Centre for Governance Studies, Dhaka

CGS in the media

বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধে প্রয়োজন জনগণের ক্ষমতায়ন

Press clipping reproduced from the original publication, as archived on the CGS website.

সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের (সিজিএস) ওয়েবিনারে আলোচকরা বলেছেন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধে প্রয়োজন জনগণের ক্ষমতায়ন। একই সাথে রাষ্ট্রযন্ত্রকে বেরিয়ে আসতে হবে বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে। গতকাল সিজিএসের ওয়েবিনারের এই আলোচনায় অংশ নেন সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান এমপি, বিএনপির সাবেক এমপি জহির উদ্দিন স্বপন, বাংলাদেশ গণ অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক ড. রেজা কিবরিয়া, জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণ পরিষদের (জানিপপ) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ এবং আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী কমিটির মহাসচিব মো: নূর খান।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন সিজিএস চেয়ারম্যান ড. মনজুর আহমেদ চৌধুরী এবং সঞ্চালনা করেন সিজিএসের নির্বাহী পরিচালক জিল্লুর রহমান।

সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান এমপি বলেন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড কারো কাম্য নয়, তারপরও ঘটনাগুলো ঘটছে, যা নিন্দনীয়, অগ্রহণযোগ্য। তিনি আরো বলেন, জনগণের শান্তির জন্য সন্ত্রাসীদের দমনে কখনো কখনো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটছে। কারণ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ভয়ে কেউ সাক্ষী দিতে চায় না তার ফলে তাদের বিচারের আওতায় আনা যায় না। তিনি আরো বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য ক্ষমতাশীল দল ও ক্ষমতার বাইরে থাকা উভয়ই দলকে গণতন্ত্র চর্চা ও গণতান্ত্রিক মনোভাব পোষণ করতে হবে।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছরের পরও যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে তার দায়ভার রাজনীতিবিদদেরই নিতে হবে। রাজনীতির মধ্যে যে সমস্যা রয়েছে তা রাজনীতির মাধ্যমেই সমাধান করতে হবে। রাজনৈতিক কর্তৃত্ববাদী মনোজগৎ থেকে বের হয়ে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার চর্চার মাধ্যমে মৌলিক সংস্কার করে এ নাজুক পরিস্থিতি থেকে বের হতে হবে। তিনি আরো বলেন, মানবাধিকার উন্নয়নে রাষ্ট্রের মালিক হিসেবে জনগণের কাছে জবাবদিহিতার বিধান নিশ্চিত করতে হবে।

ড. রেজা কিবরিয়া বলেন, সরকারের বিশেষ অনুরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যারা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত সরকার তাদের পুরস্কৃত করছে। তিনি আরো বলেন, এ দেশে অনেক বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো অন্যায় হয়েছে যার তদন্ত হয়নি, কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কেন্দ্রীভূত শাসনব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ আদেশগুলো এক জায়গা থেকেই আসে।

অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ বলেন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিষয়গুলো উদ্ঘাটন করেই ক্ষান্ত হওয়া যাবে না। বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে আমাদের সবাইকে বের হয়ে আসতে হবে।

মো: নূর খান বলেন, গত তিন বছরে ৫৯০-এর মতো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সবচেয়ে বেশি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হয়েছে কক্সবাজারে। সাবেক কমিশনার একরামুল হকের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডটি জীবন্ত উল্লেখ করে তিনি বলেন, তার পরিবার এ হত্যাকাণ্ডের বিচার পায়নি, বিভিন্ন হয়রানির স্বীকার হচ্ছে, ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। সরকার বা আইনশৃঙ্খলার পক্ষ থেকে কোনো ধরনের আশ্বাস পাওয়া যায়নি। তিনি আরো বলেন, প্রত্যেকটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দেশের প্রচলিত আইনে বিচারের আওতায় আনতে হবে।

সাবেক রাষ্ট্রদূত এম শফিউল্লাহ বলেন, মানবাধিকার ইস্যুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অবস্থান বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক কে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য ব্যতীত বাংলাদেশ কিভাবে সামনের দিক এগিয়ে যাবে তা ও ভাবার বিষয়।

অনুষ্ঠানে জিল্লুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের জন্ম গণতন্ত্রের আকাক্সক্ষা নিয়ে। কিন্তু নানাবিধ কারণে গণতন্ত্র বিকশিত হচ্ছে না। বিচারিক প্রক্রিয়া পাশ কাটিয়ে বিচারের আগেই অনেকেই প্রাণ দিচ্ছেন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়ে। তাতে ভয়ের আবহ সষ্টি হচ্ছে। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের (সিজিএস) একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ৫৯২টি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

সভাপতির বক্তৃতায় ড. মনজুর আহমেদ চৌধুরী বলেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতির জন্য প্রধান দুই রাজনৈতিক দলই দায়ী। বিচারহীনতার সংস্কৃতি সেই স্বাধীনতার পর থেকেই চলে আসছে। সম্প্রতি র্যাবের বিরুদ্ধে আমেরিকার নিষেধাজ্ঞার কথা তুলে তিনি বলেন, এর জন্য কয়েকজন ব্যক্তি নয় জাতি ও রাষ্ট্র ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বর্তমান আইনশৃঙ্খলার অবনতির কথা উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, দেশ এখন মাৎস্যন্যায় যুগে প্রবেশ করেছে।

News Courtesy:

https://www.dailynayadiganta.com/last-page/646089/%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%9A%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AD%E0%A7%82%E0%A6%A4-%E0%A6%B9%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%A3%E0%A7%8D%E0%A6%A1-%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A7%E0%A7%87-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%9F%E0%A7%8B%E0%A6%9C%E0%A6%A8-%E0%A6%9C%E0%A6%A8%E0%A6%97%E0%A6%A3%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A6%AE%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A7%9F%E0%A6%A8?fbclid=IwAR1EOWS6XqQrYQtg-ktNIKV6I4WCnYY6LM1yt0da8kI16SFgVXdbbaehwQc