Centre for Governance Studies, Dhaka

CGS in the media

দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের জবাবদিহি করতে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ

Press clipping reproduced from the original publication, as archived on the CGS website.

দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের জবাবদিহি করতে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়ে ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাস বলেছেন, প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্র সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইকে দেশের মূল জাতীয় নিরাপত্তা স্বার্থ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এটি ছিল ২০২১ সালে গণতন্ত্রের জন্য প্রথম শীর্ষ সম্মেলনের অন্যতম প্রধান থিম এবং এখনো এটি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের স্বার্থের কেন্দ্রে রয়েছে। দুর্নীতির ঘটনা তদন্ত ও উন্মোচনে প্রাণবন্ত সুশীল সমাজ এবং মুক্ত গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বলেই মনে করেন পিটার হাস। তিনি বলেন, বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা অর্জনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হলো দুর্নীতি। বিশ্বব্যাপী দুর্নীতির ব্যাপকতা ইঙ্গিত করে তিনি জানান, দুর্নীতি শুধু বাংলাদেশের সমস্যা নয়, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বজুড়েই এটি বিদ্যমান। গতকাল রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, বাংলাদেশ সরকারকে দুর্নীতি দমনে এর প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও উন্নত করতে হবে। ডিজিটালাইজেশন বাড়ানো ও নগদভিত্তিক লেনদেনের পরিবর্তে অনলাইন লেনদেন দুর্নীতি প্রতিরোধের জন্য একটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হতে পারে। সবশেষে তিনি বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কম দুর্নীতিগ্রস্ত অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে প্রাধান্য দিবে। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে দুর্নীতি রোধে সহায়তা করবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন এবং এর মধ্যদিয়ে বাংলাদেশ আরও বেশি এফডিআই অর্জন করবে বলে মনে করেন তিনি। 

দুর্নীতি রোধে এসএমই উদ্যোক্তাদের জাতীয় সম্মেলনে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাষ্ট্রদূত হাস।

বেসরকারি খাত এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পখাতের দুর্নীতি সংক্রান্ত সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) গত দুই বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট এন্টারপ্রাইজের (সিআইপিই) সহযোগিতায় “বাংলাদেশ: দুর্নীতির বিরুদ্ধে বেসরকারি খাতকে একত্রিত করার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক শাসনের দাবিকে সমর্থন করা” শিরোনামে একটি প্রকল্প পরিচালনা করে আসছে। এই গবেষণার অধীনে সিজিএস ইতিমধ্যে সারা দেশে দুটি জরিপ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পখাতের উপর একটি পর্যালোচনা প্রতিবেদন, আটটি আঞ্চলিক আলোচনা সভা, একটি সিএএসি সম্মেলন এবং দুটি নেটওয়ার্কিং ইভেন্ট সম্পন্ন করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় সিজিএস গতকাল প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের জাতীয় সম্মেলন আয়োজন করে। সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের এসএমই উদ্যোক্তা, কূটনীতিক, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, ব্যবসায়ী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও সাংবাদিকবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। সম্মেলনে আমন্ত্রিত বিশিষ্ট অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ, সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও টিআইবি’র মহাসচিব আলী ইমাম মজুমদার, সুশাসনের জন্য নাগরিক’র (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ আব্দুল মজিদ, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন, বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন।

স্বাগত বক্তব্যে সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট এন্টারপ্রাইজের (সিআইপিই) নির্বাহী পরিচালক অ্যান্ড্রু উইলসন ভিডিও বার্তার মাধ্যমে বেসরকারি খাতের ক্ষমতায়নের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সিআইপিই-এর লক্ষ্য তুলে ধরেন। তিনি আরও বলেন, এই মুহূর্তে বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম বড় সমস্যা দুর্নীতি। দুর্নীতিবিরোধী উদ্যোগে বেসরকারি খাতের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।

গবেষণা প্রকল্পের মুখ্য গবেষক অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ বলেন, দেশের অর্থনীতিতে সম্ভাবনাময় খাত হচ্ছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই), দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে এসএমই খাতের ওপর জোর দিতে হবে। তবে, দুর্নীতি এসএমই উদ্যোক্তাদের উদ্যোগকে সীমিত করে দেয়। 

সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও টিআইবি’র মহাসচিব আলী ইমাম মজুমদার বলেন, “সামাজিক আন্দোলন ছাড়া দুর্নীতি দূর করা সম্ভব নয়। আমি আশা করি, দুর্নীতি রোধে সিজিএস যেই উদ্যোগটি নিয়েছে, তা সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘দুর্নীতি রোধে প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী হতে হবে।’ তিনি মনে করেন প্রতিষ্ঠানগুলোকে পেছন থেকে অদৃশ্য হাত দিয়ে পরিচালনা করা হয়, সেগুলো বন্ধ করতে হবে। 

সিজিএস’র চেয়ারম্যান ড. মঞ্জুর এ. চৌধুরী বলেন, ‘দুর্নীতি একটা দৈত্যের মতো, সবাইকে কুরে কুরে খাচ্ছে। এ অবস্থা থেকে আমাদেরকে মুক্তি পেতে হবে। সিজিএস’র নির্বাহী পরিচালক জিল্লুর রহমান বলেন, সিজিএস ও সিআইপিই গত দুই বছর ধরে এসএমই খাতে দুর্নীতির ওপর গবেষণা করে আসছে। গবেষণা প্রকল্পটি এ খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। 

আলোচনা-পর্ব শেষে এসএমই উদ্যোক্তাদের পরামর্শ গ্রহণের পর গবেষণা প্রকল্পের মুখ্য গবেষক ড. আলী রীয়াজ চূড়ান্ত যৌথ প্রস্তাবনা ঘোষণা করেন। এ প্রস্তাবনায় সম্মানিত সদস্যরা হলেন বাংলাদেশ সরকারের সচিব ও পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ অথরিটির (পিপিপিএ) সাবেক সিইও সুলতানা আফরোজ, সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ আব্দুল মজিদ, ইস্টওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক পারভেজ করিম আব্বাসী, এসএমই ফাউন্ডেশনের সাবেক পরিচালক ও বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক সভাপতি ও বেঙ্গল প্যাসিফিক (প্রা.) লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহেদুল ইসলাম হেলাল, বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইমপোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার এসোসিয়েশনের (বারভিডা) সাবেক সভাপতি ও জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (জেবিসিসিআই) সাবেক সভাপতি আবদুল হক, প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি উইমেন এন্টারপ্রেনিউর এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডব্লিউইএবি) ও মাল্টিমোড গ্রুপের ভাইস চেয়ারপারসন নাসরীন ফাতেমা আউয়াল।

News Courtesy:

https://mzamin.com/news.php?news=47836