Centre for Governance Studies, Dhaka

CGS in the media

বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধে গণতান্ত্রিক পরিবেশ দরকার

Press clipping reproduced from the original publication, as archived on the CGS website.

বিচারবহির্ভূত হত্যা বন্ধে দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফেরানোর পাশাপাশি জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে হবে। এটা বন্ধে আইনের শাসন জরুরি। বিদেশি রাষ্ট্রের দেওয়া নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে বিচারবহির্ভূত হত্যা বন্ধ সম্ভব নয়।

বুধবার সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত 'বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড : বেহাল গণতন্ত্র, প্রশ্নবিদ্ধ আইনের শাসন' শীর্ষক ওয়েবিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। সিজিএসের নির্বাহী পরিচালক জিল্লুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ড. মনজুর আহমেদ চৌধুরী।

আলোচনায় অংশ নিয়ে সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড কারও কাম্য নয়। নানা কারণে ঘটনাগুলো ঘটে যায়। ২০১৫ সালে অগ্নিসন্ত্রাস করে মানুষ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হচ্ছিল। তখন পুলিশ ও র্যাব ভালো ভূমিকা রেখেছে। এ জন্য বহু পুলিশকে পুরস্কৃত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আবার অন্যায়ের জন্য অনেকের শাস্তি হয়েছে। সন্ত্রাসীদের দমন করার জন্য পুলিশ-র্যাব অনেক সময় অনেক কিছুই করেছে। কখনও কখনও হত্যাকাণ্ড ঘটেছে রাজনৈতিক কারণে। বিএনপির শাসনামলে রংপুরে শ্রমিক নেতা আবুল কালাম আজাদকে জেল থেকে বের করে হত্যা করা হয়েছে। অশান্ত পরিস্থিতি নিয়ে কখনও উন্নয়ন হয় না। শুধু কথা বলে উন্নয়ন হয় না। কথা বলার অধিকারের পাশাপাশি উন্নয়নও প্রয়োজন।

গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক ড. রেজা কিবরিয়া বলেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ আদেশগুলো এক জায়গা থেকে আসে। হত্যাকাণ্ডের যে প্যাটার্ন তা সরকারের ক্ষমতায় থাকার একটা ইন্সট্রুমেন্ট। নিষেধাজ্ঞার পর সরকারের প্রতিক্রিয়া খুবই হতাশাজনক। যাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে তাদের বিষয়ে সরকার তদন্ত করেনি, ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। উল্টো তাদের পুরস্কৃত করেছে। এসব থেকে সন্দেহ হয় এমন হত্যাকাণ্ডের পেছনে সরকার আছে।

বিএনপির সাবেক এমপি জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বাংলাদেশের ৫০ বছরের ইতিহাসে যা ঘটেছে তার দায়িত্ব দেশ পরিচালনায় থাকা রাজনীতিবিদদের নিতে হবে। বিচারবহির্ভূত হত্যার বিষয়ে এখন আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশকে আসামির কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে।

জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণ পরিষদের (জানিপপ) চেয়ারম্যান অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ বলেন, যারা তদন্তের দায়িত্বে আছেন তারা যেন আইন হাতে তুলে না নেন।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী কমিটির মহাসচিব নূর খান লিটন বলেন, গত ৩ বছরে ৫৯০ জনের মতো মানুষ বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর শিকার হয়েছেন। মেজর সিনহা হত্যাকাণ্ডের পর দুই মাসে মাত্র একটি হত্যা ঘটে। সেটা একটা বিরতি ছিল মাত্র। কারণ মেজর সিনহার পেশাগত সহকর্মীদের প্রতিক্রিয়া ছিল। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পর অপরাধীদের পুলিশের ওপর গুলির ঘটনা কমে গেছে! আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনাও কমে গেছে। গত ১০ বছরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পদকপ্রাপ্ত অধিকাংশের বিরুদ্ধে ক্রসফায়ার বা হেফাজতে মৃত্যুর অভিযোগ রয়েছে। আগে এমন অভিযোগে প্রমোশন বন্ধ হয়ে যেত।

সিজিএস চেয়ারম্যান মনজুর আহমেদ চৌধুরী বলেন, স্বাধীনতা-উত্তর সময়েও বাংলাদেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হয়েছে। এরপর ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর অপারেশন ক্লিনহার্টের সময় বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। তখনকার এই কাজে জড়িত যৌথবাহিনীকে বিচারের আওতায় আনা হয়নি। বর্তমান সরকারও ক্ষমতায় এসে এসব ঘটনার বিচার করেনি।

News Courtesy:

https://samakal.com/capital/article/220298083/%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%9A%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AD%E0%A7%82%E0%A6%A4-%E0%A6%B9%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%A3%E0%A7%8D%E0%A6%A1-%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A7%E0%A7%87-%E0%A6%97%E0%A6%A3%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%95-%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%B6-%E0%A6%A6%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0