♦ দুই বছরে নিখোঁজ হন ৭১ জন
♦ এর মধ্যে ২৩ জন ফিরে এসেছেন
♦ ১৬ জন এখনো ‘নিখোঁজ’ তালিকায়
♦ মৃতদেহ পাওয়া গেছে ৫ জনের
নিজস্ব প্রতিবেদক ২২ মার্চ, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটেপ্রিন্ট
তিন বছরে দেশে ৭১ জন ব্যক্তি গুমের শিকার হয়েছেন। গুম হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে বেশির ভাগই রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী। ৭১ জনের মধ্যে ৫১ জনের ১৫ ধরনের পেশায় জড়িত বলে জানা গেছে। তাঁদের ১১ জন শীর্ষ দুই পেশার।
নিখোঁজদের মধ্যে ১৫.৪৯ শতাংশ করে রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী। গতকাল সোমবার সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘কোথায় আছেন তাঁরা? বাংলাদেশে গুমের ঘটনা’ শীর্ষক এক ওয়েবিনারে এসব তথ্য উপস্থাপন করা হয়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সিজিএসের নির্বাহী পরিচালক জিল্লুর রহমান।
মুখ্য আলোচক ও সিজিএসের উপদেষ্টা বোর্ডের সদস্য ড. আলী রীয়াজ একটি গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করে বলেন, গুমকে কেবল সংখ্যা দিয়ে বিচার করলে চলবে না, প্রতিটি গুমের ঘটনা একেকটি পরিবারকে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ বলেন, গবেষণায় ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ৭১ জনের গুম হওয়ার ঘটনা শনাক্ত করা হয়েছে, যাঁরা কমপক্ষে দুই দিন ‘নিখোঁজ’ ছিলেন। ৫২টি ক্ষেত্রে সুস্পষ্টভাবে নির্দিষ্ট বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে। বিভিন্ন বাহিনীর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ উঠেছে র্যাবের বিরুদ্ধে ২১টি (৪০.৩৮%)। ডিবি পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে ১৬টি (৩০.৭৬%)। পুলিশের বিরুদ্ধে ছয়টি (১১.৫৩%)।
ড. আলী রীয়াজ বলেন, পর্যবেক্ষণ অনুসারে ৫১ জনের পেশা শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। মোট ১৫ পেশার মানুষ আছেন। এর মধ্যে ১১ জন রাজনীতিবিদ এবং ১১ জন ব্যবসায়ী। অর্থাৎ ১৫.৪৯ শতাংশ করে দুই পেশার মানুষ। শিক্ষার্থী হচ্ছেন আটজন (১১.২৬%)। ইমাম, ধর্মীয় প্রচারক বলে পরিচিত এবং খতিব হচ্ছেন পাঁচজন (৭.০৪%)। ৬৫ জনের ব্যাপারে তথ্য পাওয়া গেছে। পাঁচজনের মৃতদেহ পাওয়া গেছে (৭.০৪%)। ২৩ জন ফিরে এসেছেন (৩২.৩৯%)। ১৬ জন এখনো ‘নিখোঁজ’ আছেন (২২.৫৩%)। ২২ জন নিখোঁজ হওয়ার পরে তাঁদের গ্রেপ্তার, আটক, বা জেল হেফাজতে আছেন বলে বলা হয়েছে (৩০.৯৮%)। যাঁদের ব্যাপারে পরিবার, স্বজন বা বন্ধুরা বলছেন যে তাঁরা গুমের শিকার হয়েছেন, ক্ষেত্রবিশেষে এই মর্মে এমনকি সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করা হয়েছে—তাঁদের ৩০ শতাংশের বেশি মানুষকে পরে সরকারি হেফাজতে পাওয়া যাচ্ছে, যদিও সরকার সব সময় বলছে যে তারা এই ব্যক্তিদের বিষয়ে কিছুই জানে না।
ওয়েবিনারে অংশ নেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল ও আসকের নির্বাহী কমিটির সদস্য নুর খান লিটন।
News Courtesy: