Centre for Governance Studies, Dhaka

CGS in the media

ফ্যাসিস্ট রেজিম একা ফ্যাসিস্ট হয় না,রাতারাতি সমাধানও হয় না: রিজওয়ানা

Press clipping reproduced from the original publication, as archived on the CGS website.

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, ‘একটা ফ্যাসিস্ট রেজিম একা একা ফ্যাসিস্ট হয় না। সে সঙ্গে বিচার বিভাগ, ব্যুরোক্রেসি, পুলিশ প্রশাসনকে নেয়। এমনকি সে গণমাধ্যমকেও নেয়। বুদ্ধিজীবীদেরও সঙ্গে নেয়। সবাইকে সঙ্গে নিয়েই তো একটা ফ্যাসিস্ট রেজিম গড়ে ওঠে।’ 

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ মিলনায়তনে আজ শনিবার সকালে আয়োজিত এক গোল টেবিল বৈঠকে এ কথা বলেন তিনি। 

সৈয়দা রিজওয়ানা বলেন, ‘বাস্তাবতার কথা বললে, আমি কেন মনে করব আমার স্বপ্ন আপনাদের স্বপ্ন থেকে ভিন্ন? আমরা কিছু লোক দায়িত্ব পেয়েছি, কেউ পাইনি, কিন্তু মোটা দাগে স্বপ্ন ভিন্ন হওয়ার কারণ দেখতে পাই না। এখন সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দেড় মাস সময় লাগবে, নাকি দেড় বছর লাগবে, দেড় যুগ লাগবে সেটা বোঝা যাবে আপনি কতটা সূক্ষ্ম স্বপ্নের দিকে নিয়ে যেতে চান। আমি যেটা বুঝি সমাজের প্রতিটা জায়গায় যেভাবে ফ্যাসিবাদের দোসররা গ্রথিত হয়ে আছে, সেটা ওভার নাইট একটা টান দিয়ে সমাধান করা সম্ভব না।’ 

রাষ্ট্র সংস্কার প্রসঙ্গে এ উপদেষ্টা বলেন, ‘এটা আমার নিজের মতামত সরকারের ভাষ্য হিসেবে নেবেন না। যেমন ধরেন,আপনি পুলিশ প্রশাসন সম্পর্কে একটা বিস্তারিত সংস্কার করলেন। ধরলাম, সংস্কার হলো, প্রস্তাব পাস হলো, আমরা সকলে একমত হলাম। এটা বাস্তবায়ন করবে কারা? যে লোকগুলো বাস্তবায়ন করবে তারা তো প্রায় সবাই রয়ে যাচ্ছে। এখন ধরেন ওপর থেকে আপনি ডাইরেক্ট দোসর ভেবে সরাতে পারলেন। কিন্তু বাকি যে বাস্তবায়ন করবে, সেই দায়িত্বে থাকবে কারা? পুলিশ থেকে সরে আসি, আমাদের সাধারণ মানুষে আসি: দীর্ঘদিন ফ্যাসিজমের আবহে থেকে থেকে আমরা কি চিন্তা চেতনায় যথেষ্ট মুক্ত ও স্বাধীন? এই জায়গায়ও একটা বড় চিন্তার ব্যাপার আছে। আমরা সংস্কার করে দিয়ে গেলেও মুক্তভাবে স্বাধীনভাবে অনেকেই ভাবতে পারি? নাকি এভাবেই অ্যাডজাস্ট করে সমাজে চলতে হবে? এটা আমাদের আচরণে চলে এসেছে। ফলে নিয়মে কাগজে সংস্কার করা সম্ভব। এখনো বাংলাদেশে যে আইন কানুন আছে সেগুলো যদি জনস্বার্থে প্রয়োগ হতো, তাহলে হয়তো এই অসহায়ত্বের মধ্যে আমরা পড়তাম না।’ 

বর্তমান সময়ে রাষ্ট্র নিয়ে নিজের স্বপ্ন সম্পর্কে সৈয়দা রিজওয়ানা বলেন, ‘আমার কাছে স্বপ্ন হচ্ছে ব্যক্তি পর্যায়ের স্বাধীনতা, পেশাগত পর্যায়ে স্বাধীনতা, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে স্বাধীনতা। আজকে যে কথাগুলো বলতে পারলেন, কত দিন আগে তো বলতে পারেননি। আমার বড় কথা হলো স্বপ্ন যেন ছোট না হয়। অনেক দিন দলীয় অপশাসন ফ্যাসিবাদের মধ্যে থেকে থেকে কতগুলো জিনিস সমাজে নর্মস হিসেবে ধরে নিয়েছি, কিন্তু সেগুলো হতে পারে না।’ 

তিনি বলেন, ‘নিজেদের আমাদের বোঝাতে হবে যে, সত্যিকার অর্থে আদর্শ রাষ্ট্রের জন্য যাত্রা শুরু করতে পারি। একটা আদর্শ রাষ্ট্র পাওয়া দেড় বছর দুই বছর সময়ের ব্যাপার না। যাত্রাটা আমাদের যেন দৃঢ়ভাবে শুরু হয়। মত প্রকাশের স্বাধীনতা যেমন চাই চিন্তার স্বাধীনতাও তেমন চাই। সবচেয়ে বড় স্বাধীনতা হচ্ছে আমি আমার বিচার পাব। এমন একটা সমাজ চাই যেখানে সময় মতো বিচার হবে। অনুরোধ থাকবে, কথা যেহেতু বলতে পারছি, যত সমালোচনা করা যায় করি কিন্তু ফোকাস যেন নষ্ট না হয়ে যায়।’ 

‘দুঃসময়ের কণ্ঠস্বর: তাদের স্বপ্ন ও বাস্তবতা’ শীর্ষক গোল টেবিল দ্য এশিয়া ফাউন্ডেশন, সেভেনটি ইয়ারস ইন বাংলাদেশ ওয়ার্কিং টুগেদার রিয়ালাইজিং পটেনশিয়াল, সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজের আয়োজনে গোল টেবিল বৈঠকে স্বাগত বক্তব্য দেন সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজের (সিজিএস) নির্বাহী পরিচালক জিল্লুর রহমান। ‘দুঃসময়ের কণ্ঠস্বর: তাদের স্বপ্ন ও বাস্তবতা’ শীর্ষক এই আয়োজনে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নির্যাতিত ও নিপীড়িত মানুষেরা তাঁদের কথা এবং নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন তুলে ধরেন। 

আয়োজনে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক এবং নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘আজকের বাস্তবতায় আমরা এখনো প্রতিকূলতার সম্মুখীন হচ্ছি বিভিন্নভাবে। অনেক রকম অপপ্রচার অবিচারের স্বীকার হচ্ছি এখনো। আমি বলতে চাই, আজকে আমাদের অপূর্ব সুযোগ। অন্তর্ভুক্তিকরণের পরিবর্তে বিভক্তির রাজনীতি যদি করি অবশ্যই আমাদের দায়বদ্ধ করতে হবে। আমাদের একে অপরকে টেনে নামানোর প্রবণতা যদি বন্ধ না করি তাহলে এই সম্ভাবনা বাস্তবে রূপায়িত করা হবে না। আমাদের সবারই যার যার জায়গা থেকে ক্ষমতা আছে। এটা আমরা কীভাবে ব্যবহার করি। ক্ষমতার অপব্যবহার যাতে না হয় তার জন্য নজরদারি থাকতে হবে।’ 

বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান বলেন, ‘মানুষটা ভালো হতে হবে। ভালো মানুষের রাজনীতিতে আসতে হবে। আপনি খারাপ মানুষ এনে যেই সংস্কারই করেন, আমরাই সিস্টেমকে দুর্নীতিগ্রস্থ করে ফেলব। আর ভালো মানুষ হলে খারাপ সিস্টেমের মধ্যেও ভালো কিছু করবে। এই ভালো মানুষ আসার সুযোগ করে দিতে হবে।’ 

এ ছাড়া আরও নানা পেশাজীবী ও শিক্ষার্থীরা গোল টেবিল বৈঠকে বক্তব্য দেন। বক্তব্য দেন ফেমার প্রেসিডেন্ট মুনিরা খান, দ্য এশিয়া ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ কাজী ফয়সাল বিন সিরাজ, অধিকার–এর পরিচালক এ এস এম নাসিরুদ্দিন এলান, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকী, গণঅধিকার পরিষদের প্রেসিডেন্ট নুরুল হক নুরু, রাজনীতি বিশেষজ্ঞ ড. জাহেদুর রহমান, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মাসুদ কামাল, এএফপি বাংলাদেশের ফ্যাক্ট চেক এডিটর কদরুদ্দিন শিশির, ডিএসএ ভিকটিম নেটওয়ার্কের সদস্য দিদারুল ইসলাম ভুইয়া, জবান–এর সম্পাদক রেজাউল করিম রনি, সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর (অব.) রেজাউল করিম, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মুক্তাদির রশিদ, ইউপিডিএফ–এর সংগঠক মাইকেল চাকমা, সাংবাদিক এম ইউ মিমি মারমা মিমি, বাংলাদেশ সেন্টার ফর ওয়ার্কার্স সলিডারিটির নির্বাহী পরিচালক কল্পনা আক্তার, জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্য প্রীতম দাশ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী খাদিজাতুল কুবরা, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক উমামা ফাতেমা এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের লিয়াজোঁ সমন্বয়ক মামুন আব্দুল্লাহি।

News Courtesy:

https://www.dailykhabor24.com/country/fascist-regimes-are-not-fascist-alone-they-are-not-solved-overnight-rizwana/40806