রমজান আলী : নির্বাচন যাতে প্রশ্নবিদ্ধ না হয় সেই জন্য নির্বাচন কমিশনের উচিত নির্বাচনের একটি সুন্দর পরিবেশ তৈরি করা। কিন্তু এখন পর্যন্ত দেখছি নির্বাচন কমিশন সুন্দর পরিবেশ তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছে। এভাবে যদি চলতে থাকে তাহলে কোনভাবেই নির্বাচন সুষ্ঠু করতে পারবে না নির্বাচন কমিশন।
গতকাল রাজধানীর বিআইআইএসএস মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘একটি মানসম্মত নির্বাচনের জন্য করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আতাউর রহমান ও সঞ্চালনা করেন (সিজিএস) নির্বাহী পরিচালক জিল্লুর রহমান এবং মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন ব্যারিস্টার মঞ্জুর হাসান, নির্বাহী পরিচালক, শান্তি ও বিচার কেন্দ্র, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি। মূল প্রবন্ধ তুলে ধরে বক্তারা বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে অনেক সংশয় রয়েছে। নির্বাচন হবে কি না? হলেও কিভাবে হবে তার কোন নিদিষ্ট পরিকল্পনা দেখছি না। বর্তমানে যে পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে তাতে বড় ধরনের সহিংসতা ঘটতে পারে। তাই নির্বাচন কমিশনের উচিত সক্রিয়ভাবে কাজ করা।
প্রধান অতিথি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এম হাফিজ উদ্দিন। তিনি বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু করতে হলে আইনে শাসন সঠিকভাবে প্রতিষ্ঠাতা করতে হবে। তা ছাড়া কোন দিনই নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু করতে পারবে না। যদি সুষ্ঠু নির্বাচন করতে ব্যর্থ হয় তাহলে তাদের আইনের কাঠ গড়ায় দাঁড়াতে হবে।
সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘এই যে মারামারি, একজন প্রার্থী গুলিবিদ্ধ, এটা বিবেচ্য না, তিনি কোন দলের। তবে নির্বাচন কমিশনের যে দায়িত্ব, সেটি তারা প্রয়োগ করেননি, করবেন বলেও মনে হয় না।
বক্তরা আরো বলেন, নির্বাচনের পরে ভয়াবহ পরিস্থিতি হতে পারে। তার জন্য নির্বাচন কমিশন কি পদক্ষেপ নিবেন তার কোন পরিকল্পনা দেখছি না। সারাদেশে যেভাবে সহিংসতা শুরু হয়েছে, তা এভাবে চলতে থাকলে ভোটাররা ভোট দিতে সেন্টারে যাবে না। বর্তমান পরিস্থিতিতে ভোটাদের মাঝে এক ধরনের আতঙ্ক রয়েছে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সাবেক প্রধান তথ্য কমিশনার মুহাম্মদ জমির, সাবেক সচিব এ এইচ মোফাজ্জল করিম বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ডালি, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ আব্দুল মজিদ, ব্রতীর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন মুরশিদ, ফেমার প্রেসিডেন্ট মুনিরা খান, সাবেক প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকী, বিএনপির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক সহকারী সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ড. মামুন আহমেদ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল লতিফ মাসুম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাহাব এনাম খান, পুলিশের সাবেক মহাপরির্দশক এম ইনামুল হক, সেন্টার ফর গভর্নেন্সের ভাইস চেয়ারম্যান ড. মানজুর আহমেদ চৌধুরী প্রমুখ।
News Courtesy: http://amaderorthoneeti.com