পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, জুলাই বিপ্লবের স্বপ্নকে ধারণ করেই সংস্কার আসবে। ক্ষমতার ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা আসবে বলে মনে করি। ফ্যাসিবাদের দোসররা সব জায়গায় আছে, বিভ্রান্ত না হয়ে আমরা সবাই মিলে কাজ করতে চাই। সকল স্তরের, সকলের প্রচেষ্টার মাধ্যমেই এই আন্দোলন সফল হয়েছে।
এই আন্দোলনের ফসল যেন আমাদের ঘরে ঢোকে, এই ব্যবস্থা আমাদের করতে হবে। সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘দুঃসময়ের কণ্ঠস্বর: তাঁদের স্বপ্ন ও বাস্তবতা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় গতকাল তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, আমি আমার দুঃস্বপ্নের কথা কখনো বলিনি। এর পেছনের কারণ হলো, আমি সঠিক বিচার পাব না। আমার চেয়েও কষ্টের মধ্যে অনেকে গেছেন। আমি আমার স্বজনকে ফিরে পেয়েছি, কিন্তু অনেকে তাও পাননি। একটা ফ্যাসিস্ট সরকার একা কাজ করে না, সংবাদমাধ্যম, প্রশাসন সঙ্গে নিয়ে কাজ করে। আমাদের সবার স্বপ্ন ভিন্ন নয়। সংস্কার করা সম্ভব। জনস্বার্থেই সংস্কার করা প্রয়োজন। আমার মতে, সবচেয়ে বড় স্বাধীনতা হচ্ছে বিচার পাওয়া। আমরা এমন একটা সমাজ চাই, যেখানে সময়মতো বিচার হবে। আমরা সমালোচনা করি তবে ফোকাস যেন নষ্ট না হয়। আমরা যেন সব কথা বলি, শুনি, বিবেচনা করি।
আলোচকদের মধ্যে আরও ছিলেন, সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস)-এর পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ও ফেয়ার ইলেকশন মনিটরিং অ্যালায়েন্স (ফেমা)-এর সভাপতি মুনিরা খান, এশিয়া ফাউন্ডেশনের বাংলাদেশ প্রতিনিধি কাজী ফয়সাল বিন সিরাজ, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক এবং নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদার, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি)-এর চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ, ডিএসএ ভিকটিমস নেটওয়ার্কের সদস্য দিদারুল ইসলাম ভূঁইয়া, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর, সিনিয়র সাংবাদিক মো. মুক্তাদির রশীদ, জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্য প্রীতম দাস, জোবান-এর সম্পাদক রেজাউল করিম রনি, বরখাস্তকৃত সাবেক সামরিক কর্মকর্তা মেজর রেজাউল করিম, নাগরিক ঐক্যের নেতা রাজনৈতিক বিশ্লেষক ডা. জাহেদ উর রহমান, সিনিয়র সাংবাদিক মাসুদ কামাল, ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের সংগঠক মাইকেল চাকমা, আইপিনিউজ বিডি-এর বিশেষ প্রতিবেদক উ মিমি মারমা মিমি, বাংলাদেশ সেন্টার ফর ওয়ার্কার্স সলিডারিটি-এর নির্বাহী পরিচালক কল্পনা আক্তার, এএফপি বাংলাদেশ-এর ফ্যাক্ট চেক সম্পাদক কদরউদ্দিন শিশির, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী খাদিজাতুল কুবরা, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক উমামা ফাতেমা এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের লিয়াঁজো কমিটির সমন্বয়ক মামুন আবদুল্লাহ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সিজিএস-এর নির্বাহী পরিচালক জিল্লুর রহমান।
ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, এই আন্দোলনের মাধ্যমে বিরাট সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন হয়েছে। সকল স্তরের, সকলের প্রচেষ্টার মাধ্যমেই এই আন্দোলন সফল হয়েছে। এই আন্দোলনের ফসল যেন আমাদের ঘরে ঢোকে এই ব্যবস্থা আমাদের করতে হবে। সবাইকে ভূমিকা পালন করতে হবে, নাহলে প্রত্যাশা অপূর্ণ রয়ে যাবে। থেমে থাকা যাবে না। আমাদের সামনে অপূর্ব সুযোগ পরিবর্তন আনার। যদি বিভক্তির রাজনীতি করি অন্তর্ভুক্তির বদলে, টেনে নামানোর রাজনীতি থেকে বের না হই, তবে সকল সম্ভাবনা নষ্ট হয়ে যাবে। ক্ষমতার ব্যবহার, অপব্যবহার উভয়ের পার্থক্য বুঝতে হবে। নৈতিকতাবোধের অভাব আমাদের যেই ক্ষমতাই থাকুক অপব্যবহার করতে বাধ্য থাকবে।
News Courtesy: