Centre for Governance Studies, Dhaka

CGS in the media

ভূ-রাজনীতি পরিবর্তন বুঝে নীতিনির্ধারণ করা উচিত

Press clipping reproduced from the original publication, as archived on the CGS website.

করোনা মহামারীর কারণে ভূ-রাজনীতিতে যে পরিবর্তন আসবে তা অনুসরণ করে দেশের নীতিনির্ধারণ করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ। গতকাল শনিবার সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘মহামারীর ভূ-রাজনীতি : বাংলাদেশের চিত্রপট’ শীর্ষক ওয়েবিনারে তিনি এ কথা বলেন। ওয়েবিনারে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফ্রেডরিক-এবার্ট-স্টিফাং (এফইএস) বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি ফেলিক্স কলবিৎজ, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক আমেনা মোহসিন, সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার এবং সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. এম সাখাওয়াত হোসেন (অব)। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক এবং সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের সিনিয়র ফেলো ড. আসিফ সাহান। আলোচনার শুরুতেই বক্তব্য রাখেন ফেলিক্স কোলবিৎজ। তিনি বলেন, টেকসই আর্থসামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার উদ্দেশে এফইএস বাংলাদেশে কাজ করে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সেমিনার, প্রশিক্ষণ এবং পলিসি ডায়ালগ আয়োজন করে আসছে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক পর্যায়েও বর্তমানে বেশকিছু প্রজেক্টের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান। মহামারীর এ সময়টা মানুষের জীবনকে যেভাবে পাল্টে দিয়েছে, সেভাবে পরিবর্তন এসেছে আর্থ-সামাজিক এবং রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও। এই পরিবর্তিত সময়ে করণীয় কী হতে পারে তা নিয়ে এফইএসের আমন্ত্রণে একটি বিশ্লেষণধর্মী পেপার লিখেছেন অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ। বর্তমান করোনা সংকটে বাংলাদেশের করণীয় কী হতে পারে এবং বাংলাদেশ তার উন্নয়ন কার্যক্রমের ধারা কীভাবে সচল রাখতে পারে, তা নিয়ে বলা হয়েছে।

আলোচনায় মূল বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ড. আলী রিয়াজ। তিনি এফইএসের জন্য লেখা তার বিশ্লেষণধর্মী নিবন্ধ ‘মহামারীর ভূ-রাজনীতি : বাংলাদেশের চিত্রপট’-এর সারমর্ম তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মহামারী বিশ্বকে প্রভাবিত করে যাচ্ছে। ফলে পৃথিবীর নতুন একটি রূপ দেখতে পাচ্ছি। তিনি বলেন, মহামারী বৈশ্বিক ক্রমবিন্যাসকে পরিবর্তন করবে, সেই সঙ্গে বিশ্বায়নের চরিত্রকেও প্রশ্নবিদ্ধ করবে। একীভবনের নতুন উদাহরণ দেখবে বিশ্ব, জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা প্রশ্নের সম্মুখীন হবেÑ যার উদাহরণ আমরা দেখেছি চীন, যুক্তরাষ্ট্র এবং বর্তমানে দেখছি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মাধ্যমে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক স্থিতিশীল থাকলেও চীনের সঙ্গে বর্তমানে সম্পর্ক উন্নত হচ্ছে। এমন প্রেক্ষাপটে দুটি জিনিস এখন গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমটি হলো অর্থনৈতিক পরিকল্পনা এবং দ্বিতীয়টি শাসনব্যবস্থা। এ দুটি প্রেক্ষাপট ছাড়াও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চলক এখানে ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি মনে করেন। প্রধান চলক হিসেবে সরকারকে উল্লেখ করেন। কেননা সরকারই অর্থনীতির পরিকল্পনা নিয়ন্ত্রণ করে। দ্বিতীয় চলক ব্যবসা খাত। তিনি বিরোধী শক্তির কথাও বলেন, যদিও বাংলাদেশে সরকারবিরোধী শক্তিশালী কোনো শক্তির অবস্থান দেখা যায় না। চীন সামনের বছরগুলোতে বাংলাদেশের জন্য বড় প্রভাবক হয়ে দাঁড়াবে। তিনি পাবলিক ডিসকোর্সের দুটি উপাদান উল্লেখ করে বলেন- প্রথমত, ভারতবিরোধী মনোভাব বাড়ছে এবং দ্বিতীয়ত, ভূ-রাজনৈতিক আলোচনা দুটি দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে। এর কারণ হিসেবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের অনুপস্থিতিকে উল্লেখ করেন।

অধ্যাপক আমেনা মোহসিন ড. আলী রীয়াজের সঙ্গে একমত পোষণ করে বলেন, মহামারীর কারণে বিশ্ব মেরুকরণ দেখছে, যেখানে জাতিসংঘের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা ব্যর্থ হচ্ছে। ভৌগোলিক কৌশলগত অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ ভারত, চীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সংকটপূর্ণ অবস্থানে আছে।

ড. ফাহমিদা খাতুন চীনের ওপর বাংলাদেশের নির্ভরশীলতা বাড়বে বলে উল্লেখ করে সব দেশের সঙ্গে সাহায্য-অংশীদারত্ব এবং সহায়তার সম্পর্কের ওপর জোর দিয়েছেন।

ড. এম সাখাওয়াত হোসেন টিকা রাজনীতিতে বাংলাদেশের ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করে বলেন, একটি মাত্র দেশের ওপর নির্ভরশীল হয়ে বাংলাদেশ আজ টিকা পেতে ব্যর্থ হয়েছে। এ জন্য প্রয়োজন একাধিক দেশের সঙ্গে সমন্বয় করা।

বদিউল আলম মজুমদার মহামারীকালীন সংকটগুলোর কথা উল্লেখ করে সেই সংকট উত্তরণে সংঘবদ্ধ কার্যক্রমের ওপর জোর দিয়েছেন।

মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী বাংলাদেশের অর্থনীতির বাস্তবতা বিবেচনা করে ভূ-রাজনীতির নীতি গ্রহণ করা উচিত বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি মনে করেন অদূর ভবিষ্যতে চীন বাংলাদেশের ভূ-রাজনীতিতে প্রধান ভূমিকা পালন করবে।

একই সাথে এই আলোচনায় অংশ নিয়ে সাবেক রাষ্ট্রদূত এম শফিউল্লাহ ভারত এবং চীন দুই দেশের সঙ্গেই কীভাবে বাংলাদেশ সমান সম্পর্ক বজায় রাখতে পারে তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশ কখনো সব দেশের সঙ্গে সম্পর্কের সমদূরত্ব বজায় রাখতে পারবে না।

News Courtesy:

http://www.dainikamadershomoy.com/post/314929