Centre for Governance Studies, Dhaka

CGS in the media

সংখ্যালঘুদের ভোটাধিকার নিশ্চিতে পদক্ষেপ নিতে হবে : সিজিএস

Press clipping reproduced from the original publication, as archived on the CGS website.

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন : সংখ্যালঘু অধিকার, প্রতিনিধিত্ব ও গণতান্ত্রিক বিশ্বাসযোগ্যতা’ শীর্ষক নীতি সংলাপে এসব কথা বলেন তারা।

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে চেয়েছিলাম গণতন্ত্র, কিন্তু পেয়েছি মবোক্রেসি। ফলে ভোটাধিকার এখন আর ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয় নেই, এটি নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণের আওতায় পড়েছে। তাই সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন : সংখ্যালঘু অধিকার, প্রতিনিধিত্ব ও গণতান্ত্রিক বিশ্বাসযোগ্যতা’ শীর্ষক নীতি সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন।

সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) এই নীতি সংলাপের আয়োজন করে। সিজিএস সভাপতি জিল্লুর রহমানের সঞ্চালনায় সংলাপে বক্তৃতা করেন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম, ব্যারিস্টার সারা হোসেন, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা প্রফেসর ড. সুকোমল বড়ুয়া, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের অন্যতম সভাপতি নির্মল রোজারিও ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মণীন্দ্র কুমার নাথ, গণফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর, ঢাকা মহানগর পূজা কমিটির সভাপতি জয়ন্ত কুমার দেব, বাংলাদেশ বুড্ডিস্ট ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ভিক্ষুু সুনন্দ প্রিয়, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিজন কান্তি সরকার, বাংলাদেশ দলিত পরিষদের বিভাগীয় প্রধান চন্দ্রমোহন রবিদাস প্রমুখ।

সংলাপে ড. সুকোমল বড়ুয়া বলেন, ‘আত্মপরিচয়ের সংকট আমরা এখনো সমাধান করতে পারিনি। এ ক্ষেত্রে আমরা খুবই দুর্বল।

আমরা এখনো আদিবাসীদের স্বীকৃতি দিতে পারিনি। সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে আমরা একত্র হয়ে কাজ করতে পারি না। কারণ আমরা নিজেরা বিভক্ত হয়ে গেছি। সবার চাওয়া যদি এক না হয়, ব্যথা যদি এক না হয়, তবে অধিকার কিভাবে নিশ্চিত হবে? তাই যদি আমরা অধিকার নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হই, তবে আমরা মানুষের কাছে আস্থাভাজন হব এবং আমাদের সমস্যা সমাধান হবে।

সুব্রত চৌধুরী বলেন, ‘প্রফেসর ইউনূস কথা দিয়েছিলেন, কিন্তু কথা রাখেননি। ৫৪ বছরের ইতিহাসে কেউ কথা রাখেনি। প্রতিটি সরকারের আমলে এত নিপীড়ন, এত বৈষম্য হয়েছে, কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি। এই সরকারের আমলেও কোনো সমস্যার সমাধান হয়নি। চেয়েছিলাম গণতন্ত্র, কিন্তু পেয়েছি মবোক্রেসি।

এ ধরনের পরিবেশ আগে কখনো দেখিনি। আগামী নির্বাচনে অনেক আশা দেখা যাচ্ছে, কিন্তু তা বাস্তবায়িত হবে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। আশা করি, সরকার এবং বিচার বিভাগ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবে। যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হবে, তা যেন পূর্ণ হয়, আমরা সেই আশা করি।’

বাসুদেব ধর বলেন, ‘২০২৬ সালের নির্বাচন কী অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে, তা আমি মনে করি না। আমরা জানি, আমরা ভোট দিলেও মার খাব, না দিলেও মার খাব। একজন সংখ্যালঘু ভোট কাকে দেবে, সে এটি বলতে পারে না এবং এটি ঠিক করতে পারে না বিভিন্ন হুমকির কারণে। আগামী নির্বাচনে সঠিকভাবে ভোট দিতে পারব কি না তা আমরা জানি না। সেটা নিশ্চিত করতে হবে।’

মণীন্দ্র কুমার নাথ বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, কিন্তু সেগুলোর কোনোটিই কি বাস্তবায়িমত হয়েছে? সংসদে সংখ্যালঘুদের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে প্রায় ৬০টি আসন সংরক্ষণের কথা বলা হয়। কিন্তু সরকার থেকে শুরু করে নির্বাহী প্রতিষ্ঠানগুলো পর্যন্ত সর্বত্র এমন সমস্যা রয়েছে, যা অন্তর্ভুক্তিকে বাধাগস্ত করে। এ বিষয়ে আন্তরিক পদক্ষেপের অভাবই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়গুলোর বঞ্চনাকে স্থায়ী করে রাখছে এবং সত্যিকারের অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের লক্ষ্যকে দুর্বল করছে।

সভাপতির বক্তব্যে জিল্লুর রহমান বলেন, ‘আমরা নির্বাচন নিয়ে কথা বলছি। এর আগে অনেক নির্বাচন হয়েছে, কিন্তু তা সঠিক ছিল না। জুলাই আন্দোলনের পর আমরা আশা করছিলাম একটি ভালো নির্বাচন হবে। বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের বিচারে বা ধর্মের বিচারে আমরা দেখছি যে অনেক বেশি মানুষ এই নির্বাচনের বাইরে রয়ে গেছে। রাজনৈতিক দলের অনেকের কা বাইরে দেখেছি যে সংখ্যালঘুরা ভোট দিতে যাওয়া নিরাপদ মনে করে না। সংকটটা হলো গণতন্ত্রের সংকট, আইনের শাসনের সংকট। দেশে আইনের শাসন নিশ্চিত হলে, তখন আশা করি দেশের সব সমস্যা সমাধান হবে।

News Courtesy:

সংখ্যালঘুদের ভোটাধিকার নিশ্চিতে পদক্ষেপ নিতে হবে : সিজিএস