বিরোধী দল অংশ না নিলে বাংলাদেশ অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের সুযোগ হারাবে বলে মন্তব্য করে তুরস্কের রাষ্ট্রদূত মোস্তফা ওসমান তুরান বলেছেন, গণতন্ত্রে দু’টি পক্ষ থাকে। এতে প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে সরকারের। একই সাথে বিরোধী দলেরও দায়িত্ব রয়েছে। বাংলাদেশ সরকার একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের চেষ্টা করছে। নির্বাচন কমিশন চেষ্টা করছে বিরোধী দল যাতে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে।
তিনি বলেন, নির্বাচন সব পক্ষের অংশগ্রহণে হওয়া প্রয়োজন। আগামী নির্বাচনে যে দলই জয়লাভ করুক, আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে কোনো ধরনের প্রভাব পড়বে না।
গতকাল সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘মিট দ্য অ্যাম্বাসেডর’ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সিজিএসের নির্বাহী পরিচালক জিল্লুর রহমান।
অবাধ ও সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচনের জন্য সংলাপের ওপর গুরুত্বারোপ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশে অবশ্যই রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপের সুযোগ আছে। তবে দুঃখজনকভাবে এটি এখন হচ্ছে না। বাংলাদেশের জনগণ একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন প্রত্যাশা করছে। আমি আশা করি, সরকার এ দেশের জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবে।
‘নির্বাচনের প্রস্তুতি যেকোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়’ মন্তব্য করে মোস্তফা ওসমান তুরান বলেন, একটি দেশ তখনই এগিয়ে যায়, যখন দেশটি নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ের দায়িত্ব নেয়। বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের আয়োজন করা বিদেশীদের দায়িত্ব নয়। এটি সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের ওপর নির্ভর করে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশই সিদ্ধান্ত নেবে, বিদেশীরা নয়।
তিনি বলেন, স্থিতিশীলতা থাকার জন্যই বাংলাদেশে অর্থনৈতিক অগ্রগতি হয়েছে। বাংলাদেশে এমন কোনো রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা নেই, যেটি দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে কমিয়ে দেবে। আমরা এটা স্বীকার করি, মতো প্রকাশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে কিছু বাধা বাংলাদেশে আছে। অনেক সময়ে মানুষের মনেরভাব প্রকাশ করতে সমস্যা হয়। পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশেও গণতন্ত্র ও মানবাধিকার নিয়ে সমস্যা আছে।
রাষ্ট্রদূত বলেন, ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের অনেক সমালোচনা আছে। তুরস্কসহ অনেক দেশেই এই সমস্যা আছে। সরকার যদি মত প্রকাশের ব্যবস্থা করে, তবে উত্তেজনা অনেক কমে যাবে।
বাংলাদেশ-তুরস্ক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা শুধু সামরিক সরঞ্জাম কেনাবেচায় সীমাবদ্ধ থাকে না, এতে কৌশলগত সহযোগিতাও রয়েছে। বাংলাদেশের সাথে আমরা প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়াতে চাই। বাংলাদেশ তুরস্ক থেকে ড্রোন, পেট্রল ভ্যাসেল কিনেছে। আমি মনে করি, সামরিক সরঞ্জাম তৈরির ক্ষেত্রে দুই দেশ যৌথ উদ্যোগ নিতে পারে।
জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে মোস্তফা তুরান বলেন, তুরস্ক জ্বালানির উৎস দেশ নয়। রাশিয়া তার তেল ও গ্যাস তুরস্কের মাধ্যমে ইউরোপে রফতানির প্রস্তাব দিয়েছে। ট্রানজিট দেশ হিসেবে বাংলাদেশে জ্বালানি সরবরাহ করতে পারলে আমরা খুশি হবো।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ইস্যুতে আঙ্কারার অবস্থান নিয়ে প্রায়ই গণমাধ্যমের মুখোমুখি হতে হয় বলে জানান তুরস্কের রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ইস্যুতে ২০১২ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ঢাকা-আঙ্কারা সম্পর্কে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হয়েছিল। তবে তার অবসান হয়েছে। আমরা সে সময় বন্ধু দেশ হিসেবে শুধু আমাদের মতামত দিয়েছিলাম।
তুরস্ক রোহিঙ্গা সঙ্কট সুরহায় বাংলাদেশকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে সমর্থন করছে বলে জানান রাষ্ট্রদূত।
News Courtesy: