Centre for Governance Studies, Dhaka

CGS in the media

সংখ্যালঘুর অধিকার সুরক্ষিত করতে প্রয়োজন গণতন্ত্র এবং আইনের শাসন

Press clipping reproduced from the original publication, as archived on the CGS website.

রোববার (১৮ জানুয়ারি) সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজন করে “সবার জন্য গণতন্ত্র: সংখ্যালঘু অধিকার, প্রতিনিধিত্ব ও জাতীয় নির্বাচন ২০২৬” শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় বিষয়টি তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তারা সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা, অধিকার ও যথাযথ রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের গুরুত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

বক্তাদের মধ্যে ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা প্রফেসর ড. সুকোমল বড়ুয়া, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি নির্মল রোজারিও, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ, ঢাকা মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি জয়ন্ত কুমার দেব, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিজন কান্তি সরকার, ‘নিজেরা করি’-এর সমন্বয়কারী খুশী কবির, পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ও সিনিয়র সাংবাদিক বাসুদেব ধর, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং, কেন্দ্রীয় সদস্য পল্লব চাকমা, মানবাধিকার কর্মী ইলিরা দেওয়ান, দলিত পরিষদ-এর ঢাকা বিভাগীয় প্রধান চাঁদ মোহন রবি দাস, সিনিয়র সাংবাদিক সোহরাব হাসান, কার্যনির্বাহী সদস্য রিপন চন্দ্র বানাই, ইউলেবের খণ্ডকালীন প্রভাষক মুন্নী মেরিনা চিরণ, ব্রেভ ডাইমেনসন গ্লোবালের সভাপতি মীর আবু রিয়াদ এবং সিজিএস সভাপতি জিল্লুর রহমান।

সুকোমল বড়ুয়া বলেন, “যখন অধিকার সবার জন্য নিশ্চিত, তখন বিশেষ সংগঠন যেমন দলিত বা আদিবাসী ফোরাম, খ্রিস্টান বা বৌদ্ধ সংগঠন প্রয়োজন কেন—এটি একটি উদ্বেগজনক বাস্তবতা। অনেক মানুষ তাদের মৌলিক অধিকার সম্পর্কে অজ্ঞ। আমাদের একটি সমষ্টিগত পদক্ষেপের দরকার, যাতে অধিকার সবার জন্য স্বীকৃত ও রক্ষিত হয়।”

নির্মল রোজারিও বলেন, “সংখ্যালঘুর অধিকার মানবাধিকার। যারা সংখ্যালঘুদের অধিকার নিশ্চিত করে, সেখানে মানবাধিকার নিয়ে প্রশ্ন থাকে না। তবে আমাদের মানসিকতা পরিবর্তিত না হওয়া পর্যন্ত গণতন্ত্র এবং সংখ্যালঘু অধিকার বাস্তবায়ন কঠিন।” তিনি আরও বলেন, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা আইন নিশ্চিত করতে হবে, সংসদে তাদের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব থাকতে হবে এবং ভবিষ্যতের সরকারগুলো এই বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে।

মনীন্দ্র কুমার নাথ মন্তব্য করেন, “সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে কথা শোনার মতো মনোভাব সরকারের নেই, যা হতাশাজনক।”

জয়ন্ত কুমার দেব বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতি আর আলোচনার নয়। মবোক্রেসি সংখ্যালঘুদের জীবনদায়ী করছে। আমরা কি সেই বাংলাদেশ পেয়েছি, যার জন্য আমরা যুদ্ধ করেছিলাম?”

বিজন কান্তি সরকার বলেন, “আমি নিজেকে সংখ্যালঘু হিসেবে পরিচয় দিই, কারণ আমি হিন্দু। আমাদের সমানাধিকার আছে, কিন্তু যারা দেশ চালাচ্ছে তাদের কাছে এটি পৌঁছায় না। সংসদে এমপিরা সংখ্যালঘুদের পক্ষ থেকে কথা বলতে পারেন না।”

খুশী কবির বলেন, “‘মাইনরিটি’ শব্দটি প্রক্রিয়াগতভাবে সংখ্যালঘু গোষ্ঠীকে প্রান্তিকীকৃত করে। গণতন্ত্র সব নাগরিকের স্বার্থ ও অধিকার রক্ষা করতে চায়, কিন্তু সংখ্যালঘুদের অন্তর্ভুক্তি এখনও অনিশ্চিত।”

বাসুদেব ধর যোগ করেন, “১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সবাই অংশ নিয়েছিল, কিন্তু সংবিধানে তাদের অধিকার উল্লেখ ছিল না। ধর্মনিরপেক্ষতার বাস্তব প্রভাব আমরা কোথাও দেখিনি।”

সঞ্জীব দ্রং বলেন, “সবাই মানুষ বলাই যথেষ্ট নয়। সংখ্যালঘুদের অধিকার নিশ্চিত করা রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব।”

পল্লব চাকমা বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংখ্যালঘু অন্তর্ভুক্তি হলেও, আদিবাসীদের অধিকার রক্ষা বিষয়ে তারা কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।”

ইলিরা দেওয়ান বলেন, “বিএনপি ও জামায়াত দাবি করে সবাই সমান। কিন্তু নির্বাচনী ইশতেহারে যদি সংখ্যালঘু অধিকার স্পষ্ট না হয়, তাহলে তারা বাস্তবে এই অধিকার কীভাবে রক্ষা করবে?”

News Courtesy:

সংখ্যালঘুর অধিকার সুরক্ষিত করতে প্রয়োজন গণতন্ত্র এবং আইনের শাসন