কোভিডের ক্ষতি থেকে পুরোপুরি মোকাবেলা করে উঠতে পারার আগেই সাম্প্রতিক রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ডলারের ঊর্ধ্বগতির কারণে বর্তমানে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা খুবই কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। এ ছাড়া মাত্রাতিরিক্ত আয়কর এবং ভ্যাট প্রদান করে ব্যবসা চালানো ও নিজের লাভের মধ্যে ব্যবধান খুবই কম থাকছে বলেও জানিয়েছেন তারা।
গতকাল ঢাকার হলিডে ইন হোটেলে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) এবং যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট এন্টারপ্রাইজ (সিআইপিই)-এর সহযোগিতায় আয়োজিত এক আলোচনা সভায় উদ্যোক্তারা এ অভিমত ব্যক্ত করেন। ঢাকা ও ময়মনসিংহের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতের উদ্যোক্তারা কোভিড-১৯ মহামারীর সময় এই অঞ্চলে অভিযোজিত কৌশল বাস্তবায়নের মাধ্যমে তাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ ও প্রতিবন্ধকতা নিয়ে সভায় আলোচনা করেন। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা দেশব্যাপী অর্থনৈতিক স্থিতিস্থাপকতা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের সঙ্কটের জন্য আরো ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে বিভিন্ন অংশীজনের কীভাবে একসাথে কাজ করতে পারে সে সম্পর্কে মূল সুপারিশগুলো তুলে ধরেন।
আলোচনায় সরকারি পর্যায়ে প্রণোদনা প্রদানের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সমস্যার কথা উঠে আসে, যার মধ্যে প্রণোদনা সম্পর্কে উদ্যোক্তাদের অজ্ঞতা এবং সরকার থেকে এই ব্যপারে যথেষ্ট প্রচারণার অভাব পরিলিক্ষিত হয়। এই ব্যাপারে সমালোচনা করে ফেসবুকে পোস্ট দেয়ায় তা নিয়ে উদ্যোক্তাদের স্থানীয় নেতাদের থেকে হয়রানির মুখে পড়েছেন বলে জানান। এ ছাড়া কাঁচামালের সঙ্কট এবং মূল্যবৃদ্ধি উদ্যোক্তাদের প্রতিবন্ধকতার আরেকটি প্রধান কারণ ছিল।
আলোচনা সভায় ব্যাংক ঋণ প্রাপ্তির অসুবিধার কথাও উঠে এসেছে। ব্যাংক ঋণ গ্রহণের অন্যতম মূল অসুবিধা হলো জামিন্দার হিসেবে সরকারি কর্মকর্তা থাকার আবশ্যকতা যা সব ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার জন্য সম্ভব নয়। যেসব অনলাইন উদ্যোক্তারা ফেসবুক পেজের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনা করে তাদের জন্য পেজ বুস্টিং-এর ক্ষেত্রে ডলারে ভ্যাট পেমেন্ট করতে হয় যা বেশির ভাগ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য অসম্ভব। এই ক্ষেত্রে দেশীয় মোবাইল ব্যাংকিং প্ল্যাটফর্ম নগদ বা বিকাশে ভ্যাট দেয়ার ব্যবস্থা করা হলে তাদের জন্য সুবিধাজনক।
এসব সমস্যার সমাধান হিসেবে অনেক সুপারিশও আলোচনার মাধ্যমে উঠে আসে। ব্যাংক লোনের সমস্যার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন হেলাল বলেন, ব্যাংকের দানবীয় আইনগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে হবে, কথা বলতে হবে, একত্র হতে হবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে পরামর্শ হিসেবে বলা হয় যাতে ব্যবসায়ের কিছু মূলধন বা সঞ্চয় আলাদা করে রাখা হয় যাতে করে ভবিষ্যতের সঙ্কটে তা ব্যবহার করে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়। অনলাইনে ব্যবসা পরিচালনার ব্যাপারে ব্যবসায়ী নেতা শাহেদুল ইসলাম হেলাল বলেন, করোনার সময় থেকে ব্যবসা অনলাইনে গিয়েছে, ফেসবুকে গিয়েছে, ইউটিউবে গিয়েছে। আরো ক্রেতা খুঁজে আনতে প্রতি ব্যবসাকে ইন্সটাগ্রামের মতো অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও নিয়ে আসতে হবে। তিনি ব্যবসার প্রোডাক্টের বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে ভালো কনটেন্ট রাইটার রাখার এবং প্রফিট ক্যালকুলেশন শেখার পরামর্শ দেন। এ ছাড়া তিনি আরো বলেন, অনলাইন ব্যবসার ক্ষেত্রে ক্রেতার প্রশ্নের দ্রুত রেসপন্স এবং দ্রুত ডেলিভারি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। উদ্যোক্তাগোষ্ঠীর উদ্দেশ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, লাইফস্টাইল পরিবর্তনমূলক শিক্ষা দিতে হবে, কোনো কাজকে ছোট করে দেখা যাবে না। উদ্যোক্তাদের স্থিতিস্থাপকতা ও উদ্ভাবনী প্রশংসা করেন আলোচনা সভার চেয়ারম্যান ড. মঞ্জুর আহমেদ চৌধুরী। তিনি বলেন, যারা প্রযুক্তির সাথে খাপ খেয়ে অনলাইন ব্যবসা করতে পেরেছেন এবং টিকে আছেন তারাই ভালো আছেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) এর নির্বাহী পরিচালক জিল্লুর রহমান।
News Courtesy:


