Centre for Governance Studies, Dhaka

CGS in the media

আগামী নির্বাচন ইসি ও সরকারের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ

Press clipping reproduced from the original publication, as archived on the CGS website.

দলীয় সরকারের অধীনে এবার সব দল অংশ নিচ্ছে। তাই আগামী ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন ফ্রি ও ফেয়ার করা নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ। এই নির্বাচনের দিকে বিশ্ববাসী তাকিয়ে আছে। নির্বাচন গ্রহণযোগ্য করতে সরকারের সব ধরনের সহযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়া পৃথিবীর অনেক দেশ আগে ইভিএম ব্যবহার করলেও বেশির ভাগই বর্তমানে সরে এসেছে। তাহলে আমাদের কেন তড়িঘড়ি করে ইভিএমের ব্যবহার করতে হবে?

গতকাল শনিবার সেন্টার পর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘নির্বাচনের রাজনীতি ও জনগণের ভোটাধিকার’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন। রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেনে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিস) মিলনায়তনে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম শাখাওয়াত হোসেন। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম। সিজিএসের নির্বাহী পরিচালক জিল্লুর রহমানের সঞ্চালনায় বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সংস্থার চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম আতাউর রহমান। বৈঠকে রাজনীতিবিদ, সুধীসমাজের প্রতিনিধিসহ দেশের বিশিষ্টজনরা অংশগ্রহণ করেন।

ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টে প্রতিদিন শত শত লোক জামিনের জন্য আসছে। তারা নাকি বাড়িতে থাকতে পারে না। তাহলে তারা নির্বাচন করবে কিভাবে? ইভিএম সম্পর্কে সবাই অবগত নয়, তার পরও তা ব্যবহারের চেষ্টা করা হচ্ছে। নির্বাচন হচ্ছে একটা মুক্তির পথ। এটা জনগণকে উপভোগ করতে দিতে হবে।’

ড. এম শাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘অনেক উদাহরণ আছে, নির্বাচন ফ্রি হলো কিন্তু ফেয়ার হলো না। ভোটাররা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছে ভোট দেওয়ার জন্য, অথচ বুথে ঘটে অন্য ঘটনা। বুথে যাওয়ার পর ভোটারদের বলা হলো, তুমি হাতে কালি মেখে চলে যাও আর ব্যালট পেপার দিয়ে দাও, এমন যেন না হয়। এসব বিষয় দেখার দায়িত্ব ইসির।’

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এম হাফিজ উদ্দিন খান বলেন, ‘এবারের নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে সমস্যা হলো ফেয়ার হবে কি না? আমাদের ইসি গঠন সন্তোষজনক নয়। তারা তাদের ক্ষমতা সম্বন্ধেও ওয়াকিবহাল নয়। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট প্রশাসনে কিছু রদবদলের কথা বলেছে। এখন পর্যন্ত ইসি এমন কোনো সক্ষমতা দেখায়নি, যাতে তারা সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হতে পারে।’

সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘একটা অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দ্বারপ্রান্তে আমরা। আগামী নির্বাচনে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। আমাদের ভোটার তালিকায় ত্রুটি আছে। ২০১৪ সালে পুরুষের চেয়ে নারীর সংখ্যা ছিল বেশি, এবার কমেছে। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন।’

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, ‘প্রত্যেক নির্বাচন আসার সঙ্গে সঙ্গে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। কোনো রাজনৈতিক দল পরাজিত হলেই তারা কারচুপির অভিযোগ তোলে। আমাদের এই বিভক্তির কারণে আমরা অনেক বিষয়ে একমত হতে পারি না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই কিন্তু নির্বাচনে স্বচ্ছ ব্যালট চালু করেছেন। কিন্তু দেখা যায়, ব্যালটে সিল মারতে সমস্যা হয়। ব্যালট ছিনতাই হয়। এসব নানা কারণে আমরা ইভিএমকে সমর্থন করেছি। এই পদ্ধতিতে কারচুপির কোনো সুযোগ নেই।’

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, ‘ফ্রি ও ফেয়ার নির্বাচনের জন্য যে রাজনৈতিক পরিবেশ দরকার তা অনুপস্থিত। আমি নিজে কখনো পুলিশের হাতে ছাড়া অস্ত্র দেখিনি। অথচ আমার নামে অস্ত্র মামলাসহ ২২টি মামলা ঝুলছে। তাহলে ফেয়ার নির্বাচন কিভাবে হবে? যত দিন ইসি সরকারের ওপর নির্ভরশীল থাকবে, তত দিন সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না।’

আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক শ ম রেজাউল করিম বলেন, ‘রাজনীতির গুণগত মানের পরিবর্তন ও সৃজনশীলতা সবার আগে প্রয়োজন। বর্তমানে কোনো সংকট নেই, তবে শব্দ সংকট আছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একাধিকবার বসেছেন। নির্বাচনে ইসিকে সব ক্ষমতা দেওয়া আছে। এখন কেউ যদি আজ্ঞাবহ আওয়ামী লীগ বা বিএনপি হয় তাহলে কী করার আছে? তবে আমার মনে হয়, নির্বাচন নিয়ে আশঙ্কাগ্রস্ত হওয়ার কিছু নেই।’

সাংবাদিক নাঈমুল ইসলাম খান বলেন, ‘দুই দশক ধরে নির্বাচন নিয়ে আমরা একই আলোচনা করছি। ২০১৪ সালের নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগও কোনো ক্রেডিট নেয় না। ফলে ওই নির্বাচনের সঙ্গে আগামী নির্বাচনের তুলনা করে সময় ব্যয় করা উচিত নয়।’

ফেমার প্রেসিডেন্ট মুনীরা খান বলেন, ‘এখন সময় হয়েছে নির্বাচন কমিশনের ওপর নির্ভরতার। সব রাজনৈতিক দলেরও উচিত নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করা।’

অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক বলেন, ‘ইভিএম ব্যবহারের বিষয়টি জাতীয় সংসদে পাস হওয়া উচিত। আর ইসির কোনো বিতর্কিত সিদ্ধান্তে না যাওয়া সমীচীন হবে।’

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সাবেক রেজিস্ট্রার ইফতেখার আহমেদ বলেন, ‘পৃথিবীর অনেক দেশই ইভিএম ব্যবহার শুরু করেছিল, কিন্তু এরই মধ্যে তাদের বেশির ভাগ সরে এসেছে।’

স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন বলেন, “ইসি কমিশনারদের জানতে হবে, তাঁরাই সবার স্যার। তাঁদেরকে অন্য কারো কথায় ‘স্যার, স্যার’ বলে উঠে দাঁড়ানোর দরকার নেই।”

বিজিবির সাবেক ডিজি লে. জে. (অব.) মো. মাইনুল ইসলাম বলেন, ‘যদি ইসি মনে করে, তারা সরকারি কর্মকর্তাদের বদলি করবে, তাহলে তারা এখন তা করতে পারে।’

বৈঠকে আরো বক্তব্য দেন অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ আবদুল মজিদ, বিএনপি নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন, ব্যবসায়ী আবদুল হক, ইকারাস ইউএসএর প্রতিষ্ঠাতা মাহমুদ রেজা চৌধুরী এবং সিজিএসের ভাইস চেয়ারম্যান ড. মনজুর আহমেদ চৌধুরী।

News Courtesy: http://www.kalerkantho.com