করোনাভাইরাসের প্রভাবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অর্থনীতি বিপর্যস্ত। এ অবস্থায় গতানুগতিক বাজেটে সমস্যার সমাধান হবে না। স্থাস্থ্য, কৃষি শিল্পসহ গুরুত্বপূর্ণ সব খাতের উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য থাকতে হবে আগামী বাজেটে। এ বিবেচনা থেকে আগামী অর্থবছরের বাজেটে আগামী তিন বছরের জন্য অর্থনীতি ও সামাজিক খাতের একটা রূপরেখা থাকতে হবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নির্ধারণের মাধ্যমে কভিড-১৯-এর প্রভাব কাটিয়ে ওঠার পরামর্শ তাদের।
অর্থনীতির পুনরুজ্জীবন এবং আসন্ন বাজেট শীর্ষক এক ওয়েবেনিয়ারে সরকারের এসব পরামর্শ দিয়েছেন তারা। সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন সংস্থার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ড. মঞ্জুর আহমেদ চৌধুরী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, কভিডের কারণে নব্য গরিব শ্রেণি তৈরি হয়েছে। কিছু জরিপে দেখা গেছে, নতুন করে ২০ শতাংশ মানুষ দরিদ্র হয়েছে। তবে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্বাভাবকি হয়ে এলে এসব মানুষ আর দরিদ্র থাকবে না। তিনি বলেন, শিল্প, কৃষি ও স্বাস্থ্য খাতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে সমস্যা হচ্ছে, অপচয়, দুর্নীতি ও অতিরিক্ত সময় ব্যয়। এগুলোর সমাধান প্রয়োজন। বাজেটে দরিদ্র্র জনগোষ্ঠীর জন্য রেশন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ৪০ লাখ পরিবারের এখন খাদ্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এটা এক ধরনের রেশন। খাদ্য সংকট দেখা দিলে এই কর্মসূচির আওতা এবং মেয়াদ বাড়ানো যেতে পারে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেন, আগামী অর্থবছরের বাজেটে অর্থের সংস্থান হবে বড় চ্যালেঞ্জ। এডিপি বাস্তবায়নে দুর্নীতি এবং অপচয় বন্ধ করা গেলে সুফল পাওয়া যাবে বলে মনে করেন তিনি। ব্যয় কমানো, সংযমী না হলে সামনে বিপদ আছে উল্লেখ করে তিনি রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
ওয়েবেনিয়ারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অর্থনীতির অধ্যাপক রাশেদ তিতুমীর। তিনি বলেন, কভিড-১৯-এর প্রভাব বিবেচনায় স্থাস্থ্য, কৃষি শিল্পসহ গুরুত্বপূর্ণ সব খাতের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য থাকতে হবে আগামী বাজেটে। তিনি তিন বছরের রূপরেখা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন। বিআইডিএসের গবেষণা পরিচালক ড. নাজনীন আহমেদও একই পরামর্শ দিয়ে প্রয়োজনে টাকা ছাপানোর কথা বলেন। এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ বলেন, করোনার কারণে ভোগ-বিলাস বাদ দিতে হবে। রাজস্ব বাড়াতে চুনোপুঁটি নিয়ে টানাটানি না করে ফাঁকিবাজ বড় করদাতাদের বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।
বিসিআইর সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, প্রণোদনা প্যাকেজের অর্থ ছাড়ে গতি কম। এ রকম হলে বিশ্ববাজারে সুবিধা করা যাবে না। উইম্যান চেম্বারের সভাপতি ও সংসদ সদস্য সেলিমা আহমাদ বলেন, করোনায় ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তারা বিপদে আছেন। তাদের দিকে বেশি নজর দেওয়ার কথা বলেন তিনি। আরও বক্তব্য দেন অর্থনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ ও বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা।