Centre for Governance Studies, Dhaka

CGS in the media

নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে ইসি

Press clipping reproduced from the original publication, as archived on the CGS website.

দিনকাল রিপোর্ট : সুষ্ঠু ও নিরপে সংসদ নির্বাচন আয়োজন নিয়ে কমিশনের সমতা এবং সদিচ্ছার বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক নির্বাচন কমিশনার, সাবেক সচিব, পুলিশ কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ ও নির্বাচন পর্যবেকরা। ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিতের মাধ্যমে প্রার্থীদের নির্বাচনি পরিবেশ নিশ্চিতে কমিশন ‘ব্যর্থ’ বলে মন্তব্য করেছেন বক্তারা। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চ্যালেঞ্জ নিয়ে সেমিনারের আয়োজন করে ‘সেন্টার ফর গভর্নেন্স’। সেমিনারে অংশ নিয়ে বক্তারা এসব কথা বলেন। রাজধানীর পুরনো এলিফ্যান্ট রোডে সংস্থাটির কার্যালয়ে আয়োজিত সেমিনারে বক্তারা নির্বাচন আয়োজনে কমিশনকে আন্তরিক ও সঠিক পদপে গ্রহণের আহ্বান জানান। নয়তো ভোটকে কেন্দ্র করে সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা। সেমিনারে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন আয়োজন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এম হাফিজউদ্দিন খান। : তিনি বলেন, দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন আয়োজন আমরা টেস্ট কেস হিসেবে নিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম হয়তো সুষ্ঠু একটি নির্বাচন হবে। তবে এ নিয়ে নতুন করে কিছু বলার অপো রাখে না।’ নির্বাচন সময়ে ৩৫০ জন সংসদ সদস্যকে যে বেতন-ভাতা দেয়া হচ্ছে এটা রাষ্ট্রের অপচয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। : এম হাফিজউদ্দিন খান আরও বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন এখন পর্যন্ত যে কার্যক্রম দেখিয়েছে, এখনই বলা যায় এই নির্বাচন কমিশন টোটালি ফেইলর। এটা নির্বাচন হওয়ার আগেই বলা যায়। তারা নাকি কিছু দেখে না, তারা ব্লাইন্ড। মাঠে-ঘাটে কী হচ্ছে তা তারা কিছুই দেখেন না।’ : হাফিজউদ্দিন খান বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন আমাদের ডেকেছিলেন। আমি সেখানে বলেছিলাম-প্রধানমন্ত্রী যেখানেই যাচ্ছেন সেখানেই তিনি নির্বাচনি বক্তব্য দিয়ে আসছেন এবং ভোট দেয়ার কথা বলে আসছেন। অন্যান্য দলতো রাস্তায় বের হতেই পারে না। তাহলে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড কীভাবে হবে। তখন নির্বাচন কমিশন বলল- সিডিউল ঘোষণার আগে আমাদের বলার কোনো মতা নেই।’ : সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে কমিশন দায়িত্ব পালন করছেন না উল্লেখ করে সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘এই যে মারামারি, একজন প্রার্থী গুলিবিদ্ধ, এটা বিবেচ্য না তিনি কোন দলের। তবে নির্বাচন কমিশনের যে দায়িত্ব, সেটি তারা প্রয়োগ করেননি, করবেন বলেও মনে হয় না।

 

নির্বাচন কমিশন একচুয়ালি ডোন্ট নো, হাউ টু হ্যান্ডেল অ্যান্ড হাউ টু গো। মোদ্দা কথা আমরা কী দেখছি, যেটা দেখছি তা ভালো দেখছি না।’ : সাবেক প্রধান তথ্য কমিশনার মুহাম্মদ জমির বলেন, ‘যে দলই জিতুক, নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পরিস্থিতি ক্রিটিক্যাল। নির্বাচন কমিশনের কিছু দায়িত্ব আছে, তাদের উচিত ছিল সেগুলো পালন করা। কিন্তু তারা সম্পূর্ণভাবে পালন করেননি। নির্বাচন কমিশনের উচিত ছিল আরও সক্রিয়ভাবে সব কিছু করা। শুধু বললেই হবে না, যেখানেই ঘটনা ঘটুক দৃষ্টান্তমূলক পদপে নেয়া উচিত।’ : নির্বাচন কমিশনের আচরণ পপাতমূলক উল্লেখ করে সাবেক সচিব এ এইচ মোফাজ্জল করিম বলেন, ‘খুব আশা করেছিলাম রাজনীতিতে সুবাতাস বইবে। কিন্তু গত কিছুদিন ধরে যে ঘটনা ঘটেছে, এটা সহজে দমন করা যায়। এর দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। নির্বাচন কমিশনকে কাজ করে দেখাতে হবে। এ নির্বাচন কমিশনের ওপর মানুষের আস্থা কি করে থাকবে। নির্বাচন কমিশনের নির্লিপ্ততা পপাতমূলক অবস্থানে চলে গেছে।’ : অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন সেন্টার ফর গভর্নেন্সের নির্বাহী পরিচালক জিল্লুর রহমান।

 

অনুষ্ঠানে কী নোট উপস্থাপন করেন সেন্টার ফর পিচ অ্যান্ড জাস্টিসের নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার মানজুর হাসান। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পলিটিক্যাল সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ও সেন্টার ফর গভর্নেন্সের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম আতাউর রহমান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালি, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ আব্দুল মজিদ, ব্রতীর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন মুরশিদ, ফেমার প্রেসিডেন্ট মুনিরা খান, সাবেক প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকী, বিএনপির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক সহকারী সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ড. মামুন আহমেদ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল লতিফ মাসুম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাহাব এনাম খান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক এম ইনামুল হক, সেন্টার ফর গভর্নেন্সের ভাইস চেয়ারম্যান ড. মানজুর আহমেদ চৌধুরী প্রমুখ।

News Courtesy: http://www.dailydinkal.net