ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোগের জীবাণুবাহী এডিস মশার দৌরাত্ম্য আগামী বছরগুলোতে আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে মশার বংশ বিস্তার ও কামড়ানোর প্রবণতা বেড়ে যায়। আগামী বছরগুলোতে বৈশ্বিক তাপমাত্রা আরও বাড়বে। কাজেই ভবিষ্যতে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ কমার কোনো সম্ভাবনা নেই।
গতকাল শনিবার রাজধানীর ইস্কাটনের বিস মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ আয়োজিত ‘বাংলাদেশে সংক্রামক রোগের সমস্যা ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক সেমিনারে তারা এমন অভিমত ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান। সেমিনারে কি-নোট পেপার উপস্থাপন করেন সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. মঞ্জুর আহমেদ চৌধুরী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মিডিয়া ব্যক্তিত্ব জিল্লুর রহমান।
তাজুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের মানুষকে এডিস মশা এবার ব্যাপকভাবে নাড়া দিয়েছে। এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে সফলতা দেখানো যায়নি। সমন্বয়হীনতা থাকা অস্বাভাবিক না। তবে হতাশ হওয়ার কারণ নেই। এর পেছনের কারণগুলো খুঁজে দেখতে হবে। এক সময় ম্যালেরিয়া ছিল। এখন এসেছে এডিস। এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে একটি পৃথক সেল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একজন অতিরিক্ত সচিবকে এ দায়িত্ব দেওয়া হবে।
প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান বলেন, এবার ডেঙ্গু এমন পর্যায়ে যাবে সেটা অনেকেই বুঝতে পারেননি। ভবিষ্যতে যাতে এ রকম আর না হয়, সে জন্য বছরব্যাপী কাজ করতে হবে। প্রতিটি গ্রাম-শহর পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। একটা সুপারিশমালা তৈরি করে প্রয়োজনে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। ডা. মঞ্জুর আহমেদ চৌধুরী বলেন, রোদ-বৃষ্টি বেড়ে গেলে সংক্রামক রোগ বেড়ে যায়। বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সংক্রামক রোগ বাড়ে। আগামীতে এটা আরও বাড়তে পারে।
বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ডা. কামরুল হাসান খান বলেন, যে কোনো ব্যর্থতার কারণে রাজনীতিবিদদের দায়ী করা হয়। এক্ষেত্রে বাস্তবায়নকারীদের দায়বদ্ধতাও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
দুই সিটি করপোরেশনের প্রধান দুই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোমিনুর রহমান মামুন ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শরিফ আহমেদ মশক নিধনে তাদের উদ্যোগ সম্পর্কে অবহিত করে জানান, বরাবরের মতো এবারও এডিস মশার মৌসুমকে সামনে রেখে সিটি করপোরেশন ব্যবস্থা নিয়েছিল। সেটা তখন প্রচারে আসেনি। কেবল সিটি করপোরেশন নয়, সরকারের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ নিলে এডিস মশা এত ভয়াবহ আকার ধারণ করবে না।
সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডা. মিনহাজুর রহমান চৌধুরী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাদিয়া আহমেদ, অধ্যাপক কবিরুল বাশার, সহযোগী অধ্যাপক তাহমিনা আক্তার লিপি, জুওলজিক্যাল সোসাইটির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক খান হাবিবুর রহমান, আইইডিসিআরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা তৌহিদ উদ্দিন আহমেদ, সাইফুল আলম সুজন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শক খন্দকার নূর এ জান্নাত, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জিএম সাইফুর রহমান, অধ্যাপক আশেক কবির চৌধুরী, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সহযোগী অধ্যাপক ইন্দ্রানি ধর, জাপান-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সরদার এ নাঈম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক অধ্যাপক ডা. জোনায়েদ শফিক প্রমুখ।
Content Courtesy: https://samakal.com/todays-print-edition/tp-khobor/article/19103938/