Centre for Governance Studies, Dhaka

CGS in the media

৬২ শতাংশ মানবাধিকারকর্মী দেশে অনিরাপদ বোধ করেন

Press clipping reproduced from the original publication, as archived on the CGS website.

দেশে মানবাধিকার রক্ষায় যারা কাজ করে থাকেন, তাদের ৬২ শতাংশ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হুমকির মুখে পড়ার পাশাপাশি ‘খুব অনিরাপদ’ বোধ করার কথা জানিয়েছেন। ৪৬ শতাংশ কর্মী মনে করেন, দেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে। এ ছাড়া তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে ৮৬ শতাংশ মানবাধিকারকর্মী বাধার মুখে পড়ার কথা জানিয়েছেন।

গতকাল শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে প্রকাশিত ‘চ্যালেঞ্জেস টু হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডারস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। চার মাস ধরে গবেষণাটি পরিচালনা করেছে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএ)।

গবেষণা প্রকল্পের মুখ্য গবেষক ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ও সিজিএ উপদেষ্টা বোর্ডের সদস্য ড. আলী রীয়াজ। ফলাফল প্রকাশের সময় তিনি জানান, গবেষণা জরিপে দেশের ৩৬টি জেলার ৫০ জন মানবাধিকারকর্মী অংশ নেন। গত ২৪ মে থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত সময়ে তাদের মতামত ও সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হয়েছে। জরিপে ২৮ ধরনের প্রশ্ন করা হয়। টেলিফোন, ই-মেইল এবং সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, দেশের বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন এবং মানবাধিকারকর্মীরা দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ক্ষমতাসীন দল, তাদের কর্মী এবং সরকারি বিভিন্ন সংস্থার দ্বারা প্রতিকূল পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়। এ ছাড়া মানবাধিকারকর্মী ও সংগঠনগুলোর স্বাধীনতার ক্ষেত্রে বিভিন্ন নিরোধমূলক আইন ব্যবহার হয়। সাংবিধানিক দায়িত্ব থাকা সত্ত্বেও মানবাধিকারকর্মীদের অধিকার রক্ষায় সঠিকভাবে ভূমিকা রাখতে পারছে না জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। হয়রানির শিকার হলে আদালতের মাধ্যমে যে সুরক্ষা পাওয়ার কথা তা অনেকটা সংকুচিত।

অনুষ্ঠানে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের চেয়ারপারসন জেডআই খান পান্না, ইংরেজি দৈনিক নিউ এজের সম্পাদক নুরুল কবির, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের (ব্লাস্ট) নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসেন এবং সিজিএর নির্বাহী পরিচালক জিল্লুর রহমান বক্তব্য দেন।

মানবাধিকারকর্মী ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, মানবাধিকারকর্মীদের ওপর যে চাপের কথা উঠে এসেছে তা নতুন নয়। দেশে শুধু আইনগত কাঠামো থাকলেই হবে না, তার যথাযথ প্রয়োগও থাকতে হবে। মানবাধিকার রক্ষায় আইনগত কাঠামো শক্তিশালী হয়েছে কিনা তা দেখার বিষয়।

জেডআই খান পান্না বলেন, দেশ এখন ব্যবসায়ী ও আমলাদের হাতে চলে গেছে, রাজনীতিবিদরা আর দেশ চালাচ্ছেন না। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘মানবধিকার কমিশন সরকারি কোনো সংস্থা নয়, এটি রাষ্ট্রীয় সংস্থা। অনেকের মধ্যে এ বিষয়ে ভুল ধারণা থাকায় তারা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ভালো কাজের সংবাদ প্রকাশ করে না।’ সরকার মানবাধিকার কমিশনের বিভিন্ন সুপারিশ আমলে নিয়ে থাকেন বলেও দাবি করেন তিনি।

নিউ এজ সম্পাদক নুরুল কবির বলেন, মানবাধিকার কমিশনের প্রণীত সব নীতি অনুমোদন বা প্রয়োগ করতে সরকার বাধ্য নয়, এটি একটি সীমাবদ্ধতা। মানবাধিকারের বিষয়গুলোকে সুরক্ষিত করতে হবে, একে রাজনীতির সঙ্গে জড়ানো যাবে না।

অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্যে সিজিএর নির্বাহী পরিচালক জিল্লুর রহমান দেশের মানবাধিকারকর্মীদের জন্য আরও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতের ওপর জোর দেন। তিনি রাষ্ট্র ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি তুলে ধরে এ বিষয়ে পরিত্রাণের জন্য আহ্বান জানান।

News Courtesy:

https://www.dainikamadershomoy.com/post/454356