Centre for Governance Studies, Dhaka

CGS in the media

ওয়েজ বোর্ডের সিস্টেমটা বন্ধ করে দেয়া উচিত

Press clipping reproduced from the original publication, as archived on the CGS website.

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, গণমাধ্যমে অর্থনৈতিক মডেলের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, ওয়েজ বোর্ডের সিস্টেমটা বন্ধ করে দেয়া উচিত, বরং গণমাধ্যমে ন্যূনতম বেতন কাঠামো ঠিক করে দেয়া উচিত। ৩০ বছর সাংবাদিকতা করে এসে ওয়েজবোর্ডে আমাকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দিচ্ছে, এটা তো জোক। ওয়েজবোর্ড সিস্টেমটাই ত্রুটিপূর্ণ। একটা বেসিক বেতনের নিচে যেন সাংবাদিকদের নিয়োগ করা না হয়। ন্যূনতম বেতনের আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে। ন্যূনতম বেতনের বাইরে কেউ নিয়োগ দিলে তাদের প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিতে হবে।

   
গতকাল রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনের জন্য সংলাপ- গণমাধ্যম প্রসঙ্গ’ শীর্ষক সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন। অন্তর্বর্তী সরকারের করণীয় ও দিকনির্দেশনা নিয়ে ধারাবাহিক সংলাপের অংশ হিসেবে এই সংলাপের আয়োজন করা হয়।

শফিকুল আলম বলেন, সংবাদের ক্ষেত্রে কনটেন্ট প্রটেকশন দিতে হবে। যারা অরিজিনাল কনটেন্ট করেন, তাদের কপিরাইট প্রটেকশন দিতে হবে। সাংবাদিকতা কোনো সস্তা জিনিস নয়। কনটেন্ট প্রটেকশন না হলে বাংলাদেশের সাংবাদিকরা ভালো বেতন পাবে না। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের একটি শক্তিশালী ইউনিয়ন দরকার। ইউনিয়নগুলোকে স্বাধীন করতে সংস্কারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার। পরবর্তী সরকার এটাকে বন্ধ করার পাঁয়তারা করতে পারে। এটার বিরুদ্ধেও সোচ্চার থাকতে হবে। 

তিনি বলেন, আমাদের অধিকারগুলো আমাদের বলতে হবে। বিএফইউজে ও ডিইউজে ফেইল করেছে। অনেক লিডার প্লট পেয়েই ২-৩শ’ কোটি টাকার মালিক হয়ে গিয়েছেন। তারা সিস্টেমেটিক্যালি আমাদের ব্যর্থ করেছে। আমরা নতুন ইউনিয়ন চাই। যেখানে নতুন বাংলাদেশে নতুন ইউনিয়ন সাংবাদিকদের প্রত্যেকটি অধিকারের জন্য আওয়াজ তুলবেন।

মিডিয়া সংস্কার কমিশন সম্পর্কে শফিকুল আলম বলেন, এই কমিশনের মূল লক্ষ্য হলো- বাংলাদেশে এমন একটা মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রি হবে যেখানে কোনো ধরনের ভয়ভীতি, এডমিনিস্ট্রিটিভ চাপ, লিগ্যাল রিপ্রেসিভ ল দ্বারা আক্রান্ত ছাড়া মিডিয়া তার মতো করে দাঁড়াতে পারে। তিনি বলেন, গত ১৫ বছর বাংলাদেশের গণমাধ্যম জনগণের কথা বলেনি। অনেক ক্ষেত্রে তাঁবেদারি করেছে। এমনই নীচু পর্যায়ে তাঁবেদারি হয়েছে যে, এখন কেউ কেউ বলছেন এদের অনেকের হাতে রক্ত আছে। 

তিনি বলেন, ২০১৩ ও ২০১৪ সালের দিকে দুইজন সাংবাদিদের যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার হয়েছিল। বুদ্ধিজীবী হত্যায় তাদের ইন্ধন ছিল বলে অভিযোগ ছিল। ওই সাংবাদিকদের যদি বিচার হয়, তাহলে গত ১৫ বছরে যে সমস্ত সাংবাদিক ভায়োলেন্স, সরকারের বিচারবর্হিভূত হত্যাকাণ্ড ও গুমকে লেজিটিমাইজড করেছে তাদের কেন বিচার হবে না? এটা যখনই বলতে যান, তখন অনেকেই বলেন, এই ধরনের কথা আনা যাবে না। তার মানে আমরা এক ধরনের ভণ্ডামি দেখছি। আমাদের ব্যর্থতাগুলো আমাদের বলতে হবে। তিনি বলেন, কমিশনের আলাপগুলো কেন আসছে? আমরা কেন একটি ভালো কমিশন চাই? যাতে আমরা আগামীতে এই ফেইলুর না হই। জার্নালিজম এমন একটা জায়গায় দাঁড়াবে যাতে আমরা দালাল না হই।

তিনি বলেন, গত সাড়ে ৪ মাসে আমরা কোনো পত্রিকাকে নিউজ সরাতে বলিনি। আমরা আমাদের ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে বলে দিয়েছি যে, আপনারা নিউজের ব্যাপারে কাউকে ইন্টারভেল করতে পারবেন না। করলে আমাদের কাছে আসেন, যদি কোনো লেজিটিমেসি কনসার্ন থাকে তাহলে আমরা সেটা দেখবো। একটা নিউজে ভুল হতেই পারে। আর আমরা বলতেই পারি আপনার নিউজটা ভুল হয়েছে।

তিনি বলেন, আমি যেখানে বসে আছি, এই প্রেস উইংয়ের কাজই ছিল নিউজ নামানো। আমরা এখন পর্যন্ত এরকম একটা কাজও করিনি। যদি হয় আমাদেরকে জানাবেন। আমরা অ্যাকশন নেবো। একটা পত্রিকা আমাদের নোটিশ দিয়েছিল। আমরা সরাসরি বলেছি, এটার সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নাই। যে এগুলো করেছে আপনারা তার বিরুদ্ধে ও তার মুখ উন্মোচন করে দেন। তিনি বলেন, নিউ ইয়র্ক টাইমস প্রতিদিন একটা লিস্ট দেয় যে, এখানে এখানে তাদের ভুল হয়েছে। আপনারাও বলেন, আমাদের ভুল হয়েছে। আমাদের ভুল হওয়াটা স্বাভাবিক। আন্ডারগ্রাউন্ড পত্রিকা সত্যিকার অর্থে আমরা এদের বিরুদ্ধে কথা বলতে ভয় পাই। এদের মুখ উন্মোচন করে দেয়া উচিত। এদের কারণে আমাদের সাংবাদিকরা কম বেতন পায়।

News Courtesy:

ওয়েজ বোর্ডের সিস্টেমটা বন্ধ করে দেয়া উচিত