ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সাইবার ট্রাইব্যুনালে তিন বছরে ৪৬৫৭টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৮ সালে ৯২৫টি, ২০১৯ সালে এক হাজার ১৮৯টি ও ২০২০ সালে এক হাজার ১২৮টি এবং চলতি বছর ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেড় হাজারে বেশি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় আসামিদের মধ্যে বেশিরভাগই রাজনীতিবিদ, গণমাধ্যমকর্মী, শিক্ষক ও শিক্ষার্থী। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা ভিন্ন মতের বিরুদ্ধে এই আইন ব্যবহার করেছে এবং তা অব্যাহত রয়েছে।
সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বৃহস্পতিবার এসব তথ্য জানানো হয়। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮ এর তিন বছর উপলক্ষ্যে একটি পর্যবেক্ষণমূলক ফলাফল প্রকাশ করে গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি। আজ ১ অক্টোবর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮ এর তিন বছর পূর্ণ হচ্ছে।
এতে জানানো হয়, তিন বছরে সরকার সমালোচকদের বিরুদ্ধে এ আইনের ব্যবহার চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। ব্যাপক হারে এই আইন ব্যবহারের কারণে সৃষ্ট উদ্ভূত পরিস্থিতিকে ‘দুঃস্বপ্নের বাস্তবতা’ হিসাবে বর্ণনা করেছে সম্পাদক পরিষদ। আইনটি বাংলাদেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করেছে। সাংবাদিকসহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের নাগরিকরা এই আইন দ্বারা দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন।
পর্যবেক্ষণের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির সরকার ও রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের ডিস্টিংগুইশড প্রফেসর ড. আলী রীয়াজ বলেন, এই প্রবণতা দেখাচ্ছে যে কীভাবে একটি আইন উদ্ভূত কর্তৃত্ববাদের দিকে অগ্রসরমান শাসনের হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। এটি ভিন্নমতকে অপরাধে পরিণত করছে। এই আইনের নির্বিচার ব্যবহার বাংলাদেশে ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আইনটি বাতিল করা জরুরি। এই আইনের তিন বছর পূর্তিতে এর ব্যবহার সম্পর্কে কিছু পর্যবেক্ষণ উপস্থাপন করেছে সিজিএস। এতে বলা হয়েছে, আইনটি চালু হওয়ার পর থেকে সাইবার অপরাধ সম্পর্কিত দায়ের করা মামলার সংখ্যা বেড়েছে।
সিজিএস ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৬৬৮টি মামলার বিবরণ চিহ্নিত করেছে। সরকার অনুমোদিত প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক গণমাধ্যম, অভিযুক্ত বা অভিযুক্তের পরিবার ও তাদের নিকটজন, অভিযুক্তের আইনজীবী, থানা এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে এসব তথ্য সংগ্রহ করেছে গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি। ৬৬৮টি মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তির সংখ্যা এক হাজার ৫১৬ জন। এর মধ্যে ১৪২ জন সাংবাদিক, ৩৫ জন শিক্ষক, ১৯৪ জন রাজনীতিবিদ ও ৬৭ জন শিক্ষার্থী। এতে ৫৭১ জন মানুষের পেশা চিহ্নিত করতে সক্ষম হয় সংস্থাটি। মোট মামলার প্রায় নয় দশমিক ৩৭ শতাংশ এবং যাদের পেশা চিহ্নিত করা হয়েছে তাদের মধ্যে ২৪ দশমিক ৮৭ শতাংশ ব্যক্তি সাংবাদিক। এসব মামলার বেশিরভাগই ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের দ্বারা না হয়ে অন্যদের মাধ্যমে দায়ের করা হয়েছে। প্রায়ই ক্ষমতাসীন দলের কর্মীরা তাদের নেতাদের পক্ষ নিয়ে মামলাগুলো দায়ের করেন।