Centre for Governance Studies, Dhaka

CGS in the media

নির্বাচন বাংলাদেশের নিজস্ব বিষয়, বিদেশিদের নয় : তুরস্কের রাষ্ট্রদূত

Press clipping reproduced from the original publication, as archived on the CGS website.

বাংলাদেশের আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রক্রিয়া বাংলাদেশের নিজস্ব ও অভ্যন্তরীণ বিষয়, বিদেশিদের নয়- এমনটাই মনে করে তুরস্ক। তবে বন্ধুদেশ হিসেবে তুরস্ক মনে করে, বন্ধুরাষ্ট্র ও উন্নয়ন সহযোগীরা মতামত দিচ্ছেন। তারা অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছেন না।

আজ বুধবার সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত মিট দ্য অ্যাম্বাসাডর অনুষ্ঠানে ঢাকায় নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত মোস্তফা ওসমান তুরান এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সিজিএসের নির্বাহী পরিচালক জিল্লুর রহমান।

অনুষ্ঠানে তুরস্কের রাষ্ট্রদূতের কাছে বিশিষ্টজনরা ঘুরেফিরে নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রশ্ন করেন। তিনিও জবাব দেন কূটনৈতিক কৌশলে। এক প্রশ্নের জবাবে নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সংলাপের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের চেষ্টা করছে বাংলাদেশ সরকার। নির্বাচন কমিশন চেষ্টা করছে যাতে বিরোধী দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। গণতন্ত্রের প্রধান দায়িত্ব সরকারের হলেও এখানে বিরোধী দলেরও দায়িত্ব আছে। সরকার একা প্রয়োজনীয় সবকিছু করতে পারে না। রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের মতপার্থক্য নিরসনে ভূমিকা রাখতে হবে।

বিরোধী দল অংশ না নিলে বাংলাদেশ অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করার সুযোগ হারাবে বলেও মনে করেন তুরস্কের রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, নির্বাচন প্রস্তুতি যে কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। একটি দেশ তখনই এগিয়ে যায়, যখন দেশটি নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ের দায়িত্ব নেয়।

এক প্রশ্নের জবাবে বিদেশিদের কাছে ধরনা না দিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে আলোচনায় বসার পরামর্শ দিয়ে তুরস্কের রাষ্ট্রদূত বলেন, নির্বাচন প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূতদের কাছে বলার চেয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করাই ভালো।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশে এমন কোনো রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা নেই, যেটি দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে কমিয়ে দেবে। পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশেও গণতন্ত্র ও মানবাধিকার নিয়ে সমস্যা আছে বলেও তিনি জানান।

তুরস্ক বাংলাদেশে তাদের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বহুমুখী করার পরিকল্পনা করছে জানিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, তারা বাংলাদেশকে একটি বিশ্বস্ত উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে দেখে এবং এটি এ অঞ্চলে তাদের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে সম্পর্ক আস্থার ভিত্তিতে এবং তারা বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারিত্ব আরও সম্প্রসারিত করার অপেক্ষায় রয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত জানান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানকে ঢাকা সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আগামী বছর তুরস্কের জাতীয় নির্বাচনের পর যে কোনো সময়ে তিনি ঢাকা সফর করবেন।

এ সময় বিশ্ব দরবারে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি যেন গুরুত্ব না হারায় এজন্য আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা ও দেশের সঙ্গে অব্যাহতভাবে তুরস্ক কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশে জ্বালানি সরবরাহে ট্রানজিট দেশ হতে পারলে খুশি হবে তুরস্ক

এক প্রশ্নের জবাবে তুরস্কের রাষ্ট্রদূত বলেন, তুরস্ক জ্বালানি সম্পদের দেশ নয়। সুতরাং, আমরা শক্তি সরবরাহের জন্য উৎস দেশ নই, বরং আমরা একটি ট্রানজিট দেশ। রাশিয়ান ফেডারেশন জানিয়েছে, তারা ইউরোপে তেল ও গ্যাস রপ্তানির জন্য তুরস্ককে একটি জ্বালানি কেন্দ্র হিসেবে দেখতে চায়। বাংলাদেশের জন্য তা যদি সম্ভব হয় এবং তাদেরকে একটি ট্রানজিট দেশ হিসেবে ভূমিকা পালন করতে হয়, তাহলে তা করতে তারা যথেষ্ট খুশি হবেন।

বাংলাদেশকে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা দিতে রাজি তুরস্ক

তুরস্কের রাষ্ট্রদূত মোস্তফা ওসমান তুরান জানান, বাংলাদেশকে আরও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা দিতে চায় তুরস্ক। এ জন্য তারা প্রযুক্তি হস্তান্তর করতেও রাজি।

বাংলাদেশ তুরস্ক থেকে ড্রোন ও এপিসি কিনছে বলে জানান দেশটির রাষ্ট্রদূত। সেনা ও বিমানবাহিনীর পাশাপাশি নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের সঙ্গেও তুরস্ক সহযোগিতা বাড়াবে জানিয়ে তিনি বলেন, শুধু ক্রয়-বিক্রয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। তুরস্কের একটি কোম্পানি বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরিকে শেল বানানোর প্রযুক্তি দিয়েছে এবং সেটি এখানে বানানো হচ্ছে। গত ১৫ বছরে তুরস্কের কোম্পানিগুলো প্রতিরক্ষা পণ্য উৎপাদনে অনেক উন্নতি করেছে। তারা এখন ন্যাটো মানের পণ্য উৎপাদন করছে এবং শর্ত ছাড়া সুলভ মূল্যে এগুলো বিক্রি করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে তুরস্কের প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তা-সংক্রান্ত সমঝোতা আছে। এর আওতায় তুরস্কের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে প্রতিরক্ষা পণ্য কিনতে পারবে বাংলাদেশ।

News Courtesy:

https://kalbela.com/bangladesh/national/z4205qa8kl