Centre for Governance Studies, Dhaka

CGS in the media

দেশের গণতন্ত্র এখন নিলামে উঠেছে

Press clipping reproduced from the original publication, as archived on the CGS website.

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের চেয়ারপারসন অ্যাডভোকেট জেড আই খান পান্না দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, গণতন্ত্র এখন নিলামে উঠেছে, ধনী ব্যবসায়ীরা টাকা দিয়ে তা কিনে নিচ্ছেন এবং এমপি-মন্ত্রী হচ্ছেন। দেশ এখন ব্যবসায়ী ও আমলাদের হাতে চলে গেছে, রাজনীতিবিদরা আর দেশ চালাচ্ছেন না।

গতকাল ঢাকার এক হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের (সিজিএস) চার মাসব্যাপী ‘চ্যালেঞ্জেস টু হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডারস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণার প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে গবেষণা প্রতিবেদন ‘হু ডিফেন্ডস দ্য ডিফেন্ডার : দ্য প্রেডিকামেন্ট অব হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস ইন বাংলাদেশ’ প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে গবেষণার মুখ্য গবেষক যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির রাজনীতি ও সরকার বিভাগের ডিস্টিংগুইশড প্রফেসর ও সিজিএসের উপদেষ্টা বোর্ডের সদস্য ড. আলী রীয়াজ প্রতিবেদনটির সারাংশ তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ, নিউ এজ সম্পাদক নুরুল কবির, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের (ব্লাস্ট) অবৈতনিক নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসেন এবং সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের (সিজিএস) নির্বাহী পরিচালক জিল্লুর রহমান। অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ ও বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের প্রতিনিধি, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি, সুশীলসমাজ, সাংবাদিক, আইনজীবী, মানবধিকার কর্মী, শিক্ষক ও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন ।

অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্যে সিজিএসের নির্বাহী পরিচালক জিল্লুর রহমান দেশের মানবধিকার কর্মীদের জন্য আরো সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতের ওপর জোর দেন। এ ছাড়াও তিনি রাষ্ট্র ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক মানবধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি তুলে ধরে এর পরিত্রাণের জন্য আহ্বান জানান।

বাংলাদেশে মানবাধিকার কর্মীদের অবস্থার বিষয়টি তুলে ধরে ড. আলী রীয়াজ বলেন, বাংলাদেশ জাতিসঙ্ঘের ‘মানবধিকারকর্মী-সংক্রান্ত ঘোষণাপত্র’কে স্বীকৃতি জানালেও মানবাধিকার কর্মীদের অধিকার রক্ষায় কোনো আইন প্রণয়ন করেনি। গবেষণা থেকে প্রাপ্ত ফলাফল তুলে ধরে তিনি জানান, দুঃখজনকভাবে জরিপে অংশগ্রহণকারী ৪৬% মানবাধিকার কর্মীরা দেশের বর্তমান মানবধিকার পরিস্থিতিকে গুরুতর বলে বর্ণনা করেন। এ ছাড়াও, ৪২% কর্মী জানান সরকারি আইন প্রয়োগকারী প্রতিষ্ঠান থেকে তারা বেশি বাধার সম্মুখীন হন। ৬০% কর্মীরা মানবাধিকার রক্ষার কাজে বিভিন্ন হুমকির সম্মুখীন হন এবং তাদের কাজের ওপর বিধিনিষেধ দেয়া হয় এবং ব্যক্তিগতভাবে তারা শারীরিক ক্ষতির মুখে পড়েন।

ব্যারিস্টার সারা হোসেন মানবাধিকার কর্মীদের সার্বিক পরিস্থিতি বোঝার স্বার্থে আরো বৃহত্তর প্রেক্ষাপট থেকে গবেষণা করার পরামর্শ দেন। মানবধিকার সংশ্লিষ্ট আইন ও তার বাস্তবায়নের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শুধু আইনগত কাঠামো থাকলেই হবে না, তার যথাযথ প্রয়োগও থাকতে হবে। সংবিধানে শুধু ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের (ডিএসএ) সংশোধন নয়, বরং ঔপনিবেশিক আমল থেকে রয়ে যাওয়া আরো বিভিন্ন আইনেরও সংশোধন প্রয়োজন।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ গবেষণা প্রতিবেদন ও মুখ্য গবেষককে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং এ ধরনের গবেষণার মাধ্যমে মানবধিকারের বিভিন্ন দিক উন্মোচন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ ছাড়াও তিনি স্পষ্ট করে জানান, জাতীয় মানবধিকার কমিশন সরকারি কোনো সংস্থা নয়, এটি রাষ্ট্রীয় সংস্থা। তিনি আরো বলেন, অনেকের মধ্যে এ বিষয়ে ভুল ধারণা থাকায় তারা জাতীয় মানধবিকার কমিশনের ভাল কাজের সংবাদ প্রকাশ করে না। রাষ্ট্রীয় বাহিনীর বিচারবহির্ভূত কর্মকাণ্ড ও বিদেশী নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে তিনি বলেন, যারা অপরাধী তারা যেই হোক, অপরাধীই। তবে এর সাথে ভূরাজনীতির সম্পর্ক আছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

নিউ এজের সম্পাদক নুরুল কবির বলেন, মানবাধিকার কমিশনের প্রণীত সব নীতি সরকার অনুমোদন বা প্রয়োগ করতে বাধ্য নয়, এটি একটি সীমাবদ্ধতা। মানবাধিকারের বিষয়গুলোকে সুরক্ষিত করতে হবে, একে রাজনীতির সাথে জড়ানো যাবে না।

News Courtesy:

https://www.dailynayadiganta.com/more-news/764290/%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%97%E0%A6%A3%E0%A6%A4%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0-%E0%A6%8F%E0%A6%96%E0%A6%A8-%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A7%87-%E0%A6%89%E0%A6%A0%E0%A7%87%E0%A6%9B%E0%A7%87