গত বছরের মার্চ থেকে নভেম্বর পর্যন্ত দেশে ১ হাজার ৫৮ জন মানুষ আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। এর আগের বছরের জুন থকে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এ নয় মাসে আত্মহত্যার সংখ্যা ছিল ৯৪০ জন। অর্থাৎ করোনার এ ৯ মাসে আত্মহত্যার হার ১৩ শতাংশ বেড়েছে।
একই সঙ্গে এ সময়টাতে উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে নারীদের আত্মহত্যার প্রবণতা। এছাড়া করোনার এ ৯ মাসে নারীর প্রতি সহিংসতা কমেছে ৭ শতাংশ ও শিশুর প্রতি সহিংসতা কমেছে ২৪ শতাংশ।
২০২০ সালের মার্চ থেকে নভেম্বর এবং ২০১৯ সালের জুন থেকে ২০২০ এর ফেব্রুয়ারি এই ১৮ মাসে বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকা ও ১০টি স্থানীয় পত্রিকা থেকে পাওয়া তথ্য থেকে এ প্রতিবেদন প্রস্তুত করে বাংলাদেশ পিস অবজারভেটরি।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজের (সিজিএস) এক ভার্চুয়াল সভায় এ তথ্য জানানো হয়।
সার্ভিং ওয়েস, ফরোয়ার্ড ফর বাংলাদেশ ইন দ্য টাইমস অব প্যানডেমিক : কোভিড-১৯ অ্যান্ড গভর্নেন্স ইন বাংলাদেশ শীর্ষক এ সভায় করোনার আগে ও পরে সহিংসতার পরিস্থিতি এক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. আমেনা মহসিন। এছাড়া সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যুক্তরাষ্ট্রের ইলিয়নয় স্টেট ইউনিভার্সিটির প্রফেসর ড. আলী রীয়াজ।
সভায় জানানো হয়, করোনার সময়ে ঘরোয়া সহিংসতা বেড়েছে ১০ দশমিক ৩ শতাংশ। করোনার আগে ৪৮২টি ঘরোয়া সহিংসতা সংগঠিত হয়েছিল, যেটা করোনাকালে ঘটেছে ৫৩২টি।
আরও জানানো হয়, পৃথিবীর অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশ করোনায় মৃত্যু কম। তবে এ সময় দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোভিড মোকাবিলায় সরকারের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, দুর্নীতি প্রতিরোধ, দক্ষতা ও আইনের শাসনের যথেষ্ট ঘাটতি লক্ষ্য করা গেছে।
সিজিএসের নির্বাহী পরিচালক জিল্লুর রহমানের সঞ্চালনায় সভায় সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।