♦ সিজিএসের ওয়েবিনারে তথ্য
♦ ২৫ মাসে দুই হাজার ২৪৪ জনের বিরুদ্ধে ৮৯০ মামলা, আটক ৮৪২
♦ তরুণরা বেশি হেনস্তার শিকার
♦ মন্ত্রীদের অবমাননার অভিযোগে বেশি মামলা
♦ স্থানীয় সাংবাদিকরা বেশি ঝুঁকিতে
বিশেষ প্রতিনিধি ২৪ এপ্রিল, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটেপ্রিন্ট
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে রাজনীতিবিদের সংখ্যা বেশি। এর পরেই রয়েছেন সাংবাদিকরা। তরুণরা এই আইনের মামলায় বেশি হেনস্তার শিকার হচ্ছে। আবার অভিযোগকারীদের মধ্যে রাজনীতিবিদের সংখ্যা বেশি।
এঁদের ৮১ শতাংশ আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত।
গতকাল শনিবার গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘অন্তহীন দুঃস্বপ্ন—বাংলাদেশের ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট ২০১৮’ শীর্ষক ওয়েবিনারে উপস্থাপন করা গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণাটি উপস্থাপন করেন যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ডিস্টিঙ্গুইশড প্রফেসর ও সিজিএসের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আলী রীয়াজ।
আলোচনায় অংশ নেন সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম সাখাওয়াত হোসেন (অব.), সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তানিয়া আমীর এবং আর্টিকল নাইনটিনের বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক ফারুখ ফয়সল।
সিজিএসের চেয়ারম্যান মনজুর আহমেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন নির্বাহী পরিচালক জিল্লুর রহমান।
গবেষণা প্রতিবেদন সম্পর্কে মুখ্য গবেষক আলী রীয়াজ বলেন, এই প্রতিবেদন ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সরকার অনুমোদিত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম, অভিযুক্ত বা অভিযুক্তের পরিবার এবং তাদের নিকটজন, অভিযুক্তের আইনজীবী এবং থানা ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে করা হয়েছে। গবেষণা প্রকল্পটি ন্যাশনাল এনডাউমেন্ট ফর ডেমোক্রেসির অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে।
গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় সবচেয়ে বেশি আসামি ও আটক হন স্থানীয় সাংবাদিকরা। শিক্ষকরা এই আইনে অভিযুক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আটক হন। এমনকি সরকারি কর্মচারীরাও ভুক্তভোগী। এই আইনে সবচেয়ে বেশি ৪০.৫৫ শতাংশ অভিযোগ করেন রাজনীতিবিদরা। সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা যেমন : আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী, সরকারি কর্মকর্তারাও মামলা করে থাকেন। সরকারের সমর্থন আছে এমন মামলার পরিমাণ ৩০.৩১ শতাংশ।
আলী রীয়াজ বলেন, অভিযোগকারীর মধ্যে ১৬৭ জন অর্থাৎ ৮১ শতাংশ আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গসংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। অভিযোগকারী জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির সংখ্যা বেশি। এ জন্য স্থানীয় সাংবাদিকরা এই আইনে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।
অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, সবচেয়ে বেশি মামলা করা হয়েছে ২৫ ও ২৯ ধারায় এবং সবচেয়ে বেশি অভিযুক্ত ৩৫ ধারায়। এসব ধারার অপব্যবহার রাজনীতিবিদ ও সাংবাদিকদের স্বাধীন মত প্রকাশের ক্ষেত্রে বাধা তৈরি করেছে।
গবেষণায় বলা হয়, মন্ত্রীদের অবমাননার অভিযোগে ১৪৯ এবং রাজনৈতিক নেতাদের অবমাননা করার অভিযোগে ৭৫টি মামলা করা হয়েছে। ফেসবুকে মতামত প্রকাশের জন্য এই আইনের অধীনে মামলা করা হয়েছে ৩৯৯টি। গণমাধ্যমে সব মামলার খবর প্রকাশিত হয় না। তথ্য অধিকার আইনের সাহায্য নিয়েও তথ্য পাওয়া যায় না।
সাবেক নির্বাচন কমিশনার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের প্রয়োজন আছে। কিন্তু এই আইনের ফলে মুক্ত ভাবের আদান-প্রদানের জায়গা সংকুচিত হয়েছে। বদিউল আলম মজুমদার বলেন, বর্তমানে আইন প্রণয়ন করা হয় ক্ষমতাসীনদের স্বার্থে।
তানিয়া আমীর বলেন, রাষ্ট্রীয় ভাবমূর্তি কী—এ বিষয়টি এই আইনে স্পষ্ট নয়। জনগণকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, রাষ্ট্রীয় ভাবমূর্তির অবমাননা আসলেই কোনো অপরাধের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে কি না।
ফারুখ ফয়সল বলেন, দেশে নতুন যে ডাটা প্রটেকশন অ্যাক্ট ও ওটিটি অ্যাক্ট আসছে, সেগুলো ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের চেয়ে শক্ত।
News Courtesy: