Centre for Governance Studies, Dhaka

CGS in the media

১৫ বছরে ৬ হাজারের বেশি ক্রসফায়ার ঘটেছে তদন্তকারীদের আসামী করা প্রয়োজন

Press clipping reproduced from the original publication, as archived on the CGS website.

সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত “গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনের জন্য সংলাপ- মানবাধিকার প্রসঙ্গ” শীর্ষক আলোচনায় মানবাধিকার কর্মীরা বলেছেন, বিগত ১৫ বছরে ৬ হাজারের বেশি ক্রস ফায়ারের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার তদন্ত কাজের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান তারা। সেইসাথে সরকারের উচিত যে স্থাপনাগুলোতে মানুষকে গুম করে রাখা হতো, আয়নাঘর, টর্চার সেল সেগুলোকে সংরক্ষণ করা। 

গতকাল শনিবার সকালে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে সেমিনারে আলোচনায় অংশ নেন বস্ত্র, পাট ও নৌ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব,) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন; সিজিএস- এর চেয়ার মুনিরা খান; কাপেং ফাউন্ডেশন এর নির্বাহী পরিচালক পল্লব চাকমা; বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এলিনা খান; গণফোরাম-এর কার্যনির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী; আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক)-এর নির্বাহী পরিচালক মো. নূর খান; সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খান; রাজনীতি বিশ্লেষক আশরাফ কায়সার; জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ; নারী অধিকার কর্মী ইলিরা দেওয়ান;; 'মায়ের ডাক' এর আহ্বায়ক সানজিদা ইসলাম; এবি পার্টি’র যুগ্ম সদস্য সচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ; বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট দিলরুবা শরমিন; জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী প্রতিনিধি নাইমা আক্তার রীতা; জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী প্রতিনিধি তৌহিদ সিয়াম; রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক সালেহ আহমেদ; গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান; বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার আহসান হাবীব ভূঁইয়া; জি নাইনের সাধারণ সম্পাদক ডাঃ সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্থ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সিজিএস এর নির্বাহী পরিচালক জিল্লুর রহমান। 

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, পুলিশ কমিশন গঠনে আমি অনেক দৃঢ় অবস্থানে আছি। পুলিশের কাছের অস্ত্র কি করে সাধারণ পোশাকের মানুষের হাতে গেল ? তা নিয়ে তদন্ত করা প্রয়োজন। ডিজিএফআই এর কাজ ছিল আন্তঃবাহিনীর নিরাপত্তা লঙ্ঘন নিয়ে কাজ করা, সময়ের সাথে যা বদলে গেছে। পাঁচ তারিখ সরকারের পতন না হলে আমি এবং আমার সাথের লোকজন আয়নাঘরে বন্দী হতাম। আমাদের দেশে যে দলই ক্ষমতায় যায়, তারা সেই ক্ষমতাকে আঁকড়ে ধরে রাখে। 

মানবাধিকার কর্মী মো. নূর খান বলেন, মানবাধিকার কমিশন গঠনে, কার্যকারিতায় কোন স্বচ্ছতা নেই। সরকারের উচিত যে স্থাপনাগুলোতে মানুষকে গুম করে রাখা হতো, আয়নাঘর, টর্চার সেল সেগুলোকে সংরক্ষণ করা। বিগত ১৫ বছরে ৬ হাজারের বেশি ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটেছে। যারা তদন্তে ছিলেন সেই সময়, তাদেরকে আসামী হিসেবে যুক্ত করা প্রয়োজন। কোন প্রক্রিয়ায় আমরা আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে ঠা-া মাথার খুনি হিসেবে গড়ে তুলছি, তা নিয়ে যেন কথা বলি। সেনাবাহিনীর নিচু থেকে উচ্চ পদস্থ অনেক কর্মকর্তাদের গুম করা হয়েছে, আমরা জানতাম না। মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে এই পরিস্থিতি থেকে বের হতে।

সানজিদা ইসলাম বলেন, ০৫ আগস্টের পর থেকে আমরা গুম, বিচার বহির্ভূত হত্যাকা- নিয়ে কথা বলতে পারছি, এই পরিবর্তন শুধু দেখতে পাচ্ছি। বিগত ১২ বছরে জাতীয় আন্তর্জাতিক মাধ্যমে যখন সরকার বার বার বলছিল, বাংলাদেশে গুম বলে কিছু নেই, তখন মানবাধিকার কমিশনের কাজ কি ছিল? স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে চিঠি দেয়া ছাড়া আর কোন কাজ তারা করেনি। রাষ্ট্রের প্রধানের নির্দেশে সরকারের যে সংস্থাগুলো কাজ করেছে তাদের পরিবর্তন করা হয়েছে কি না? এই সরকার প্রথম গুম কমিশন করার কথা বলেছে, আন্তর্জাতিক গুমবিরোধী সনদে অনুস্বাক্ষর করেছে। অনেকে আসাদুজ্জামান নূরকে গ্রেপ্তার করা নিয়ে সমালোচনা করছে, কিন্তু তার নির্দেশে বিরোধী দলীয় নেতাকে ক্রসফায়ার করে মারা হয়েছে তা নিয়ে কেউ কথা বলছে না। যারা বিচারবহির্ভূত হত্যাকা-, গুমের সাথে জড়িত সেই সকল বাহিনী ও বাহিনীর সদস্য এখনো স্বপদে বহাল রয়েছে। আমাদের একটাই দাবী, আমরা জানতে চাই আমাদের স্বজনদের সাথে কি হয়েছিল?  

মুনিরা খান বলেন, বিগত সরকারের আমলে মানবাধিকার কমিশন নতুন নিয়ম অনুযায়ী স্বচ্ছতা ধরে রেখে খুব একটা কাজ করেছে বলে আমরা দেখতে পাইনি। কিভাবে কাজ করলে, কি করলে আমরা স্বৈরাচারের হাতে পড়বো না, তা নিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে। সংস্কারের জন্য, প্রয়োজনীয় সময় আমাদের এই সরকারকে দিতে হবে। আমরা যেন অধৈর্য্য না হই, ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করা আমাদের সবার প্রয়োজন।

জিল্লুর রহমান বলেন, সংস্কার পরিত্যাজ্য বললেও, পুনর্গঠন নিয়ে কথা বলা উচিত আমাদের। মানবাধিকারের সংকট এদেশে ছিল, আছে। আমরা জানতে চাই, বাংলাদেশের জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের স্বাধীনতা ও কার্যকারিতা বৃদ্ধির জন্য কি কি সুনির্দিষ্ট সংস্কার প্রয়োজন? র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) মতো এলিট আইন প্রয়োগকারী ইউনিট এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা দ্বারা হয়রানি ও অপব্যবহার রোধে কী ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে ? এই সংস্থাগুলোকে যেভাবে রাজনীতিকরণ করা হয়েছে তা নিয়ে আমাদের কথা বলা প্রয়োজন। নির্বাচন কবে হবে তা জানতে পারছি, সেনাপ্রধানের কাছে থেকে, সরকারের পক্ষ থেকে কোন তথ্য আমরা পাচ্ছি না। জেলা পর্যায়ের সাথে সরকারের সমন্বয় হচ্ছে না এই সমালোচনা আমরা করে যাবো, যতদিন না সংস্কার হচ্ছে। 

ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খান বলেন, মানবাধিকার নিয়ে কথা বলার সময় আইনের প্রয়োগ নিয়ে কথা বলি, তবে মানবাধিকারের মূল বিষয় হলো মানবিকতা। মানবাধিকার কমিশন বা অন্যান্য সংস্থাগুলো তৈরি করা হয়েছে সরকারের আজ্ঞাবহ হিসেবে। স্বতন্ত্র সংগঠন হিসেবে কাজ করতে না পারলে, আজ্ঞাবহ হয়েই থাকতে হবে এই সংস্থাগুলোকে। রাষ্ট্রের সংস্থাগুলোতে যোগদান, পদোন্নতির ক্ষেত্রে যোগ্যতাকে প্রাধান্য দেয়ার চেয়ে রাজনীতিকরণকে প্রাধান্য দিলে, পরিপূর্ণভাবে সংস্কার হবে না। 

ববি হাজ্জাজ বলেন, আমাদের দেশের আইনের সঠিক প্রয়োগ হলে, আজকের এই আলোচনার প্রয়োজন হতো না। সংখ্যালঘুদের অধিকার কিভাবে আমরা প্রতিষ্ঠিত করতে চাই? সেই আলোচনা করা প্রয়োজন। আইন, বিচার ব্যবস্থা, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সংস্কারের প্রয়োজন। সংস্কারের সময় সাংস্কৃতিক সংস্কারেরও প্রয়োজন, নাহলে মব জাস্টিস আরও বাড়বে। 

ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, অতিদ্রুত সময়ের মধ্যে, পিলখানা গণহত্যা, হেফাজত গণহত্যা নিয়ে কমিটি গঠন করা প্রয়োজন।

দিলরুবা শরমিন বলেন, বিগত স্বৈরাচার সরকারের সময়ে আমলাদের নিয়ে মানবাধিকার কমিশন গঠন করা হয়েছে। যেহেতু এই আন্দোলনের সময় সঙ্ঘবদ্ধভাবে অন্যায় সংগঠিত করা হয়েছে, সরকারের আজ্ঞাবহদের বিচারের আওতায় আনা প্রয়োজন।

নাইমা আক্তার রীতা বলেন, বাংলাদেশে মানবাধিকার কমিশনের কাজ নিয়ে সবার মনেই প্রশ্ন ছিল। জুলাই বিপ্লবে মানুষকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে, নির্মমভাবে গুলি করা হয়েছে, তখন কোথায় ছিল মানবাধিকার কমিশন? তৌহিদ সিয়াম বলেন, বিগত ১৬ বছরে মানবাধিকার লঙ্ঘন করে রাজনীতিকরণ করা হয়েছে প্রশাসনের সব জায়গায়। বর্তমানে দেখা যায়, অনেকেই বর্তমান সরকারের ডিসি পরিবর্তন, এসপি পরিবর্তন, সচিব পরিবর্তন, ইত্যাদি বিষয়কে নিয়ে মানবধিকার লঙন হয়েছে বলে তাত্ত্বিক আলাপ নিয়ে আসে। কিন্তু, তাঁরা এমন প্রশ্ন বিগত বছরে করেন নি। এগুলো হতাশাজনক।

অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, রাষ্ট্রের চরিত্র বদলাতে হবে। রাষ্ট্রের সংস্কারে তরুণদের সম্পৃক্ততা নিয়ে কাজ করতে হবে। ছাত্রদের যদি রাষ্ট্র পুনর্গঠনে ব্যবহার না করা যায়, তাহলে জাতি হিসেবে আমরা ব্যর্থ। অ্যাডভোকেট এলিনা খান বলেন, প্রায় আটশ জন মারা গেছে, সে কয়টি মামলা রুজু হওয়ার কথা ছিল। আইনের সংস্কারে কাজ করতে গেলে অনেকগুলো বিষয়ে সংস্কার প্রয়োজন। আইন আছে কিন্তু তার কোন প্রয়োগ নেই। এতো সংস্কারের কথা বলা হয়, জেল সংস্কার নিয়ে কেউ কথা বলে না। স্বাধীন মানবাধিকার কমিশন পরাধীনের মতো কাজ করলে কিভাবে হবে ? সেনাবাহিনীর কাছে আওয়ামীলীগের কতজন লোক ছিল, কতজন চলে গেল, আমাদের জানানো হোক। গুম হওয়া মানুষদের তালিকা প্রকাশ করে, জীবিতদের সামনে নিয়ে আসা হোক।  

রাশেদ খান বলেন, এই সরকার ব্যর্থ হলে আর কখনোই রাষ্ট্র সংস্কার হবে না। সরকারের উচিত দ্রুত রোডম্যাপ দেয়া। এই আন্দোলনে রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা নিয়ে কেউ কথা বলছে না। ডাঃ সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্থ বলেন, ২০ দিন কারাভোগের পর ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে আমি মুক্তি পাই। বিগত সরকার গুম, বিচার বহির্ভূত হত্যাকা-ের যে ঘৃণ্য চর্চা করেছিল, তা নিয়ে কথা বলা প্রয়োজন। এই সরকারের উচিত ১৯৭২ সালের পর থেকে আজ পর্যন্ত যত গুম, খুন হয়েছে সে ঘটনাগুলোর বিচার, তদন্ত করা। মানবাধিকার কমিশনকে পুনর্গঠন করা প্রয়োজন।

News Courtesy:

https://www.dailysangram.info/post/568120-%E0%A7%A7%E0%A7%AB-%E0%A6%AC%E0%A6%9B%E0%A6%B0%E0%A7%87-%E0%A7%AC-%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A6%BF-%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%B8%E0%A6%AB%E0%A6%BE%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%98%E0%A6%9F%E0%A7%87%E0%A6%9B%E0%A7%87-%E0%A6%A4%E0%A6%A6%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%86%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A7%80-%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A6%BE-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%9F%E0%A7%8B%E0%A6%9C%E0%A6%A8