সংবিধানের যেকোনো ধরনের সংস্কার কার্যক্রম বাহাত্তরের মূল সংবিধানকে কেন্দ্র করেই পরিচালিত হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি জানান, সংবিধান সংস্কারের প্রক্রিয়ায় যেসব পরামর্শ বা মতামত আসবে, তার মধ্যে বাস্তবসম্মত ও গ্রহণযোগ্য বিষয়গুলো অবশ্যই সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হবে।
আজ সোমবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘নির্বাচন-পরবর্তী বাংলাদেশ: রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতা’ শীর্ষক এক সংলাপে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। আইনমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে সংবিধানের ধারাবাহিকতা রক্ষার ওপর বিশেষ জোর দেন।
সংবিধান সংস্কারের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে আসাদুজ্জামান বলেন, "অনেকে বলেছিলেন বাহাত্তরের সংবিধান ছুড়ে ফেলে দিতে হবে। তবে সংবিধান সংস্কার বিষয়ে যা কিছুই করা হোক না কেন, বাহাত্তরের সংবিধান সামনে রেখেই এগিয়ে যেতে হবে। কারণ বাহাত্তরের সংবিধান এখনো বলবৎ আছে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সংস্কারের ক্ষেত্রে কোনো আবেগতাড়িত সিদ্ধান্ত নয়, বরং বাস্তবভিত্তিক চিন্তার প্রতিফলন ঘটানো প্রয়োজন।
মতামত গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি জানান, "সংবিধান সংস্কারে যারা মতামত দেবেন, সেসব বিবেচনায় নিয়ে গ্রহণযোগ্য হলে তা গ্রহণ করা হবে। সংবিধান ও সংস্কার নিয়ে বাস্তবসম্মত চিন্তা করতে হবে।"
অনুষ্ঠানে সরকারের জবাবদিহিতা ও গঠনমূলক সমালোচনার গুরুত্ব নিয়েও খোলামেলা কথা বলেন আইনমন্ত্রী। তিনি মনে করেন, শাসনব্যবস্থাকে ত্রুটিমুক্ত রাখতে সমালোচনা অপরিহার্য। মন্ত্রীদের কাজের তদারকি ও সমালোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "মন্ত্রীদের তোপের মুখে না রাখলে সরকার সঠিক পথে চলতে পারবে না।" সরকারের স্তুতি গাওয়ার চেয়ে ভুল ধরিয়ে দেওয়াকে তিনি অধিক গুরুত্ব প্রদান করেন।
মন্ত্রীর মতে, গঠনমূলক সমালোচনা সরকারকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে। এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, "সরকারের স্তুতি করা উচিত নয়। তোপের মুখে রাখা বা সরকারের সমালোচনা করাকে সরকার ইতিবাচকভাবে দেখে। তবে এ ক্ষেত্রে ভাষা প্রয়োগে সচেতনতা কাম্য।"
উক্ত সংলাপে দেশের নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হয়। আইনমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে এটি পরিষ্কার করেছেন যে, সংবিধানের আধুনিকায়ন বা সংস্কার যা-ই হোক না কেন, তার মূল ভিত্তি হবে বাহাত্তরের সংবিধান। সংলাপে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
News Courtesy: