বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে আগামী নির্বাচনে গণতান্ত্রিকভাবে সবার অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট চ্যাটার্টন ডিকসন।
সোমবার (২২ আগস্ট) সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) এবং ফ্রেডরিক-এবার্ট-স্টিফটুং (এফইএস) আয়োজিত ‘মিট দ্য অ্যাম্বাসেডর’ অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। রাজধানীর গুলশানে হোটেল খাজানায় এ অনুষ্ঠান হয়।
‘মিট দ্য অ্যাম্বাসেডর’ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সিজিএসর এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর জিল্লুর রহমান। অনুষ্ঠানে রাজনীতিক, সংসদ সদস্য, শিক্ষাবিদ, উন্নয়নকর্মীসহ বিশিষ্টজনরা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন বিষয়ে রবার্ট চ্যাটার্টন ডিকসন বলেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করা বাংলাদেশের দায়িত্ব, কেননা এটি অভ্যন্তরীণ বিষয়। তবে, সবার কাছে গ্রহণযোগ্যতার একটি বিষয় আছে। সেদিক থেকে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখে একটি গঠনমূলক নির্বাচন যেন হয়, আমরা (বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অঙ্গন) সে লক্ষ্যেই কাজ করছি। আমরা এটা পর্যবেক্ষণ করতে পারি, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং অন্যান্যদের পর্যবেক্ষণের জন্য বলতে পারি। তবে বাংলাদেশের নিজস্ব সংবিধান আছে এবং সে অনুযায়ী সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করা বাংলাদেশেরই দায়িত্ব।’
তিনি বলেন, ‘প্রতিটি ভোট গুরুত্বপূর্ণ। তাই, যুক্তরাজ্যের প্রত্যাশা—সংবিধান মেনে সুষ্ঠুভাবেই বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন হবে। বাংলাদেশের সংবিধানেও সেটি উল্লেখ করা আছে। ব্রিটিশ হাইকমিশনের পক্ষ থেকে সম্প্রতি একটি দল নির্বাচন কমিশনে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে। আশা করি, একটি সুন্দর নির্বাচন হবে। সুন্দর একটি নির্বাচনের জন্য রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করবে বলেও আমি প্রত্যাশা করি।’
রোহিঙ্গা এবং করোনা বিষয়ে ব্রিটিশ হাইকমিশনার বলেন, ‘যুক্তরাজ্য রোহিঙ্গা ইস্যুতে শুরু থেকেই বাংলাদেশের পাশে আছে। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের ওপর চাপ অব্যাহত রেখেছে দেশটি। রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট মোকাবিলায় অন্যতম প্রধান দাতা দেশ হিসেবে যুক্তরাজ্য ২০১৭ সাল থেকে আর্থিক সাহায্য দিয়ে আসছে। এছাড়া, করোনার সময় স্বাস্থ্য খাতে বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা ছাড়াও ৪.১ মিলিয়ন ভ্যাকসিন দিয়ে সহায়তা করতে পেরে আমরা আনন্দিত।’
রবার্ট চ্যাটার্টন ডিকসন বলেন, ‘যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের রপ্তানির বড় বাজার। রপ্তানি যেন আরও সহজ হয়, তা নিয়েও কাজ করা হচ্ছে। এছাড়া, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হুমকিতে থাকা দেশ হিসেবেও বাংলাদেশকে সাহায্য করছে যুক্তরাজ্য। জলবায়ু পরিবর্তন সত্যি অস্বীকার করার সুযোগ নেই। এটি এরইমধ্যে আমাদের জীবন ও অর্থনীতির জন্য ধ্বংসাত্মক হয়ে উঠেছে। তাই, আমাদের অবশ্যই এ পরিবর্তনশীল জলবায়ুর সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে হবে।’
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিজিএসয়ের চেয়ারম্যান ডা. মনজুর এ চৌধুরী এবং এফইএসয়ের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর সাধন কুমার দাস।
News Courtesy:
