দুর্নীতি বাংলাদেশের সংস্কৃতির একটি অংশ হয়ে উঠেছে, যা সরকারের একার পক্ষে দমন করা সম্ভব নয়। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সবাইকে সংঘবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত এক আঞ্চলিক আলোচনা সভায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতের উদ্যোক্তারা এসব কথা বলেন। ব্যবসার ক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের প্রতিনিয়ত সম্মুখীন হওয়া দুর্নীতি এবং এ দুর্নীতি প্রতিরোধে একটি সমন্বিত প্লাটফর্ম তৈরির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট এন্টারপ্রাইজের (সিআইপিই) সহায়তায় আয়োজিত এ আলোচনা সভা সম্প্রতি চট্টগ্রামের হোটেল আগ্রাবাদে অনুষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতের প্রতিনিধিরা এতে অংশগ্রহণ করেন।
আলোচনায় অংশ নিয়ে উদ্যোক্তারা নিজেদের ব্যবসা শুরু করার ক্ষেত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তারা বলেন, অনেক ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদেরকে ১৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে বলা হয়। কিন্তু অনেক ব্যবসায়ীর এত পরিমাণ ভ্যাট দেয়ার মতো সক্ষমতা নেই বলে কর্তৃপক্ষের সাথে লেনদেনের মাধ্যমে ‘ভালো’ সম্পর্ক বজায় রাখতে হয়। উদ্যোক্তারা বলেন, ট্রেড লাইসেন্স পাওয়ার জন্য ‘অফিস ব্যয়’- এর নামে বাড়তি ফি প্রদানের মাধ্যমে ঘুষ দেয়াকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এমনকি লাইসেন্স নবায়ন করতেও সরকার নির্ধারিত ফি- এর দ্বিগুণ ব্যয় করতে হয়। এসব ঝামেলার কারণে উদ্যোক্তারা পিছিয়ে পড়ে।
আলোচনায় অংশগ্রহণকারী নারী উদ্যোক্তারা বলেন, দুর্নীতি বাংলাদেশের নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বড় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে। নারীরা ব্যবসা করতে আসা মানেই পদে পদে দুর্নীতির শিকার হওয়া। ব্যবসা শুরু এবং পরিচালনার ক্ষেত্রে এসকল অনিয়ম ও দুর্নীতির শিকার হয়ে উর্ধ্বতন কর্মকর্তা কিংবা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দ্বারস্থ হলে সাধারণত তাদেরপক্ষ থেকে কোনো ধরনের সহযোগিতা পান না উদ্যোক্তারা।
অংশগ্রহণকারীদের আলোচনা থেকে সামাজিক ও রাজনৈতিক সচেতনতা নিশ্চিত করে দুর্নীতিবিরোধী একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম তৈরির প্রয়োজনীয়তা এবং সেখানে তাঁদের অংশগ্রহণের জন্য আগ্রহের ব্যাপারটি উঠে আসে। দুর্নীতি প্রতিরোধে তারা ভ্যাট কমানোর দাবি জানান এবং বলেন ব্যবসা শুরুর প্রথম দুই বছরে যেহেতু তেমন লাভবান হওয়া সম্ভব নয়, তাই নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য প্রথম দুই বছর করমুক্ত ঘোষণা করতে হবে। তারা নারী উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে ট্রেড লাইসেন্সে ছাড় দেয়ার আহ্বান জানান। উদ্যোক্তারা বলেন, ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন এনে একে ডিজিটালাইজ করতে হবে। এর ফলে ব্যক্তি পর্যায়ে যোগাযোগ কম হবে এবং দুর্নীতিও কমবে। তারা শিক্ষার পাঠ্যসূচিতে পরিবর্তন আনার কথা বলেন এবং একই সাথে দুর্নীতিবিরোধী আইন সংশোধন করারও দাবি জানান। উদ্যোক্তাগণ মনে করেন তৃণমূল পর্যায়ে নিয়মিতভাবে এ ধরনের আলোচনার আয়োজন করা হলে সেটি বেশি ফলপ্রসূ হবে। যেসব কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে তাদেরকেও আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান উপস্থিত বক্তারা।
News Courtesy:


