Centre for Governance Studies, Dhaka

CGS in the media

সরকার ও কমিশনের কঠোর সমালোচনায় আমীর-উল ইসলাম

Press clipping reproduced from the original publication, as archived on the CGS website.

সরকার ও নির্বাচন কমিশনের কঠোর সমালোচনা করলেন আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম।

তিনি বলেছেন, “পুলিশ প্রশাসন থেকে শুরু করে সব ধরনের প্রশাসন রাজনৈতিক দলের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। আমাদের এখানে আইনের শাসন অনুপস্থিত। নির্বাহী ক্ষমতা পুরোপুরি সরকারের নিয়ন্ত্রণে এবং এর কোনো দায়বদ্ধতা নেই।”

শনিবার রাজধানীর বিস মিলনায়তনে ‘ভোটের রাজনীতি ও ভোটাধিকার’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।

নির্বাচনের এই সময়েও বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক এ সভাপতি। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টও একই অভিযোগ করে আসছে নিয়মিত।

ব্যারিস্টার আমীর বলেন, “কোর্টে এখনও গেলে আপনারা দেখতে পাবেন হাজারেরও বেশি লোক জামিন নিতে অপেক্ষায় আছে। মানুষ নির্বাচন করবে, নাকি বেইল নেবে, নাকি জেলে যাবে? মানুষকে ঘরছাড়া করে ফেলা হচ্ছে।”

তিনি বলেন, “পত্রিকায় দেখেছি সিইসি কালকে নাকি পুলিশকে বলেছে, আপনার সম্ভাব্য প্রিজাইডিং অফিসারদের তথ্য সংগ্রহ করার জন্য তাদের বাড়িতে বাড়িতে কেন যাচ্ছেন, যা করবেন চুপচাপ করবেন। তাহলে কারা প্রিজাইডিং অফিসার হবে এবং হবে না সেটাও ওখানে সিদ্ধান্ত হচ্ছে?”

ইভিএম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ইভিএম কী জিনিস আমি তো বুঝি না। ইভিএম কোম্পানিটা কোথাকার সেটাও জানি না। এটা কি এমআরআই মেশিনের মতো কোনো মেশিন নাকি? আমি এর সম্পর্কে কিছুই জানি না। ইভিএমের ডেমো করা হচ্ছে, এটা বিরাট প্রমোশন, আমি কোম্পানিটার নাম জানতে চাই।”

সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম কয়েক দশক আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত থাকলেও তিনি এই নির্বাচনকে দেখছেন ‘মুক্তির পথ’ হিসেবে।

সবার জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টির আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “নির্বাচনে সাধারণ মানুষ কোনো রকম পুলিশি হয়রানিতে পড়বে না, সেই ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি কি না? নিচে কেন তারা কোনো জামিন পাচ্ছে না, সুপ্রিম কোর্ট হাই কোর্টে বেইল নিতে আসছে। পরিস্থিতি এখন এ রকম। ইতিহাস বলে নির্বাচন হচ্ছে মুক্তির পথ। এই নির্বাচন জনগণকে উপভোগ করতে দিতে হবে।”

গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্ট্যাডিজ ওই গোলটেবিলের আয়োজন করে।

এই সেমিনারে আগামী নির্বাচন নিয়ে তার মতোই অভিমত ও শঙ্কা প্রকাশ করেন সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম. সাখাওয়াত হোসেন।

বৈঠকে সাবেক নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন পর্যবেক্ষক, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, সাংবাদিক ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ এবং তাদের প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপির নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নেন সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম হাফিজ উদ্দিন খান, বিজিবির সাবেক মহাপরিচালক অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মঈনুল ইসলাম,
বিএনপি নেতা আব্দুল আওয়াল মিন্টু, বিএনপি নেতা জহির উদ্দিন স্বপন, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী আইনজীবী শ. ম. রেজাউল করিম, অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, সাংবাদিক নাঈমুল ইসলাম খান, অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক, নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংগঠন ফেয়ার ইলেকশন মনিটরিং অ্যালায়েন্স-ফেমার সভাপতি মনিরা খান প্রমুখ।

বাংলাদেশ পলিটিক্যাল সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন ও সিজিএসের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম আতাউর রহমান সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন চ্যানেল আইয়ের তৃতীয় মাত্রার সঞ্চালক জিল্লুর রহমান।

News Courtesy: www.http://www.newsbangladesh.com/details/85721