সাইবার নিরাপত্তার স্বার্থে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তবে এ আইনের যেসব ধারা নিয়ে বিতর্ক আছে বা অপপ্রয়োগের সুযোগ আছে, সেগুলোর সংশোধন প্রয়োজন।
গতকাল সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের (সিজিএস) উদ্যোগে ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮: চড়া মূল্য দিচ্ছে কারা?’ শীর্ষক এক ভার্চুয়াল আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব বন্ধ করতে ডিজিটাল নিরাপত্তার আইনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন মত্স্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। তিনি বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক সময় অনাকাঙ্ক্ষিত, মিথ্যা, গুজব ও অপপ্রচার চালানো হয়। কারা এসব গুজব ছড়ায় তার তথ্যও কিছু ক্ষেত্রে পাওয়া যায় না। তাই এসব রোধে ডিজিটাল আইনের দরকার রয়েছে।
তিনি বলেন, অনেকেই অপপ্রয়োগের কথা বলেন। আইনের অপপ্রয়োগ রোধ করার জন্য প্রতিকার রয়েছে। সত্য মামলা করার জন্য যে সাজা মিথ্যা মামলার জন্য তার একই সাজার বিধান রয়েছে। তবে আইনের অপপ্রয়োগে অত্যুৎসাহীদের ভূমিকা অনেক সময় সদিচ্ছাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। অপপ্রয়োগ যাতে না হয় সে লক্ষ্যে সরকার কাজও করছে। তবে সবার মতামত নিয়ে এটাকে আরো বিন্যাস করা উচিত।
জাসদ সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার বলেন, সাইবার অপরাধীদের ঠেকাতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করা হয়েছে। কিন্তু এর মধ্যে অনেক ফাঁকফোকর আছে, সেগুলো আমলে নিতে হবে। আইনটি পর্যালোচনা করা জরুরি। এ আইনের ভেতরে যে সংকট রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে সবাই মিলে সেগুলো পরিবর্তনের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দু ধরনের অপরাধ আছে। একটি কম্পিউটার সম্পর্কিত অপরাধ, অন্যটি কথা বলার অপরাধ। কম্পিউটার সম্পর্কিত যে অপরাধটা আছে সেটা পৃথিবীর সব দেশের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে থাকে। কম্পিউটার সিস্টেমকে হ্যাক করে রাষ্ট্রীয় গোপনীয় তথ্য ফাঁস করা বা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ফাঁস করা—অবশ্যই এগুলো আইনের আওতায় নিয়ে আসা প্রয়োজন। কিন্তু কথা বলা, মতামত প্রদান করা—এটা নিয়ে যে মামলা হয়, সেগুলোতেই আমাদের প্রধান আপত্তি। আবার স্পিচ অফেন্স যেগুলো আছে, সেগুলো কিছু ক্ষেত্রে থাকতে পারে। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন দরকার।
তিনি আরো বলেন, অনেকেই বলেন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করে দেয়া উচিত। এটা মোটেও সঠিক নয়। হ্যাকিং হলে অবশ্যই বিচার করতে হবে। কিন্তু কথা বলার অধিকার হরণের মতো কিছু ধারা বাতিল করতে হবে।
সিজিএসের নির্বাহী পরিচালক জিল্লুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ড. মনজুর আহমেদ চৌধুরী।
News Courtesy: