বাংলাদেশে ৩২টি আইন স্বাধীন সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করছে। প্রেস কাউন্সিল একটি ব্যর্থ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। গতকাল রবিবার ঢাকায় ‘গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনের জন্য সংলাপ : গণমাধ্যম প্রসঙ্গ’ শীর্ষক আলোচনায় বক্তারা এ কথা জানান।
সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কারের অগ্রাধিকার ক্ষেত্রগুলো নিয়ে ধারাবাহিক আয়োজনের অংশ হিসেবে ঢাকার সিরডাপ মিলনায়তনে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
সংলাপে আলোচকের মধ্যে ছিলেন গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রধান কামাল আহমেদ, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম, সিজিএসের সভাপতি মুনিরা খান, সিজিএসের নির্বাহী পরিচালক জিল্লুর রহমান, দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী আবু সাইয়িদ, বাসসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ, ডিজিটালি রাইট বিডির প্রতিষ্ঠাতা মিরাজ আহমেদ চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক এস এম শামীম রেজা, এএফপির ফ্যাক্ট চেক এডিটর কদরুদ্দীন শিশির, দ্য ডেইলি স্টারের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক জায়মা ইসলাম, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মাসুদ কামাল, আবু সাঈদ খান, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, এনএইচকে টেলিভিশনের বাংলাদেশ প্রতিনিধি পারভিন এফ চৌধুরী, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এম এ আজিজ ও নাগরিক কমিটির সদস্য তুহিন খান।
সংলাপে জিল্লুর রহমান বলেন, গত কয়েক বছর সাংবাদিকরা অনেক হয়রানির শিকার হয়েছেন। গণমাধ্যমকে ‘পাপেট মিডিয়া’ হিসেবে পরিণত করা হয়েছে। এখন নতুন পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
কামাল আহমেদ জানান, গণমাধ্যম নিয়ে মানুষের মতামত জানতে আগামী বছরের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে সারা দেশে জরিপ করা হবে। এই জরিপে গণমাধ্যমের বর্তমান অবস্থা ও সংকট এবং গণমাধ্যমের প্রতি মানুষের বিশ্বাস ও প্রত্যাশার বিষয়গুলো দেখা হবে।
গত ৫৩ বছরে বাংলাদেশে সরকারিভাবে কোনো গণমাধ্যম জরিপ হয়নি উল্লেখ করে কামাল আহমেদ বলেন, ‘গণমাধ্যমের পাঠক, দর্শক, শ্রোতার মতামত জরিপ হবে জানুয়ারির এক থেকে সাত তারিখ পর্যন্ত।
মতামতের জন্য ৪৮ হাজার মানুষের কাছে যাওয়া হবে। জরিপের উদ্দেশ্য, আমরা জানতে চাই মানুষ কোন মাধ্যমকে বিশ্বাস করে। পত্রিকা, অনলাইন, টেলিভিশন নাকি সোশ্যাল মিডিয়া। মানুষ কী প্রত্যাশা করে সেটাও জানতে চাই।’ তিনি বলেন, ‘জানুয়ারির শেষ পর্যন্ত আমরা সবার মতামত শুনব।
ফেব্রুয়ারিতে ৯০ দিনের শেষ ১৫ দিন একটানা ম্যারাথন মিটিং করে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে সুপারিশমালা দেব। আমরা কয়েকটি বিষয় দেখব, সংবাদপত্রের বর্তমান চেহারা কী, সংকট কী। বেসরকারি টেলিভিশন, রেডিও ও কমিউনিটি রেডিও খাতের অবস্থা কী। তারপর দেখব বিটিভি, বাসসসহ রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো। আমরা দেখব সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করে এমন কী আইন আছে। সেগুলো সংশোধনের প্রস্তাব করব। সাংবাদিকদের সুরক্ষা আইন বিষয়ে নতুন আইনের বিষয়ে বিবেচনায় আনব। সংবাদমাধ্যমের জবাবদিহির আওতায় আনারও বিষয় রয়েছে।’
তিনি বলেন, গত ১৫ বছরের কন্টেন্ট আলোচনা করে দেখতে হবে। সাংবাদিকদের জন্য ন্যূনতম বেতন থাকতে হবে, যা পুরো দেশব্যাপী হতে হবে। সাংবাদিকরা সাংবাদিকতা করবেন, বিজ্ঞাপন না।
শফিকুল আলম বলেন, ন্যূনতম বেতন সাংবাদিকদের জন্য নির্ধারণ করে দিতে হবে। কন্টেন্ট চুরি করা বন্ধ করতে হবে। কঠোর কপিরাইট আইন লাগবে। ইউনিয়নগুলোকে শক্তিশালী হতে হবে। নতুন বাংলাদেশে নতুন ইউনিয়ন লাগবে। সাংবাদিকদের জন্য যেন কারো মানবাধিকার লঙ্ঘন না হয়, সেদিকা খেয়াল রাখতে হবে। আবু সাইয়িদ বলেন, প্রেস কমিশনে সাংবাদিকদের প্রতিনিধিত্ব থাকতে হবে। সাংবাদিকদের সাহসিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, পত্রিকাগুলোর উদ্দেশ্যগুলো নিয়ে আলোচনা করতে হবে। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা করতে হবে।
News Courtesy:
স্বাধীন সাংবাদিকতায় বাধা ৩২টি আইন