এবার্ট-স্টিফটুং (এফইএস) আয়োজিত ‘মিট দ্য এ্যাম্বাসেডর’ আয়োজনে তিনি এ কথা জানান।

সোমবার রাজধানীর গুলশানে হোটেল খাজানাতে আয়োজনটি অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে রবার্ট চ্যাটার্টন ডিকসন বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা চলমান রাখতে আগামী নির্বাচনে গণতান্ত্রিকভাবে সব দলের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করা বাংলাদেশের দায়িত্ব, কেননা এটি অভ্যন্তরীণ বিষয়। দেশের মানুষকেই তা করতে হবে। নির্বাচন নিয়ে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্যতার একটি বিষয় আছে। সেদিক থেকে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখে একটি গঠনমূলক নির্বাচন যেন অনুষ্ঠিত হয়, আমরা (বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অঙ্গন) সে লক্ষ্যেই কাজ করছি।

আমরা এটা পর্যবেক্ষণ করতে পারি, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং অন্যদের পর্যবেক্ষণের জন্য বলতে পারি। তবে বাংলাদেশের নিজস্ব সংবিধান আছে এবং সে অনুযায়ী সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করা বাংলাদেশেরই দায়িত্ব।

২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশের একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি ভোটে আসেনি। আগামী নির্বাচনে তাদের অংশগ্রহণ করানোর ব্যবস্থা করতে হবে। এর জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনার গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি। তিনি বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে সরকারের কাজের সমালোচনার জন্য একটি শক্তিশালী বিরোধী দল জরুরী।

নতুন নির্বাচন কমিশন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, নির্বাচনী পর্যবেক্ষক সংস্থা, সুশীল সমাজসহ নানা জনের সঙ্গে সংলাপ করেছে। বতর্মান নির্বাচন কমিশনের আমলে নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লাতে অবাধ ও নিরপেক্ষ ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচন দুইটি গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।

তিনি বলেন, প্রতিটি ভোট গুরুত্বপূর্ণ, তাই যুক্তরাজ্যের প্রত্যাশা সংবিধান মেনে সুষ্ঠুভাবেই বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশের সংবিধানেও সেটি উল্লেখ করা আছে। এছাড়া ব্রিটিশ হাইকমিশনের পক্ষ থেকে সম্প্রতি একটি দল নির্বাচন কমিশনে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সাক্ষাত করেছে এবং আশা করি একটি সুন্দর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

রোহিঙ্গা এবং কোভিড ইস্যু নিয়ে ব্রিটিশ হাই কমিশনার বলেন, যুক্তরাজ্য রোহিঙ্গা ইস্যুতে শুরু থেকেই বাংলাদেশের পাশে রয়েছে। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের ওপর চাপ অব্যাহত রেখেছে দেশটি। রোহিঙ্গা শরণার্থী সঙ্কট মোকাবেলায় অন্যতম প্রধান দাতা দেশ হিসেবে যুক্তরাজ্য ২০১৭ সাল থেকে আর্থিক সাহায্য দিয়ে আসছে। এছাড়া করোনার সময় স্বাস্থ্য খাতে বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা ছাড়াও ৪.১ মিলিয়ন ভ্যাকসিন দিয়ে সহায়তা করতে পেরে আমরা আনন্দিত।

রবার্ট চ্যাটার্টন ডিকসন বলেন, যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের রফতানির একটি বড় জায়গা। সেদিক থেকে এই রফতানি যেন আরও সহজ হয়, তা নিয়েও কাজ করা হচ্ছে। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হুমকিতে থাকা দেশ হিসেবেও বাংলাদেশকে সাহায্য করছে যুক্তরাজ্য। জলবায়ু পরিবর্তন সত্যি অস্বীকার করার সুযোগ নেই। এটি এরই মধ্যে আমাদের জীবন ও অর্থনীতির জন্য ধ্বংসাত্মক হয়ে উঠেছে। তাই আমাদের অবশ্যই এই পরিবর্তনশীল জলবায়ুর সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে হবে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিজিএস’র চেয়ারম্যান ডাঃ মনজুর এ চৌধুরী এবং এফইএস’র প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর সাধন কুমার দাস। স্বাগত বক্তব্যে তারা বলেন, বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্যের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি হয়েছে। দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ধীরে ধীরে বেড়েছে। দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক, ব্যবসা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা, প্রতিরক্ষা ইত্যাদি ক্ষেত্রে সহযোগিতাও অনেক দারুণ। এছাড়া বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক সম্পর্ক ঐতিহাসিক।

বাংলাদেশ যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে আসছে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্কও অত্যন্ত দারুণ। যুক্তরাজ্যে প্রায় ৬ লাখ বাংলাদেশী বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন। তারা যুক্তরাজ্য-বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন। এছাড়া যুক্তরাজ্যে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশী শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তন ঝুঁকি মোকাবেলা, নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা, মানবাধিকার, সুশাসন ইত্যাদি ক্ষেত্রে সহযোগিতা দিয়ে আসছে যুক্তরাজ্য।

‘মিট দ্য এ্যাম্বাসেডর’ আয়োজনটি পরিচালনা করেন সিজিএস’র এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর জিল্লুর রহমান। এ সময় অসীম কুমার উকিল এমপি, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য শামা ওবায়েদ, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব) সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম বীরপ্রতীক, শিক্ষাবিদ, উন্নয়ন কর্মীসহ বিশিষ্টজনরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি।

News Courtesy:

https://www.dailyjanakantha.com/national/news/662290?fbclid=IwAR0Jr12kdam6KC2EraGcfaBOkkZE9E_N-I1WmT1w8yJdRGm92qShUHLSLFo