দিনকাল রিপোর্ট : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের বিশিষ্টজনেরা। ভোটাররা নিশ্চিন্তে ভোট কেন্দ্রে যেতে পারবেন কিনা এ নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ নির্বাচন শেষ পর্যন্ত হবে কিনা সেই প্রশ্নও তুলেছেন। এছাড়া ভাল নির্বাচনের ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের যে ভূমিকা থাকার কথা ছিল তা নিয়ে অনেকেই হতাশা ব্যক্ত করেছেন। বলেছেন, গণমাধ্যম এক থাকলে তিনদিনের মধ্যে পরিস্থিতি পাল্টে যাবে। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকে পালন করতে হবে অগ্রণী ভূমিকা। : বক্তারা আরো বলেন, নির্বাচন ঘিরে তৈরি হওয়া সংকট রাজনীতিবিদদেরই সৃষ্টি। একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ রাজনীতিবিদদেরই তৈরি করতে হবে। নির্বাচনের জন্য এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যার ওপর মানুষ আস্থা রাখতে পারে। গতকাল শনিবার রাজধানীর ইস্কাটনের বিস মিলানয়তনে সেন্টার ফর গভার্নেন্স স্টাডিস আয়োজিত ‘সুষ্ঠু নির্বাচনে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক এক সেমিনারে তারা এসব কথা বলেন। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নিউ এজ পত্রিকার সম্পাদক নুরুল কবির। : সভায় প্রফেসর ড. আতাউর রহমান বলেন, চারদিকে শুধু নৌকার শোডাউন দেখা যাচ্ছে। ধানের শীষ আছে কিন্তু এগোতে পারছে না। তবে আমার ধারণা শেষ পর্যন্ত পঞ্চাশ পার্সেন্ট ভোটার ভোট কেন্দ্রে আসবে। একটা অর্থবহ ও ন্যূনতম অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হোক সেই প্রত্যাশাই করি। : ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, একপেশে একটি নির্বাচনি মাঠ বাস্তবে দেখা যাচ্ছে। একদিকে বিরোধীদের উপস্থিতি, আরেকটি হচ্ছে ‘গায়েবি’ মামলা ইত্যাদি। পত্রিকায় দেখলাম ভয়ংকর সেপ্টেম্বর। যেখানে অনেক মামলা হয়েছে। : তিনি বলেন, নির্বাচনে পর্যবেক্ষকদের মধ্যে একটি সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। আর মাত্র ৮ দিন বাকি। এখনো হাল ছাড়লে হবে না। ভোটাররা নির্ভয়ে ভোট কেন্দ্রে যেতে পারবেন কিনা, এ বিষয়ে গণমাধ্যমের একটা বড়ধরেনর দায়িত্ব আছে। উদ্বেগ এবং আশা মাথায় নিয়ে গণমাধ্যম একটা ভূমিকা রাখবে আশা করি। : তিনি আরো বলেন, ২০১৮ সালের নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেনতেন নির্বাচন যেন না হয়। আইন বৈধতার নির্বাচন যেন না হয়, পরবর্তী সরকারের নৈতিক বৈধতা যদি তৈরি না হয় তাহলে কিন্তু সংকট আরো গভীর হবে। তাই নির্বাচনে কে নির্বাচিত হবে সেটা ভোটারদের ওপরই আমরা ছেড়ে দেই।
শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ধীরে ধীরে আমরা একটি অন্ধকারের দিকে ধাবিত হচ্ছি। ছাত্রজীবন থেকেই আমরা নিজেদের মতো করে অনেক চ্যালেঞ্জ করেছি, আবার সেগুলো অতিক্রমও করেছি। কিন্তু বর্তমানে এক অন্ধকার জায়গায় বাস করছি আমরা। অনেকেই বলছে ২৪ তারিখের পরে সেনাবাহিনী নামবে এই ২৪ তারিখের পরে দেশ অন্ধকার হবে নাকি আলোকিত হবে সেটির জন্য আমাদেরকে অপেক্ষা করতে হবে। কারণ পুলিশ প্রশাসন তো এক পক্ষ নিয়ে ফেলেছে যার যতটুকু আছে ততটুকু করছে তারা। : তিনি বলেন, আমি যদি সেনাবাহিনীর সমর্থন করি তাহলে অনেকেই হয়তো বলবে আপনার দলের প্রধান সেনাবাহিনী ছিল। কিন্তু এটাও তো সত্য দেশে যতগুলো ভালো কাজ হয়েছে সব কাজের সঙ্গে সেনাবাহিনী সম্পৃক্ত ছিল। এটা বর্তমান প্রধানমন্ত্রীও স্বীকার করেছেন। ১/১১-এর পরে তিনি বলেছিলেন এটা আমাদের আন্দোলনের ফসল। : সিজিএস-এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম আতাউর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক জিল্লুর রহমানের সঞ্চালনায় সেমিনারে আরো বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, দৈনিক মানবজমিন-এর প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি এবং নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংস্থা-জানিপপ-এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ, দৈনিক দিনকাল-এর সম্পাদক ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী, ডা. সাখাওয়াত হোসেন শায়েন্থ, ভারতীয় সাংবাদিক এবং সাউথ এশিয়ান মনিটরের নির্বাহী নির্বাহী সম্পাদক, রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক সালেহ আহমেদ, প্রথম আলো পত্রিকার কনসালটেন্ট আয়শা কবির, সুপ্রিম কোর্টের সাবেক রেজিস্ট্রার এবং সাবেক জজ ইকতাদের আহমেদ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাহাব এনাম খান, সিজিএস-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. মনজুর আহমেদ চৌধুরী প্রমুখ। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন ইংরেজি দৈনিক নিউ এজ-এর সম্পাদক নুরুল কবির।
News Courtesy: www..dailydinkal.net