Centre for Governance Studies, Dhaka

CGS in the media

খেলতে হলে বিএনপিকে মাঠে নামার আহ্বান পরিকল্পনামন্ত্রীর

Press clipping reproduced from the original publication, as archived on the CGS website.

রাজনীতিতে খেলতে হলে বিএনপিকে মাঠে নামার আহ্বান জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

আজ সোমবার রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেল 'সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ' আয়োজিত 'ন্যাশনাল ডায়লগ অন এলডিসি গ্রজুয়েশন' এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন প্রাণবন্ত। শত শত মানুষ অংশগ্রহণ করছে। গ্যালারিতে বসে খেলতে পারবেন না। খেলতে হলে মাঠে নামতে হবে। খেলায় সবারই ফাউল শট হয়। সেটা আপনাদের বা আমাদেরও।

তিনি সরকার ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে বলেন আমরা আইনের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত শাসক আমাদের গায়ের জোরে ২৫বছর ধরে রাখা হয়েছিল। রাজনীতির খেলায় প্রধানমন্ত্রী সবসময়ই প্রথম ব্যক্তি।

দেশীয় উন্নতির বিষয়ে তিনি বলেন, দেশে আগে ক্ষুধার্ত মানুষ ছিল। আমরা সেটা কাটিয়ে উঠেছি। বর্তমানে কেউ ক্ষুধায় বা অনাহারে থাকে না। তবে অর্থনৈতিক বৈষম্য রয়েছে। যা বিশ্বের সকল দেশেই পরিলক্ষিত হয়। অর্থনৈতিক বৈষম্য ছাড়া কোন দেশ নাই।

সরকার সবার জন্য খাদ্য নিশ্চিত করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন পরনার সময়েও কেউ অনাহারে থাকে নি। জীবন-জীবিকা নিশ্চিত করতে লকডাউনেও সরকার কোনো রকম বাধা দেয়নি। সোয়া লাখ কোটি ডলার জীবন ও জীবিকায় প্রণোদনা দিয়েছে সরকার।

বিএনপি সরকার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে নষ্ট করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন , স্থানীয় সরকারকে আমরা শক্তিশালী করেছি। জেলা পরিষদ বলতে বিএনপি'র সময়ে কিছু ছিল না । আমরা জেলা পরিষদ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছি। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা শক্তিশালী হয়েছে। ইউপি নির্বাচন উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। শেখ হাসিনা ডেভলপমেন্ট প্লানার বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

কৃষকের দুরাবস্থার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপি'র সময়ে হাওড় অঞ্চলে বাধ দেওয়া হতো টেন্ডারের মাধ্যমে। যা নিয়ন্ত্রিত হত ঢাকা থেকে। আর সেটা সাব-কন্ট্রাক্টর থেকে সাব-কন্ট্রাক্টরের মাধ্যমে তলানিতে গিয়ে তেমন কিছুই উন্নয়ন হয়নি। আওয়ামী লীগ সরকার এ ব্যবস্থা পাল্টে স্থানীয়দের মাধ্যমে টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করছে। যার মাধ্যমে কিছুটা অনিয়ম হলেও সেটা এলাকার মানুষের হাতেই থাকছে। ফলে হাওর অঞ্চলের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন হয়েছে।

রাউন্ড টেবিল আলোচক হিসেবে অংশ নেন ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি অর্থনীতি বিভাগের ফ্যাকাল্টি মেম্বার পারভেজ করিমম আব্বাসী। তিনি বলেন, আমাদের মাধ্যমিক শিক্ষকদের ২৮ শতাংশ কর্মহীন। আমাদের স্কিলের তেমন কোনো উন্নতি না হওয়ায় আমরা অনেক পিছিয়ে পড়েছি। বছর ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার রিফুজি প্রত্যাবাসন খাতে ব্যয় হচ্ছে। যার মাত্র ৩৫ শতাংশ বিদেশীরা তাদের থেকে আসছে। বাকি বড় অংশই আমাদের নিজস্ব অর্থায়নে থেকে ব্যয় করতে হচ্ছে। যা আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বড় হুমকি।

যে পরিমাণ অর্থ আমরা রিফুজি প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে ব্যয় করছি সেটা আরএমজি সেক্টর এ ব্যয় করলে ইউরোপে অনেক বড় বাজার ধরা সম্ভব। যা আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অনেক বড় ভূমিকা রাখবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

আলোচোনায় আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি মেম্বার এবং রেপিড-এর এক্সেকিউটিভ ডিরেক্টর ডঃ মোঃ আবু ইউসুফ। তিনি বলেন, প্রবৃদ্ধি হয়েছে আমাদের যথেষ্ট। তবে এগুলোর সমন্বয় প্রয়োজন। আমাদের অনেক গ্যাপ রয়েছে। আমরা কেবল একমুখী উৎপাদনের উপর নির্ভরশীল। আমাদেরকে এখন ভাবতে হবে ২০৩০ সালের পর জিএসপি প্লাস হলে আমরা কিভাবে ইউরোপের মার্কেট ধরে রাখবো। আমাদেরকে আমাদের নিজস্ব মানদণ্ডে পরিমাপ করলে হবে না বরং আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বীদের সাথে আমাদের পরিমাপ করতে হবে।

ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের বাংলাদেশ এবং ভুটানের কান্ট্রি ডিরেক্টর মারসি মিয়াং তেম্বুং বলেন, বাংলাদেশের প্রাইভেট সেক্টর লেদার এবং তৈরি পোশাকশিল্প অনেক এগিয়ে গেছে। এ দেশে বিদেশী বিনিয়োগের পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে। বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশের পুরো চেহারাই পাল্টে যেতে পারে।

অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জাপানিজ স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মামুন।এসময় বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, অর্থনীতিবীদ সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

News Courtesy:

http://www.nnbd24.net/m/detail.php?nnbd=22303&fbclid=IwAR2NF3UPcl7AxbKc_nK3hNA9eUN8NCIqBYziFxGJyFXlvfj0_maSbiYLmPI