Centre for Governance Studies, Dhaka

CGS in the media

নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ চায় ইইউ

Press clipping reproduced from the original publication, as archived on the CGS website.

ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত ও হেড অব ডেলিগেশন চার্লস হোয়াইটলি বলেছেন, বাংলাদেশের আগামী নির্বাচনে সবার অংশগ্রহণ চায় ইইউ। এ ছাড়া নির্বাচন নিয়ে তারা নিজেরা কোনো মন্তব্য না করে জনগণের মতামতে এ নির্বাচন বিশ্লেষণ করতে আগ্রহী। একই সঙ্গে একটি স্বতন্ত্র দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে পরামর্শ দেওয়া ছাড়া আর কিছু করার নেই বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

গতকাল শনিবার সকালে গুলশানে অনুষ্ঠিত সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের অনুষ্ঠানে তিনি এসব বলেন। আগামী নির্বাচনে ইইউ পর্যবেক্ষক পাঠাবে কিনা, এমন প্রশ্নের উত্তরে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমি জানি না। জাতীয় নির্বাচন আরও ১৮ মাস পর এবং এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়নি। সর্বশেষ যৌথ কমিশনের বৈঠকে সরকারের সঙ্গে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন, জলবায়ু পরিবর্তন, বাণিজ্যÑ সবকিছু নিয়েই আলোচনা হয়েছে এবং আমার উত্তর হচ্ছে, আমি কিছু জানি না যে বাংলাদেশের আগামী নির্বাচনে ইইউ থেকে কোনো পর্যবেক্ষক দল থাকবে কিনা।’

আগামী ১০ বছরে বাংলাদেশের সঙ্গে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সম্পর্ক কোন পর্যায়ে দেখতে চান, এমন প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াইটলি বলেন, আগামী ১০ বছরে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন বাংলাদেশে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা বাড়াতে চায়। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই স্বল্পোন্নত দেশে উন্নীত হয়েছে। পরবর্তী ১০ বছর বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠবে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের বাজারকে সাফল্যের ধারা বজায় রাখতে হবে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে ইচ্ছুক বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট নিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও শরণার্থী সংকট রয়েছে। তাই আমরা জানি শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়া কতটা ব্যয়বহুল। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর জন্য ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন তাদের পক্ষ থেকে যতটুকু করার করবে। এ জন্য ভারত, চীনের মতো আঞ্চলিক প্রভাবশালী দেশগুলোকে এক ছাদের নিচে আনতে হবে। মিয়ানমারকে চাপ প্রয়োগ করতে হবে।

রাশিয়া-ইউক্রেন ইস্যু নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন ইস্যুতে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন কূটনৈতিক পদ্ধতি অবলম্বন করছে। ইউরোপে আর কোনো যুদ্ধের বিস্তৃতি ঘটুক, সেটি ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন চায় না বলে তিনি মন্তব্য করেন। যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশ, ভারত এবং চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কে কোনো ধরনের পরিবর্তন ঘটেছে কিনা জানতে চাইলে রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় ভূরাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করতে পারে। একই সঙ্গে চীনও বিশ্বে একটি পরাশক্তি হয়ে উঠেছে। চীনের সঙ্গে কিছু বিষয়ে আদর্শগত ভিন্নতা থাকলেও ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন চীনের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন বাংলাদেশি পোশাকশিল্পের স্থানীয় ব্র্যান্ড তৈরিতে কখনো আগ্রহ প্রকাশ করেছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে চার্লস হোয়াইটলি বলেন, ইতোমধ্যে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সঙ্গে বিজিএমইএর একটি পরিকল্পনা আছে। তবে বাংলাদেশের অবকাঠামোগত নির্মাণশিল্পে তাদের আগ্রহ বেশি। তিনি বলেন, বাংলাদেশের তরুণদের অপার সম্ভাবনা রয়েছে, সেগুলো তারা কাজে লাগাতে চান। তিনি আরও বলেন, পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন বাংলাদেশে প্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাড়াতে চায়।

বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি উন্নয়নে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের কার্যক্রমের কথা জানতে চাইলে রাষ্ট্রদূত বলেন, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এ ব্যাপারে বিস্তৃত পরিসর তৈরি করছে। বাংলাদেশে মানবাধিকারসংক্রান্ত ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের বিভিন্ন কর্মসূচি চলমান রয়েছে বলে তিনি জানান।

রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াইটলি বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবে টিকে থাকতে হলে বাংলাদেশকে প্রযুক্তিবিদ্যার ওপর বিশেষ জোর দিতে হবে। তিনি বাংলাদেশের পর্যটন খাতের অপার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে বলেন, যদি পর্যটন শিল্পের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ঘটানো যায়, তা হলে বাংলাদেশ বিদেশি পর্যটকদের জন্য একটি অন্যতম আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়ে উঠবে। কেবল অর্থনৈতিক উন্নয়নের ওপর জোর না দিয়ে তিনি মানব উন্নয়নের ওপর কাজ করতে বলেন।

News Courtesy:

https://www.dainikamadershomoy.com/post/384695