Centre for Governance Studies, Dhaka

CGS in the media

৭৮% ব্যবসায়ীকে ঘুষ দিয়ে ব্যবসা করতে হয়

Press clipping reproduced from the original publication, as archived on the CGS website.

এসএমই (ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তা) খাতে ব্যবসা পরিচালনায় ৭৭.৯ শতাংশ ব্যবসায়ীকে ঘুষ দিতে হয়। আর ব্যবসায়ীদের ৬০.১ শতাংশ রাজনৈতিক প্রভাব এবং ৪৬.৩ শতাংশ চাঁদাবাজির শিকার। এসএমই খাতে দুর্নীতি নিয়ে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের (সিজিএস) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে আসে।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক আলী রীয়াজ, সিজিএসের চেয়ারম্যান মঞ্জুর এ চৌধুরী, সাবেক মন্ত্রিপরিষদসচিব ও টিআইবির মহাসচিব আলী ইমাম মজুমদার, সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আব্দুল মজিদ, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ডা. ফাহমিদা খাতুন এবং সিজিএসের নির্বাহী পরিচালক জিল্লুর রহমান। গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সালেহ জহুর।

রাষ্ট্রদূত পিটার হাস বলেন, বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা অর্জনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা দুর্নীতি। এই দুর্নীতি কমলে এখানে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে।

তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিত মানবাধিকারবিষয়ক প্রতিবেদনেও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমরা আমাদের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছি।’ তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পাশে যুক্তরাষ্ট্র আছে। অর্থপাচার ও অর্থনৈতিক অপরাধের মতো বিষয়ে দুই দেশের সরকার একসঙ্গে কাজ করছে।

পিটার হাস বলেন, দুর্নীতি চিহ্নিত করে তা দমন করতে পারলে অর্থনীতির অগ্রগতি হবে। বাংলাদেশে দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরা গেলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আকৃষ্ট হবেন। ব্যবসা-বাণিজ্য, বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে ভালো করতে হলে দুর্নীতির লাগাম টানতে হবে।

মূল প্রতিবেদনে সালেহ জহুর বলেন, এসএমই খাতের ব্যবসা পরিচালনা এবং অবকাঠামোগত সমস্যা আছে। এই খাতে ঋণের প্রবাহ ঠিক নেই। এই খাতের ব্যবসায়ীদের প্রযুক্তি জ্ঞানও সীমাবদ্ধ। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় ৭৭.৯ শতাংশ ব্যবসায়ীকে ঘুষ দিতে হয়। ৬০.১ শতাংশ ব্যবসায়ী রাজনৈতিক প্রভাব, ৪৬.৩ শতাংশ ব্যবসায়ী চাঁদাবাজির শিকার হন। পুরো ব্যবস্থায় গলদের কারণে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের ৪৩.৯ শতাংশ ব্যবসায়ী স্বজনপ্রীতি এবং ৪৩.১ শতাংশ ব্যবসায়ীকে অনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার আশ্রয় নিতে হয়।

গবেষণার তথ্যে দেখা গেছে, দেশে এসএমই খাতের উদ্যোক্তাদের ১০ জনের মধ্যে ৯ জন মনে করেন, এই খাতে দুর্নীতির ব্যাপক বিস্তার রয়েছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৬২.৪ শতাংশ ব্যবসায়ী মনে করেন, পুরো ব্যবস্থাই দুর্নীতিতে আক্রান্ত। ৭১.৩ শতাংশ ব্যবসায়ী মনে করেন, দুর্নীতিকে সঙ্গে নিয়েই তাঁদের ব্যবসা পরিচালনা করতে হচ্ছে।

আলী রীয়াজ বলেন, দেশের অর্থনীতিতে সম্ভাবনাময় খাত হচ্ছে এসএমই। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে এসএমই খাতের ওপর জোর দিতে হবে। তবে দুর্নীতি এসএমই উদ্যোক্তাদের উদ্যোগকে সীমিত করে দেয়।

আলী ইমাম মজুমদার বলেন, সামাজিক আন্দোলন ছাড়া দুর্নীতি দূর করা সম্ভব নয়।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ডা. ফাহমিদা খাতুন বলেন, দুর্নীতি রোধে প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরো শক্তিশালী হতে হবে।

সিজিএসের চেয়ারম্যান মঞ্জুর এ চৌধুরী বলেন, ‘দুর্নীতি একটি দৈত্যের মতো, সবাইকে কুরে কুরে খাচ্ছে। এ অবস্থা থেকে আমাদের মুক্তি পেতে হবে।’

অনুষ্ঠানে সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট এন্টারপ্রাইজের (সিআইপিই) নির্বাহী পরিচালক অ্যান্ড্রু উইলসন ভিডিও বার্তার মাধ্যমে বেসরকারি খাতের ক্ষমতায়নে সিআইপিইর লক্ষ্য তুলে ধরেন।

বক্তারা আরো বলেন, অনেক ক্ষেত্রে সরকারি নানা নিয়ম-নীতি দুর্নীতিকে উসকে দিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব রয়েছে। সরকার আইন করলেও অনেক ক্ষেত্রে আইনের প্রয়োগ নেই। দুর্নীতি দমন কমিশন যথাযথ ভূমিকা পালন করছে না। এসব কারণে দুর্নীতি কমছে না।

তাঁরা বলেন, দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, বিশেষত এসএমই খাতের ব্যবসায়ীরা ব্যবসা পরিচালনায় নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো দুর্নীতি প্রতিরোধে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে না। এই পরিস্থিতির অবসানে সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।

News Courtesy:

https://www.kalerkantho.com/print-edition/first-page/2023/03/22/1263510