তরুণ রাজনীতিকদের মধ্যে মতাদর্শভিত্তিক সংলাপ এবং গণতান্ত্রিক চর্চাকে উৎসাহিত করতে “টলারেন্স, কম্প্রোমাইজ এন্ড দ্য আর্ট অফ ডেমোক্র্যাটিক ডিসঅ্যাগ্রিমেন্ট” শীর্ষক কর্মশালা ঢাকার দ্য স্কাই সিটি হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর গভার্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) জার্মানভিত্তিক উন্নয়ন সংস্থা ফ্রেডরিখ এবার্ট স্টিফটুং (এফইএস) এর সহযোগিতায় এই কর্মশালার আয়োজন করে। এটি সিজিএসের একটি ধারাবাহিক উদ্যোগ।
এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য দেশের তরুণ রাজনৈতিক কর্মীদের মতাদর্শগত সংলাপকে উৎসাহিত করা এবং গণতান্ত্রিক সহাবস্থান ও বহুত্ববাদের চর্চা জোরদার করা।
কর্মশালায় সূচনা বক্তব্য দেন সিজিএস-এর প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমান। অনুষ্ঠানে সিজিএস-এর নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করিম আব্বাসী এবং এফইএস বাংলাদেশ-এর প্রোগ্রাম এডভাইজার সাধন কুমার দাস বক্তব্য রাখেন।
জিল্লুর রহমান বলেন, আমি তরুণদের কাছে কিছু প্রশ্ন রাখতে চাই। তরুণদের কাছে জানতে চাই আপনারা কি ফিউচার নাকি ডিজাস্টার? তরুণদের কথাবার্তায় ও আচরণে অশ্লীলতা বেড়ে গিয়েছে, কিন্তু এটি কেন হয়েছে? সম্প্রতি ডাকসু ও জাকসু নির্বাচন হল কিন্তু ফলাফলটা এমন হল কেন? এরকম নির্বাচন ফলাফল আগে হয় নি কখনো। জুলাই গণঅভ্যুত্থান পর আমাদের রাজনীতিতে কি পরিবর্তন হয়েছে? জুলাই গণঅভ্যুত্থান নেতৃত্বে যারা ছিল তারা ক্ষমতায় আসার পর, তারাই কি এই অবস্থার কারণ কিনা? এন্টি এস্টাব্লিস্মেন্ট উত্থান হয়েছে এখন।
বাগছাস এর মধ্যে এন্টি এস্টাব্লিসমেন্ট ছিল। অনেকেই বলেছে এনসিপিকে রাজনৈতিক দলগুলো ব্যবহার করেছে। এনসিপি প্রমাণ করে দিয়েছে তাদের পায়ের তলায় মাটি নেই। জুলাই গণঅভভুথানের নায়ক হল বাংলাদেশের ছাত্র সমাজ ও সাধারণ জনগণ। একদিনের জন্য গণতন্ত্র নিশ্চিত হওয়া উচিত না। এটি প্রতিদিন হওয়া উচিত। তবে বাংলাদেশের বাস্তবতায় একদিনের গণতন্ত্র নিশ্চিত করতে পারি, সেটি অনেক বড় কাজ হবে। এর জন্য অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করা এবং এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা জরুরি।
পারভেজ করিম আব্বাসী বলেন, এই আয়োজনের লক্ষ্য তরুণদের মধ্যে সুষ্ঠু রাজনৈতিক আলোচনার পরিবেশ তৈরি করা। যুক্তরাষ্ট্রে একসময় বাই-পারটিসান সহযোগিতা ছিল কিন্তু কোভিডের পর থেকে রিপাব্লিকান ও ডেমোক্রেটিকদের মধ্যে সেই সহযোগিতাটা আর নেই আর। ইউরোপে ঠিক একই রকম অবস্থা, সেখানে পপুলিজমের উত্থান হচ্ছে। ভারতীয় উপমহাদেশে একই অবস্থা। ২০২৪ সালে বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থান হয়েছে। এর পরে আমরা রাজনৈতিক সহাবস্থান দেখতে চেয়েছিলাম যেখানে মিউচুয়াল রেস্পেক্ট থাকবে কিন্তু দুঃখজনক সেটি হয় নাই। বাংলাদেশে এখন অসহিষ্ণুতা বেড়ে গিয়েছে। আগামী নির্বাচন নিয়েও অনেক সংশয় আছে। আজকের আলোচনায় টলারেন্স, কম্প্রোমাইজ এন্ড দ্য আর্ট অফ ডেমোক্র্যাটিক ডিসঅ্যাগ্রিমেন্ট কীভাবে আইডেন্টিফাই করতে পারি ও আপনাদেরকে কীভাবে আত্মস্থ করাতে পারি তার চেষ্টা করা হবে।
সাধন কুমার দাস বলেন, ২০২২ সালে এফইএস এই বিষয়ে কিছু ওয়ার্কশপ করেছে। এফইএস টলারেন্স ও কালচারাল এক্সপ্রেশন নিয়ে তরুণদের সাথে কিছু ওয়ার্কশপ করেছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভবিষ্যতে তরুণদের নিয়ে আমরা আরও কিছু ওয়ার্কশপ ও অন্যান্য কাজ করব। আমি আমাদের তরুণদেরকে নিয়ে আশাবাদী।
কর্মশালাটি সঞ্চালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়-এর নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মির্জা তসলিমা সুলতানা। অধ্যাপক মির্জা তসলিমা সুলতানা কর্মশালায় রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরে প্রান্তিক অবস্থানগুলো চিহ্নিতকরণ নিয়ে আলোচনা করেছেন। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল ধর্ম, জাতি ও জেন্ডার আইডেন্টিটি। অধ্যাপক সামিনা লুৎফা কর্মশালায় মতপার্থক্যের উৎস এবং অন্যকে তা বোঝানোর উপকরণ নিয়ে আলোচনা করেন। তার আলোচনার মুলত উঠে এসেছে যে মতপার্থক্য প্রায়ই পরিচয়, অভিজ্ঞতা এবং মূল্যবোধের ভিন্নতা থেকে উদ্ভূত হয়। এই উৎসগুলো অনুধাবন করাই গঠনমূলকভাবে দ্বন্দ্ব মোকাবিলার মূল চাবিকাঠি।
দিনব্যাপী এই কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন দেশের বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা। অংশগ্রহণকারীরা রাজনৈতিক আদর্শের ভিন্নতা থাকা সত্বেও গণতন্ত্রের ভিত্তি, আদর্শগত ব্যবধান, ও সমসাময়িক রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে ছাত্র প্রতিনিধিরা আলোচনা করেন।
News Courtesy:
অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করা এবং এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা জরুরি-