Centre for Governance Studies, Dhaka

CGS in the media

‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন দেশে ভয়ের সংস্কৃতি গড়ে তুলেছে’

Press clipping reproduced from the original publication, as archived on the CGS website.

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন (ডিএসএ) দেশে ভয়ের সংস্কৃতি গড়ে তুলেছে। সরকার এ আইন পরিবর্তন ও ‘অপপ্রয়োগ’ বন্ধে আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তা হচ্ছে না। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে এ আইনের ভয়াবহতা আরও বাড়তে পারে বলে মত দিয়েছে সেন্টার ফর গর্ভন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস)।

সোমবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত এক ওয়েবিনারে বক্তারা এসব কথা বলেছেন। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে ‘এখন কী করতে হবে?’ শীর্ষক এ ওয়েবিনারের আয়োজন করেছে সিজিএস।

সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক জিল্লুর রহমানের সঞ্চালনায় ওয়েবিনারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির ডিস্টিংগুইসড অধ্যাপক আলী রীয়াজ, সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন, টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ভিকটিম নেটওয়ার্কের সদস্য দিদারুল ইসলাম ভূঁইয়া বক্তব্য রাখেন।

পাঁচটি দাবি তুলে ধরে অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, সরকারের ব্যক্তিরাই স্বীকার করেছেন যে এ আইনের অপব্যবহার হচ্ছে। অপব্যবহার বন্ধে তাদেরকেই সদিচ্ছার পরিচয় দিতে হবে। ফলে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এ আইনটি স্থগিত করে বিদ্যমান মামলা নিষ্পত্তি, এ আইনের অধীনে সকল মামলার তালিকা প্রকাশ, কতদিনের মধ্যে পুলিশ এসব মামলার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সেটি জানানো, আটকদের জামিন দেয়া এবং ভুক্তভোগীদের বিচার বিভাগীয় কমিটির মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে। এই আইনের অধীনে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ২৯৫ মামলায় ৩ হাজার ৬৪৪ জনকে অভিযুক্ত এবং ১ হাজার ৩৭৮ জনকে আটক করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বর্তমানে যেভাবে আইনটি ব্যবহার করা হচ্ছে, ভবিষ্যতে অন্য কোনো দল ক্ষমতায় আসলে তারাও একইভাবে ব্যবহার করবে। ডিজিটাল মাধ্যমের নিরাপত্তার জন্য আইনের প্রয়োজন থাকলেও ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনের মাধ্যমে সে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব নয়। অতি দ্রুত এই আইন বাতিলের দাবি জানায়।

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এ আইন স্বাধীনতা ও সংবিধানের পরিপন্থী। পাশাপাশি নাগরিকের সমালোচনা করার অধিকারকে হরণ করে। এটি একটি নির্যাতনমূলক আইন ও বিরোধী শক্তিকে দমন করার আইন। এ আইনগুলোর মাধ্যমে রাষ্ট্র আইন রক্ষাকারী বাহিনীকে আইন ভঙ্গ করার ক্ষমতা দিয়েছে। নতুন একটি সাইবার নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন না করা পর্যন্ত এ আইনটি স্থগিত রাখতে হবে। যারা হয়রানির জন্য অযথা এই আইনে মামলা করেছে তাদেরকেও শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

News Courtesy:

https://www.dainikbangla.com.bd/national/19245