জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন ঢাকায় ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট চ্যাটারটন ডিকসন। গতকাল বুধবার ঢাকায় দক্ষিণ এশিয়ার পরিপ্রেক্ষিতে আসন্ন জলবায়ু সম্মেলন (কপ-২৬) বিষয়ক এক ওয়েবিনারে তিনি বলেন, জলবায়ুঝুঁকি মোকাবেলায় অগ্রণী ভূমিকা রাখছে বাংলাদেশ। বেসরকারি সংস্থা সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) ওই ওয়েবিনার আয়োজন করে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্রিটিশ হাইকমিশনার ডিকসন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ঝুঁকি মোকাবেলায়, বিশেষ করে অভিযোজন ও প্রশমনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালন করছে। কয়লা ক্ষেত্রে কার্বন নির্গমন রোধে বাংলাদেশ যে ভূমিকা নিয়েছে তা উদাহরণযোগ্য। ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ তার লক্ষ্য অনুযায়ী কার্বন নির্গমনে শূন্যের কোঠায় পৌঁছাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ব্রিটিশ হাইকমিশনার বলেন, সুন্দরবনকে রক্ষা করা বাংলাদেশের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। কেননা এটি যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করে।
পরিবেশবিজ্ঞানী ও সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক ড. আতিক রহমান আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, কভিড পরিস্থিতির কারণে বিশ্বের ৫ থেকে ২০ শতাংশ দেশ আসন্ন কপ-২৬ সম্মেলনে উপস্থিত থাকতে পারবে না। বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে এ সম্মেলনে অংশ নিচ্ছে, এটিই বড় কিছু।
অনুষ্ঠানে ড. আতিক বাংলাদেশের প্রস্তাবিত ১০০টি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলকে জলবায়ুসহিষ্ণু করার পরামর্শ দেন। ওয়েবিনারে আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন, পরিবেশ আইনবিদ ও বেলার প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, আইইউসিএন বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সদস্যসচিব স্থপতি ইকবাল হাবিব, সিজিএসের চেয়ারম্যান ড. মনজুর আহমেদ চৌধুরী প্রমুখ। সিজিএসের নির্বাহী পরিচালক জিল্লুর রহমান ওয়েবিনার সঞ্চালনা করেন।
News Courtesy: