রিয়াজ হোসেন : সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, এবারের নির্বাচন ইসির জন্য এক কঠিন চ্যালেঞ্জ। ফেয়ার ইকেলশনের জন্য সরকারকেও এ চ্যালেঞ্জ নিতে হবে, কারণ আন্তর্জাতিক মহল তাকিয়ে আছে নির্বাচনের দিকে। শনিবার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ আয়োজিত ‘রাজনীতি এবং জনগণের ভোটাধিকার’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি একথা বলেন।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাবেক এই নির্বাচন কমিশনার। তিনি বলেন, অনেক ইতিহাস আছে যে, নির্বাচন ফ্রি হলো কিন্তু ফেয়ার হলো না। দীর্ঘ লাইনে মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে আছেন ভোট দেয়ার জন্য অথচ বুথে ঘটে অন্য ঘটনা। বুথে গিয়ে তাকে বলা হলো, তুমি হাতে কালি মেখে চলে যাও আর ব্যালট পেপার দিয়ে দাওÑ এমন যেন না হয়।
তিনি আরও বলেন, এসব দেখার বিষয় ইসির। কিন্তু এখন ইসি নিজেরা মাঝে মধ্যে এমন সব কথা বলছেন যা তাদের বিতর্কিত করে ফেলছে। এবারই প্রথম দলীয় সরকারের অধীনে সব দল অংশ নিচ্ছে। মনে রাখতে হবে, আগামী ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন ফ্রি ও ফেয়ার করতে ইসির জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ। একে গ্রহণযোগ্য করতে সব রকম সহযেগিতা করতে হবে সরকারকে।
দৈনিক আমাদের নতুন সময়ের সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচন নিয়ে বিশ্লেষণ করার কোনো দরকারই ছিলো না। কারণ আওয়ামী লীগ বা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কখনোই বলেননি যে, এটা একটা ভালো নির্বাচন ছিলো। কেউ একটা স্টেটমেন্ট দেখাতে পারবেন না, যেখানে তারা ২০১৪ সালের নির্বাচনের ক্রেডিট নিয়েছেন। আবার আমরা তুলনা করে বলি, ২০১৪-র মতো আরেকটা নির্বাচন যেনো না হয়। এটাতো আরেকটা ডেঞ্জারাস বিষয়। ২০১৪ সালের ওটা কোনো নির্বাচন না। সুতরাং এটা দ্বারা আমরা কি ভালো কিছু আশা করি?
তিনি বলেন, বাংলাদেশ নির্বাচন নিয়ে আহামরি কোনো সমস্যায় আছে বলে আমি মনে করি না। আমার মনে হয় শেখ হাসিনা ও ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনের পরেও গণতান্ত্রিকভাবে এগিয়ে যাবে।
ব্যারিস্টার এম আমির-উল ইসলাম বলেন, পুলিশ প্রশাসন থেকে শুরু করে সব ধরনের প্রশাসন রাজনৈতিক দলের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। আমাদের এখানে আইনের শাসন অনুপস্থিত। তিনি বলেন, পত্রিকায় দেখেছি সিইসি কালকে নাকি পুলিশকে বলেছেন, আপনার সম্ভাব্য প্রিজাইডিং অফিসারদের তথ্য সংগ্রহ করার জন্য তাদের বাড়িতে বাড়িতে কেন যাচ্ছেন? যা করবেন চুপচাপ করবেন। তাহলে কারা প্রিজাইডিং অফিসার হবে এবং হবে না সেটাও ওখানে সিদ্ধান্ত হচ্ছে? ইভিএমের বিষয়ে তিনি বলেন, ইভিএম কি জিনিস আমি তো বুঝি না। ইভিএমের ডেমো করা হচ্ছে, এটা বিরাট প্রমোশন, আমি কোম্পানিটার নাম জানতে চাই।
সুশাসনের জন্য নাগরিকÑ সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন করা নির্বাচন কমিশনের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ। আমরা জেনুইন একটি ইলেকশন চাই।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম হাফিজউদ্দিন খান বলেন, আমরা সুষ্ঠু নির্বাচন চাই। এই নির্বাচনে ইভিএম নিয়েও আলোচনা চলছে। তবে ইভিএম ব্যবহার করার মতো মানুষের মধ্যে এখনও সচেতনতা আসেনি।
সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজের (সিজিএস) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আতাউর রহমান এই সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন। সঞ্চালনা করেন সিজিএস-এর নির্বাহী পরিচালক জিল্লুর রহমান। অন্যান্যের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, অধ্যাপক আবুল কাশেন ফজলুল হক, বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য জহিরউদ্দিন স্বপন প্রমুখ। সম্পাদনা : মাহবুব আলম ও সালেহ্ বিপ্লব
News Courtesy: www.http://amadernotunshomoy.com