বাংলাদেশে জাতীয় পর্যায় থেকে তৃণমূল সর্বস্তরেই দুর্নীতি রন্ধ্রে রন্ধ্রে জড়িয়ে আছে । দুর্নীতির এই অধিক বিস্তারই বর্তমানে এটিকে একটি স্বাভাবিক এবং বৈধ প্রক্রিয়াতে পরিণত করেছে । বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বড় অবদান থাকা সত্ত্বেও দুর্নীতির কারণে এই খাতটি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে । করোনা মহামারী , আর্থিক সংকট , দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে বাংলাদেশে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ক্ষেত্রে অন্যতম বড় প্রতিবন্ধকতা হল দুর্নীতি । বৃহস্পতিবার সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ ( সিজিএস ) আয়োজিত এক আঞ্চলিক আলোচনা সভায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পখাতের উদ্যোক্তারা এসব কথা বলেন। ব্যবসার ক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের প্রতিনিয়ত সম্মুখীন হওয়া দুর্নীতির অভিজ্ঞতা এবং এই দুর্নীতি প্রতিরোধে একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম তৈরির প্রয়োজন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট এন্টারপ্রাইজ ( সিআইপিই ) – এর সহায়তায় এই আলোচনা সভাটি বরিশালের হোটেল গ্র্যান্ড পার্ক’র কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত হয় ।
বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পখাতের প্রতিনিধিরা এতে অংশগ্রহণ করেন । আলোচনায় অংশগ্রহণকারী উদ্যোক্তারা তাঁদের ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে দুর্নীতির বহুমাত্রিক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন । তাঁরা বলেন যে , ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সরকারকে ভ্যাট , ট্যাক্স দিলেও দুর্নীতির কারণে তাঁরা বাঁচতে পারছেন না , কিন্তু তাঁরা বাঁচতে চান । ব্যবসায় বিনিয়োগ করার জন্য ব্যাংক থেকে লোন গ্রহণ করার সময় তাঁরা নানা ভাবে হয়রানি এবং দুর্নীতির শিকার হয়ে থাকেন । অনেক ক্ষেত্রে লোন প্রদান করার ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো উপহার হিসেবে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করে । ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উদ্যোক্তাদের প্রণোদনা প্যাকেজসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে ব্যাংকিং খাতের অব্যবস্থাপনা এবং দুর্নীতিকেই প্রধানত তাঁরা দায়ী করেন । উদ্যোক্তারা বলেন যে , ব্যবসায় নিবন্ধন প্রক্রিয়া , ট্রেড লাইসেন্স প্রক্রিয়া , লাইসেন্স নবায়ন , সার্টিফিকেট গ্রহণ , ভ্যাট প্রদান , ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ইত্যাদি ক্ষেত্রেও বিভিন্ন প্রকার আইনের জটিলতা , কাগজপত্রের জটিলতা প্রদর্শন করে বিনা কারণে তাঁদের আর্থিক জরিমানা ও অন্যান্য হয়রানির শিকার করা হয় যা প্রকৃতপক্ষে দুর্নীতিরই নামান্তর । এছাড়া ব্যবসা পরিচালনা নীতি সম্পর্কে নতুন ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণের অভাব রয়েছে বলে তাঁরা উল্লেখ করেন । এছাড়া দুর্নীতি প্রতিরোধে ব্যবসায?িক সংগঠন এবং প্রশাসনিক সংস্থাগুলো তুনামূলকভাবে কম সক্রিয় ভূমিকা পালন করে এবং এগুলো থেকে কোন সাহায্য উদ্যোক্তারা পান না বলে তাঁরা অভিমত প্রদান করেন। উক্ত আলোচনা সভায় দুর্নীতি প্রতিরোধের জন্য একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্মের প্রয়োজনীয়তা এবং সেখানে উদ্যোক্তাদের সম্মিলিত ও ঐক্যবদ্ধভাবে ভাবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান করার প্রবল আগ্রহ প্রকাশ পেয়েছে । এক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের ব্যবসা সম্পর্কে শিক্ষিত ও সচেতন করার জন্য সঠিক ক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে । ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পখাতকে দুর্নীতিমুক্ত করার জন্য ভ্যাটের হারের সমন্বয়ের পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের ব্যাংক সেক্টর , ব্যবসায়ী সংগঠন , সরকারি সংস্থাকে দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে এবং সরকারি প্রণোদনা প্যাকেজের সুষ্ঠু বণ্টন নিশ্চিত করতে হবে বলে দাবী জানান উদ্যোক্তারা।
News Courtesy:

