Centre for Governance Studies, Dhaka

CGS in the media

সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে হবে

Press clipping reproduced from the original publication, as archived on the CGS website.

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা, তাদের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব ও ভোটাধিকার নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে এক গোলটেবিল আলোচনায়। একই সঙ্গে নির্বাচনের পর সংখ্যালঘুদের বিভিন্ন দাবিদাওয়া পূরণ হবে বলেও এতে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বক্তারা।

‘অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন: সংখ্যালঘু অধিকার, প্রতিনিধিত্ব ও গণতান্ত্রিক বিশ্বাসযোগ্যতা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় এসব বিষয় উঠে আসে। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এ গোলটেবিল আলোচনার আয়োজন করে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস)।

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, সংখ্যালঘুদের ওপর যে নির্যাতন হচ্ছে, তা সামাজিক, রাজনৈতিক ও আইনগত ব্যবস্থার অভাবের ফল। সংখ্যালঘুদের আস্থা যেভাবে ভেঙে গেছে, তাঁরা বিশ্বাস করেন না যে বিচার পাবেন। তাই তাঁদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে।

সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন বলেন, মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যেও কিছু সংখ্যালঘু গোষ্ঠী রয়েছে। অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পাশাপাশি তাঁদের (সংখ্যালঘু মুসলিম) সমস্যাগুলোকেও গুরুত্ব দিতে হবে। সংখ্যালঘুদের বিষয়গুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। পাশাপাশি সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে করা মিথ্যা মামলাগুলো কীভাবে নিষ্পত্তি করা যায়, সেদিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।

প্রধান উপদেষ্টা কথা রাখেননি অভিযোগ করে গণফোরামের সভাপতি সুব্রত চৌধুরী বলেন, ৫৪ বছরের ইতিহাসে কেউ কথা রাখেনি। প্রতিটি সরকারের আমলে এত নিপীড়ন, এত বৈষম্য হয়েছে, কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি। এই সরকারের আমলেও কোনো সমস্যা সমাধান হয়নি।

আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, এখানে যাঁরা কথা বলছেন, তাঁদের কথা অনেক সময় শুধু শোনা হয়, কিন্তু তা বাস্তবায়ন করা হয় না। যদি হতো, তবে ২০২৬ সালে এসে এসব বিষয় নিয়ে আর আলোচনা হতো না। এই ব্যর্থতা শুধু এখনকার নয়, এটা দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল।

সংবিধানে যে অধিকার রয়েছে, তা এখনো সবার জন্য নিশ্চিত হয়নি উল্লেখ করে রুহুল কুদ্দুস বলেন, ধর্ম–বর্ণনির্বিশেষে প্রত্যেক মানুষের ভোট দেওয়ার অধিকার রয়েছে। তাদের নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার রয়েছে।

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের অন্যতম সভাপতি নির্মল রোজারিও বলেন, বিগত সরকারের আমলেও সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে বিভিন্ন দাবি তোলা হলেও সেসব বাস্তবায়িত হয়নি। তাঁরা আশা করেন, আগামী নির্বাচনের পর তাঁদের দাবিগুলো পূর্ণ হবে। আগামী নির্বাচনে রাষ্ট্রের সবার অন্তর্ভুক্তি থাকবে, এমনটা আশা করেন তিনি।

ঢাকা মহানগর পূজা কমিটির সভাপতি জয়ন্ত কুমার দেব বলেন, রাষ্ট্র প্রায়ই মানুষকে তাদের সংখ্যালঘু পরিচয় মনে করিয়ে দেয়। এর ফলে সংখ্যালঘুরা ধারাবাহিকভাবে সহিংসতা ও বৈষম্যের শিকার হয়। এই বাস্তবতায় একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন কল্পনা করা কঠিন। সংখ্যালঘুরা কেবল যথাযথ প্রতিনিধিত্ব থেকেই নয়, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অর্থবহ অংশগ্রহণ থেকেও বঞ্চিত বলে অভিযোগ করেন তিনি।

গোলটেবিল আলোচনা সঞ্চালনা করেন সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের সভাপতি জিল্লুর রহমান। এতে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া।

News Courtesy:

সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে হবে | প্রথম আলো